kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শরীরে ৪টি গুলি, গ্রেনেডে আহত পা নিয়েও ২ শিশুর প্রাণরক্ষা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪০



শরীরে ৪টি গুলি, গ্রেনেডে আহত পা নিয়েও ২ শিশুর প্রাণরক্ষা!

২৫ জানুয়ারি, ১৯৯৪। লাগাতার সশস্ত্র জঙ্গি আন্দোলনে মণিপুর তখন ক্ষতবিক্ষত।

 কর্নেল পিল্লাই তখন ভারতীয় সেনাবাহিনী ক্যাপ্টেন। মণিপুর ছিল তার কর্মস্থল। সেই উত্তপ্ত অবস্থাতেই সাধারণ মানুষকে সুরক্ষিত রাখার কাজে নিয়োজিত ছিলেন পিল্লাই আর তার সঙ্গী জওয়ানরা।  

১৯৯৪-এর ২৫ জানুয়ারি সেনা ছাউনিতে খবর আসে, জঙ্গিরা আক্রমণ হেনেছে আদিবাসী অধ্যুষিত তামেংলং গ্রামে। দলবল নিয়ে পিল্লাই গ্রামে পৌঁছন। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ গুলির লড়াই চলার পর কয়েকজন জঙ্গি গ্রামের একটি বাড়িতে ঢুকে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পিল্লাই একাই এগিয়ে যান সেদিকে। বাইরে থেকে জঙ্গিদের আত্মসমর্পণ করার আহ্বান জানান। জঙ্গিদের দিক থেকে কোনও উত্তর না পেয়ে ঘরের ভিতরে ঢোকার সিদ্ধান্ত নেন ক্যাপ্টেন। কিন্তু লাথি মেরে দরজাটি খুলতেই গুলিবৃষ্টি শুরু হয় তার উপর। প্রথম গুলিটি লাগে তার কাঁধে। মুহূর্তের মধ্যে আরও তিনটি গুলি ঢুকে যায় তার দেহে।

তারপর তার দিকে গড়িয়ে আসে একটি হ্যান্ড গ্রেনেড। ক্যাপ্টেন পিল্লাই বোমাটিকে লাথি মেরে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু বোমাটি ফেটে যায়, সেইসঙ্গে উড়ে যায় ক্যাপ্টেনের পায়ের একটি অংশও। কিন্তু পিল্লাই হার মানার পাত্র নন। তিনি ওই অবস্থাতেও লড়াই চালিয়ে যেতে থাকেন। শেষ পর্যন্ত শত্রুপক্ষ পরাস্ত হয়। কিন্তু বিধ্বস্ত শরীরে ক্যাপ্টেন পিল্লাই দেখতে পান, এক অন্য লড়াই এখনও বাকি রয়েছে। তার নজরে আসে ঘরের ভিতরে পড়ে রয়েছে দুটি গুলিবিদ্ধ শিশু। গুরুতর জখম হলেও তাদের শরীরে এখনও প্রাণ রয়েছে। ক্যাপ্টেন পিল্লাই সঙ্গে সঙ্গে সংকল্প নেন, তিনি নিজে বাঁচুন, না-বাঁচুন, শিশু দুটিকে বাঁচাবেনই।

কিছুক্ষণের মধ্যে ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় সেনাবাহিনীর উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার। সব আহতদের তোলার পর দেখা যায়, আর একজনের মতো জায়গা রয়েছে হেলিকপ্টারে। সেনাকর্মীরা ক্যাপ্টেন পিল্লাইকে তুলে নিতে যান। কিন্তু পিল্লাই বাধা দিয়ে বলেন, তাকে হেলিকপ্টারে তুলতে হলে আহত শিশু দুটিকেও তুলতে হবে। সেনাকর্মীরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেন, আহতদের হাসাপাতালে পৌঁছে ফের উড়ে আসবে হেলিকপ্টার। তখনই উদ্ধার করা হবে শিশু দুটিকে। কিন্তু ক্যাপ্টেন পিল্লাই তার বক্তব্যে অটল। তার ভয়, শিশুদুটিকে নিতে যদি দেরি হয়ে যায়! তাই তিনি জেদ ধরে থেকে গেলেন আহত দুই শিশুর সঙ্গে।

আহতদের নামিয়ে হাসপাতাল থেকে দ্রুতই ফিরে এলো হেলিকপ্টার। দুটি শিশুর সঙ্গে তোলা হল ক্যাপ্টেন পিল্লাইকেও। নিকটতম হাসপাতালের দূরত্বও কম নয়। হেলিকপ্টারেও যথেষ্ট সময় লাগবে সেখানে পৌঁছতে। পিল্লাই বুঝতে পারেন, তিনি বড়জোর আর মিনিট পাঁচেক বাঁচবেন। তিনি শান্ত গলায় হেলিকপ্টার চালককে বলেন, আমার জন্য চিন্তা করো না। শুধু দেখো, বাচ্চা দুটি যেন বেঁচে যায়।

কিন্তু ভুল বুঝেছিলেন পিল্লাই। মৃত্যু তাকে গ্রাস করতে পারেনি। হাসপাতালে বেশ কিছুদিন যমে-মানুষে টানাটানির পরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। পুনরায় যোগ দেন সেনাবাহিনীর কাজেও। আজ তিনি ভারতীয় সেনার কর্নেল পদে পদোন্নতি পেয়েছেন।

-এবেলা


মন্তব্য