kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বুরহান ‘‌সংগ্রামের মুখ’! জাতিসংঘে নওয়াজ শরিফ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৩৬



বুরহান ‘‌সংগ্রামের মুখ’! জাতিসংঘে নওয়াজ শরিফ

সন্ত্রাসে মদদ দেয়ার অভিযোগে আন্তর্জাতিক মহলে মুখ পুড়েছে তার সরকারের। তবে তাতে বিশেষ হেলদোল নেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের।

সন্ত্রাস দমনে উদ্যোগী হওয়ার বদলে জাতিসংঘের সাধারণ সভায় দাঁড়িয়ে কাশ্মীর প্রসঙ্গকেই তুলে ধরা উচিত মনে করলেন তিনি। হিজবুল মুজাহিদিন সদস্য বুরহান ওয়ানিকে কাশ্মীরের ‘‌সংগ্রামের মুখ’‌ তকমা দিয়ে সরাসরি ভারতকেই নিশানা করলেন। কাশ্মীর নিয়ে বরাবরই সুর চড়িয়েছে তাঁর সরকার। তবে জুলাই মাসে সেনার সঙ্গে সংঘর্ষে বুরহানের মৃত্যুর পর নতুন উদ্যোগে মাঠে নেমেছে তারা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ আনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তারা। তবে উরির জঙ্গি হামলার পর পরিস্থিতি একটু বদলায়। হামলার জন্য সরাসরি পাকিস্তানকেই দায়ী করেছে ভারত। হাই কমিশনার আব্দুল বসিতকে ডেকে সমস্ত তথ্য প্রমাণ হাতে তুলে দেওয়া ছাড়াও, পাকিস্তানকে সন্ত্রাসী দেশ বলে চিহ্নিত করার প্রস্তুতি চলছে। এব্যাপারে রাশিয়া, আফগানিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন আদায় করতে পেরেছে ভারত। এমন অবস্থায় উরি প্রসঙ্গ সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়াই যুক্তিযুক্ত মনে করেছেন শরিফ। বুরহানকে ‘‌সংগ্রামের মুখ’‌ এবং ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মীরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেই ভাষণ শেষ করেন তিনি। শরিফের মন্তব্যের ঘোর সমালোচনা করেছেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ। শরিফের বক্তব্য শোনার পর টুইট করে বলেন, ‘বুরহানকে মহিমান্বিত করে ভালই করেছেন শরিফ। সন্ত্রাসের সঙ্গে নিজেদের যোগসূত্রটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন। ’‌ জাতিসংঘে ভারতের সচিব এনাম গম্ভীর বলেছেন, ‘‌সবথেকে বড় মানবাধিকার লঙ্ঘন হল সন্ত্রাসবাদ। সেটিই যখন কোনো দেশের রাষ্ট্রীয় নীতি হয়ে দাঁড়ায় তখন তাকে যুদ্ধাপরাধ বলা হয়। পাকিস্তান সন্ত্রাসে মদদ দেয়, ভারতসহ বাকি প্রতিবেশি দেশগুলিই একথা জানে। কারণ তারা ভুক্তভোগী। তাই লড়াই এখন আর শুধু ভারতের নয়। ’‌ ৯/‌১১ হামলার মূল চক্রী ওসামা বিন লাদেনও পাকিস্তানেই ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল। সেই কথা টেনে গম্ভীর বলেন, ‘‌পাকিস্তানের মাটিতে অবাধে ঘুরে বেড়াতে পারে জঙ্গিরা। সন্ত্রাসবাদকে টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে প্রচুর অর্থনৈতিক সাহায্য আসে ইসলামাবাদের কাছে। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রের জোগান মেটাতে যা কাজে লাগে। নাহলে জাতিসংঘে দাঁড়িয়ে বুরহান ওয়ানির মতো একজনের হয়ে গলা চড়াতে পারতেন না নওয়াজ শরিফ। বুরহান, যে কী না নিজেকে হিজবুল মুজাহিদিন সদস্য বলে ঘোষণা করেছে। ’‌ এতদিন দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন হওয়া উচিত বলে গলা চড়ালেও, জাতিসংঘে শরিফের ভাষণের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় কংগ্রেসের শশী থারুর। বলেন, ‘‌হতাশ করেছেন নওয়াজ শরিফ। বিশ্বাস হচ্ছে না এই মানুষটাই জন্মদিনে মোদিকে অভ্যর্থনা জানিয়েছিলেন। একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বুরহান ওয়ানিকে মহিমান্বিত করলেন কীভাবে?‌ এরপর কেউ ওদের পাশে দাঁড়াবে না। সমবেদনা জানাবে না। সবাই জানে ভারতে জঙ্গি পাঠায় ইসলামাবাদ। তাই আর কথায় গিয়ে কাজ নেই। কড়া পদক্ষেপ নিতে হবে। ’‌ রবিবারের উরি জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাক যোগ ছিল বলে প্রথম থেকেই দাবি করেছে ভারত। পাক হাই কমিশনার আব্দুল বাসিতকে ডেকে হাতে প্রমাণও তুলে দিয়েছেন। কিন্তু এতে নাকি আদৌ কোনো লাভ হবে না। দাবি, পাকিস্তানে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পবন বর্মার। পাকিস্তানকে একঘরে করা ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই বলে সাফ জানিয়েছেন তিনি।  

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য