kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাষ্ট্রের দলিতপ্রেম! খরচ হয়নি উন্নয়নের প্রায় ৩ লাখ কোটি রুপি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০২



রাষ্ট্রের দলিতপ্রেম! খরচ হয়নি উন্নয়নের প্রায় ৩ লাখ কোটি রুপি

২৮,০০০,০০০,০০০,০০০ রুপি। চমকে উঠবেন না, গত ৩৫ বছরে দেশের তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের উন্নয়ন খাতে জমা হওয়া এই রুপি এখনও খরচ করা যায়নি।

গত ৩৫ বছরে খরচ করা যায়নি তফশিলি জাতি ও উপজাতি উন্নয়ন খাতে জমা হওয়া বিপুল পরিমাণ অর্থ। মিড-ডে মিল, বৃত্তি ও ফসল বিমা বাবদ এই অর্থ ব্যয় করার কথা থাকলেও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে প্রশাসন। সম্প্রতি তথ্য জানার অধিকার সংক্রান্ত আইনে দায়ের করা এক মামলায় পাওয়া গেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আদালতের নির্দেশে ইন্ডিয়াস্পেন্ড প্রকাশিত তদন্ত রিপোর্টে পাওয়া তথ্যে সিলমোহর দিয়েছে তহবিল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা নীতি আয়োগ। তবে সংস্থার সিইও অমিতাভ কান্ত এই বিষয়ে জানিয়েছেন, 'আমরা শুধুমাত্র তহবিল নজরদারির দায়িত্ব পালন করি, তা খরচ করার ব্যবস্থা করে রাজ্য ও তাদের মন্ত্রীরা। তবে এবার আমরা নজরদারির পরিধি বাড়াব এবং সেই ব্যাপারে বর্তমান সরকার পদক্ষেপ করছে। '

পরিসংখ্যান বলছে, নির্দিষ্ট সময়কালে খরচ করতে না পেরে ফিরিয়ে দেয়া তহবিলের অর্থের পরিমাণ কেন্দ্রীয় কৃষি বাজেটের আট গুণেরও বেশি। শুধু তাই নয়, এই অর্থ কাজে লাগিয়ে আগামী ১৫ বছরে দেশের গ্রামীণ সড়ক প্রকল্প খাতের খরচ মেটানো যায়। অব্যবহৃত এই তহবিলের অর্থ দেশের ২৫ কোটি তফশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্তদের মধ্যে বণ্টন করা হলে জনপ্রতি ১১,২৮৯ টাকা করে পাওয়া যাবে।

খরচ না হওয়া মোট ২.৮ লক্ষ কোটি টাকা মূলত দু'টি খাতের তহবিল বাবদ জমা হয়েছে। এই দু'টি প্রকল্প হল ১৯৭৪-৭৫ অর্থবর্ষে চালু হওয়া ট্রাইবাল সাব প্ল্যান (টিএঐসপি) এবং ১৯৭৯-৮০ অর্থবর্ষে চালু হওয়া শিডিউল্ড কাস্ট সাব প্ল্যান (এসসিএসপি)। নিয়ম অনুসারে, কেন্দ্রীয় বাজেটের একাংশ যা জাতীয় ও রাজ্যস্তরে তফশিলি জাতি ও উপজাতি জনসংখ্যার সমানুপাতিক প্রান্তিক নাগরিকদের উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ হয়। বর্তমান হিসেবে দেশের মোট জনসংখ্যার ১৬.৬% তফশিলি জাতি এবং ৮.৬% তফশিলি উপজাতি সম্প্রদায়ভুক্ত। এই কারণে বাজেটের ১৬.৬% এবং ৮.৬% অর্থ এসসিএসপি ও টিএসপি খাতে বরাদ্দ হওয়ার কথা। এই হিসেব জাতীয় ও রাজ্য, দুই স্তরেই প্রযোজ্য। শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের প্রতিটি মন্ত্রক তাদের বরাদ্দ বাজেট অর্থ থেকে একই হারে টাকা সরিয়ে রাখতে বাধ্য।

২০০৬ ও ২০১৪ সালে জাতীয় প্ল্যানিং কমিশন অধুনা নীতি আয়োগ নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী, এই অর্থ তামাদি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কিন্তু বাজেট অর্থের চেয়ে উন্নয়ন খাতে খরচ কম হওয়ার দরুণ প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্যই পঙ্গু হয়ে গেছে। হিসেব বলছে, দলমত নির্বিশেষে তফশিলি জাতি ও উপজাতি কেন্দ্রীয় নীতি থেকে কখনোই উপকৃত হননি। খতিয়ান অনুযায়ী, এসসিএসপি তহবিলের টাকা ফেরত দেয়ার তালিকার ওপরের দিকে রয়েছে অন্ধ্রপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ ও পাঞ্জাব। আবার টিএসপি তহবিল ফেরানোর ব্যাপারে এগিয়ে ঝাড়খণ্ড, ওডিশা ও অন্ধ্রপ্রদেশ।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য