kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতিসংঘের ধিক্কারকে গ্রাহ্য করে না পাকিস্তান

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:৩৭



জাতিসংঘের ধিক্কারকে গ্রাহ্য করে না পাকিস্তান

গত বছরের শেষে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ভাইজির বিয়েতে লাহোরে সারপ্রাইজ ভিজিট সেরেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আফগানিস্তান সফর শেষে দেশে না ফিরে সেদিন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বিমানের অভিমুখ ছিল পাকিস্তান।

যা নিয়ে গোটা দেশে রাজনীতির পাশাপাশি শোরগোল পড়ে যায় কূটনীতিক মহলেও। দিল্লির যুক্তি ছিল, পাকিস্তানকে ভারত যে শত্রু দেশ মনে করে না, মূলত সেই বার্তা দিতেই প্রধানমন্ত্রীর এই সৌজন্য সফর। কিন্তু সরকারি এই যুক্তিতে মন ভেজেনি বিরোধীদের। বরং তাদের প্রশ্ন ছিল, দিনের পর দিন কাশ্মীরে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতির মধ্যে কী করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সৌজন্য সফর করলেন? কেউ কেউ এমনও প্রশ্ন তুলেছিলেন, আগ্রায় পারভেজ মোশারফকে নিমন্ত্রণ করে এনে যেচে অপমানিত হওয়া এবং লাহোর বাসযাত্রার পর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মোদিজি ভুলে গেলেন কী করে?

এর পর যুক্তি আর পাল্টা যুক্তির মধ্যে নতুন বছরের শুরুতে জোর ধাক্কা খায় ভারত। এ বছরের দোসরা জানুয়ারি পাঠানকোটের বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় চার জঙ্গি। এর পিছনে পাকিস্তানের মদত যে স্পষ্ট পরবর্তীকালের তদন্তে তা জানতে পারে এনআইএ। পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয় সমস্ত নথিও। যা নিয়ে নিজ দেশে সংসদ ভবনেই বিরোধীদের চাপে পড়ে যায় নওয়াজ শরিফের সরকার। তা সত্ত্বেও একই বছরের মধ্যে ফের আরও একটি হামলা। এবার জঙ্গিদের নিশানায় কাশ্মীরের উরি সেনাঘাঁটি। প্রাথমিক তদন্তে এই কাজ পাক মদতপুষ্ট জয়েশ জঙ্গিদের বলেই প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

ভারতে এখন এই প্রশ্নই বার বার উঠছে, দফায় দফায় হামলা চালিয়েও কেন পার পেয়ে যাবে পাকিস্তান? কেনই বা ভারত মোক্ষ জবাব দেবে না? এহেন পরিস্থিতিতে ভারতের অধিকাংশ সংবাদ মাধ্যমে একটা যুদ্ধ-যুদ্ধ ভাব শুরু হয়েছে। দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর তিন প্রধানের সঙ্গে গোপনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বৈঠকের পর রণং দেহি মেজাজ আরও জোরদার হয়েছে। দেশজুড়ে এখন এমন একটা হাওয়া, যুদ্ধ লাগল বলে।

ভারতের কাছে পাকিস্তানের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ হল চিন। উরির ঘটনার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রীতিমতো প্রেস বিবৃতি দিয়ে ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে জি জিনপিংয়ের নেতৃত্বাধীন কমিউনিস্ট সরকার। কোনও অবস্থাতেই পাকিস্তানের সঙ্গে তাঁর দেশ যে সম্পর্ক খারাপ করবে না তাও জানিয়েছে চীনা প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। শুধু তাই নয় কাশ্মীর ইস্যুতেও ইসলামাবাদ-রাওয়ালপিন্ডির সুরই বাজছে বেইজিংয়ের গলায়।

উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার বহু আগে থেকেই পাকিস্তানকে সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের যাবতীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছে ইন্দোনেশিয়াও। আবার ভারতের পাশাপাশি পাকিস্তানের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে যে তারা বদ্ধপরিকর সে কথা জানিয়েছে মাওবাদী প্রচণ্ডর নেপাল সরকার। এদিকে কাশ্মীর ইস্যুতে চীনের পাশাপাশি পাকিস্তান পাশে পেয়েছে তুরস্ককে। আঙ্কারার দাবি, ভারতই অনৈতিকভাবে কাশ্মীর দখল করে রেখেছে। আবার উরিতে সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দা করলেও মার্কিন প্রশাসনের তরফে কখনই সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেওয়া হয়নি।

 


মন্তব্য