kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মীর ভুলে হ্যাকিং টুল বেহাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:০৩



কর্মীর ভুলে হ্যাকিং টুল বেহাত হয় যুক্তরাষ্ট্রের

অসতর্ক হয়ে কোনো এক কর্মী দূরবর্তী এক কম্পিউটারে হ্যাকিং টুল দিয়ে দিয়েছিল আর পরে রুশ হ্যাকাররা তা খুঁজে পায়। মার্কিন রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএ-এর ব্যবহৃত হ্যাকিং টুল ফাঁস হওয়ার ঘটনা তদন্তের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত চারজন জানিয়েছে রয়টার্স-কে।


এই টুলগুলো সিসকো সিস্টেমস আর ফোর্টিনেট ইনকর্পোরেটেড-এর মতো বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলোর কম্পিউটার আর যোগাযোগ ব্যবস্থায় থাকা সফটওয়্যার ত্রুটি কাজে লাগাতে হ্যাকারদের সুযোগ করে দেয়। চলতি বছর জুলাইয়ে নিজেদের 'শ্যাডো ব্রোকারস' নামে ডাকা একটি দল বিভিন্ন পাবলিক ওয়েবসাইটে এই টুলগুলো প্রকাশ করে দেয়।
৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন-কে সামনে রেখে রাশিয়া বা এর প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দলগুলোর সংগঠনগুলোকে হ্যাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে, মার্কিন সরকার যখন এমন দাবি করে যাচ্ছে ঠিক তখনই এই টুলগুলো প্রকাশ পেল। এই খবর প্রকাশের আগের বৃহস্পতিবার রাশিয়াকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করে মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
এই টুলগুলো কীভাবে বেহাত হল তা নিয়ে ওয়াশিংটনের কর্মকর্তারা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে বেড়াচ্ছেন। কারও আশংকা সাবেক এনএসএ ঠিকাদার এডওয়ার্ড স্নোডেন-এর মতো কোনো তথ্য ফাঁসকারী এ কাজ করেছেন, আবার কারও কারও মতে রাশিয়া হয়তো এনএসএ'র প্রধান কার্যালয় হ্যাক করেছে।
কিন্তু কর্মকর্তারা এ নিয়ে চলমান এফবিআই'র তদন্তে দুটি বিষয়ই মাথায় রাখছেন বলে ওই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।  
অন্যদিকে, তিন বছর আগে এক কর্মী বা ঠিকাদার ওই টুলগুলো ব্যবহার করে কাজ করার সময় একটি ভুল করে ফেলেন আর এ ঘটনা ঘটে- এনএসএ কর্মকর্তারা তদন্তকারীদের এমনটাই জানিয়েছেন বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।
এনএসএ'র ভাষ্য, ওই ব্যক্তি এই ভুল করার কিছুক্ষণ পর তা বুঝতে পারে। কিন্তু ওই টুল ফাঁসের কথা প্রথম জানতে পারার পর সংস্থাটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বিষয়ে জানায়নি, খবর রয়টার্স-এর ওই সূত্রের। ওই টুলগুলো প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটি তাদের রক্ষা করতে সিস্টেমে বিভিন্ন সমাধান নিয়ে আসে।
সাবেক ওই এনএসএ কর্মীর এমন কাণ্ড ঘটানোর বিষয়টি উড়িয়ে দেননি তদন্তকারীরা, তবে ওই কর্মী পরবর্তীতে অন্য কারণে সংস্থাটি ছেড়ে চলে যান। ওই চার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির দুইজনের মতে, আরেকটি ঘটনা ঘটতে পারে তা হচ্ছে- এনএসএ'র প্রধান কার্যালয়ে বা দূরবর্তী স্থানে একাধিক ব্যক্তি এই একই ধরনের ভুল করে বা এক অন্যের ভুলধাপগুলোই একত্র করে।
এনএসএ, এফবিআই আর ডিরেক্টর অফ ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা এ নিয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।  
এই টুল ফাঁসের বিষয় জানতে পারার পর এনএসএ অন্যদলগুলোর এমন টুল ব্যবহার শনাক্তে সেন্সর চালু করে। এক্ষেত্রে চীন আর রাশিয়ার মতো শক্তিশালী সাইবার গুপ্তচরবৃত্তি কার্যক্রম রয়েছে এমন বৈদিশিক প্রতিপক্ষকে বিশেষভাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য