kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পায়রারা পড়তেও পারে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩



পায়রারা পড়তেও পারে?

উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা। সূর্যের উজ্জ্বল রৌদ্রে চঞ্চল পাখনায় ওড়ার বদলে মেতেছে পড়াশোনায়! বই খুলে দিব্যি অভ্যাস করে চলেছে হরফ চেনা! তাদের গলার আওয়াজে কান পাতলে বকম বকম ভেদ করে শোনা যাচ্ছে এ, বি, সি, ডি!

হঠাৎ যদি এমন একটা দৃশ্য চোখে পড়ে, তবে কি আপনি চমকে উঠবেন?

চমকে ওঠারই কথা! তাই মনকে প্রস্তুত করে নিন আগেভাগেই! কেন না, সাম্প্রতিক এক বিদেশি সমীক্ষা বলছে, পায়রারা না কি একটু-আধটু পড়তেও পারে।

আর, তাদের এই পড়াশোনার সূত্রেই খুলতে চলেছে মানুষের ভাষাতত্ত্বের এক যুগান্তকারী অধ্যায়।

গবেষকরা দাবি করেছেন, পায়রাদের এই অক্ষর চেনার ক্ষমতা থেকেই জানা যাবে মানুষের পৃথিবীতে কী ভাবে অক্ষরজ্ঞান এল!

কিন্তু তার আগে পায়রাদের এই অক্ষর পড়তে পারার ক্ষমতায় কিঞ্চিৎ আলোকপাত করা দরকার! আপনি যদি ভেবে থাকেন পায়রারা গড়গড়িয়ে পাতার পর পাতা পড়ে চলেছে, তাহলে কিন্তু ভুল করবেন! ১৮টি বুদ্ধিমান পাখিদের নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে পায়রাদের হরফ চেনানো সম্ভব। অন্য পাখিরা না পারলেও পায়রারা বেশ তাড়াতাড়িই অক্ষরজ্ঞান রপ্ত করে নেয়।

গবেষকরা বলছেন, এই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পায়রারা না কি ভুল বানানও ধরতে পেরেছে! যেমন, তারা ‘very’ আর ‘vrey’র মধ্যে থেকে চিনে নিতে পেরেছে সঠিক বানানটা! প্রশিক্ষণের শেষে তারা ২৬টা থেকে ৫৮টা পর্যন্ত বানান শিখে নিতে পেরেছে! তাও সঠিক অর্থসহ!

প্রশ্ন উঠতেই পারে, কীভাবে পায়রারা আয়ত্ত করতে পারছে মানুষের ভাষা?

গবেষকরা বলছেন, এর কারণ লুকিয়ে আছে ভাষার ইতিহাসে। অনেক ভাষাতত্ত্ববিদ বলে থাকেন, আদিম মানুষ ভাব আদান-প্রদানের জন্য ব্যবহার করত এক রকমের সঙ্কেত যা পরে অক্ষরে রূপান্তরিত হয়। সেই সব সঙ্কেতের অর্থও না কি ছিল সর্বজনীন! তাই মানুষ না হলেও পায়রাদের অক্ষর চিনতে এবং শব্দের মানে বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে না!

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


মন্তব্য