kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাতিসংঘে বক্তৃতায় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান মাহমুদ আব্বাসের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:৩১



জাতিসংঘে বক্তৃতায় ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অবসানের আহ্বান মাহমুদ আব্বাসের

ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান না করা পর্যন্ত অঞ্চলটি থেকে সন্ত্রাসবাদ ও উগ্রপন্থা নির্মূল করা এবং সেখানে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা যাবে না বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য পূরণ করতে চাইলে আগে ফিলিস্তিনি জনগণের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

সেই সঙ্গে ফিলিস্তিন ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারিত্ব অবসানের জন্য ২০১৭ সালকে আন্তর্জাতিক বর্ষ ঘোষণা করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আব্বাস। বৃহস্পতিবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এসব আহ্বান জানান তিনি।

সত্যিকার অর্থে শান্তি প্রতিষ্ঠা চান এমন এক নেতা ইসরায়েল পাবে এমন আশা রেখে আব্বাস বলেন, "শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা আমাদের হাত বাড়িয়ে রেখেছি। তবে প্রশ্ন হলো সত্যিকার অর্থে শান্তি চান এমন নেতা ইসরায়েলে আসবেন কিনা; যিনি কর্তৃত্ব ও সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ছেড়ে আমাদের জনগণের অধিকারকে স্বীকৃতি দেবেন এবং ঐতিহাসিক এ অবিচারের সমাপ্তি টানবেন। "

শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অস্থায়ী সমাধান মেনে নেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন আব্বাস। তিনি বলেন, "১৯৯৩ সালের অসলো চুক্তি অনুযায়ী পাঁচ বছরের মধ্যে দখলদারিত্বের অবসান এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বাধীনতা অর্জনের কথা ছিল। কিন্তু ইসরায়েল চুক্তির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে এবং তাদের দখলদারিত্ব ও অবৈধ বসতি স্থাপন বিস্তৃত করে যাচ্ছে। "

আব্বাস বলেন, "আমাদের সঙ্গে ইহুদিদের কোনো সংঘাত নেই। আমাদের সংঘাত ইসরায়েলি দখলদারিত্বের সঙ্গে। আমরা ইহুদি ধর্মকে সম্মান করি এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ইউরোপে ইহুদিদের ওপর যে নির্যাতন হয়েছে তার নিন্দা জানাই আমরা এবং একে মানবতার বিরুদ্ধে ঘৃণ্য অপরাধ বলে মনে করি। "

এর আগে একই অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মাহমুদ আব্বাসকে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এসে কথা বলার আহ্বান জানান। ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের কাছে সমাধান না চেয়ে দুই দেশের মধ্যে সরাসরি আলোচনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

জাতিসংঘের অধিবেশনে রাখা বক্তব্যে আব্বাসের উদ্দেশে নেতানিয়াহু বলেন, "জেরুজালেমে এসে নেসেটে দাঁড়িয়ে ইসরায়েলের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন। একইভাবে আমিও রামাল্লায় গিয়ে ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টে কথা বলতে আগ্রহী। জেরুজালেম আর রামাল্লার পথ ধরে আসবে শান্তি। নিউ ইয়র্কে নয়। " 

একই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংকট নিরসনে জাতিসংঘের কাছ থেকে আসা কোনো একপাক্ষিক সমাধান-পরিকল্পনায় ইসরায়েল কোনো সায় দেবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, "জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ইসরায়েলের ওপর কোনো নীতিমালা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না। "

 


মন্তব্য