kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যারা ফেসবুকে চেক ইন দেন, সাবধান হয়ে যান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৫৫



যারা ফেসবুকে চেক ইন দেন, সাবধান হয়ে যান!

ঘটনা ভারতের গোয়ার। একদল 'টেক স্যাভি' তস্করের দল সাতটি রাজ্যের পুলিশকে ফেলে দিয়েছে মহা দুশ্চিন্তায়।

তাদের ফেসবুক প্রীতি সমস্যার মধ্যে ফেলছে ভ্রমণপ্রিয় বাঙালিকেও। বিশেষ করে তাঁদের, যারা একদিনের জন্য মন্দারমণি গেলেও ফেসবুকে বড় বড় করে আপডেট দিতে চান, 'অফ টু মন্দারমণি ফর টোয়েন্টিফোর আওয়ার্স'।

আহ! বেড়াতে গিয়েছে? এই তো সুযোগ।

চুরি করতে যেখানে এক ঘণ্টাই যথেষ্ট, সেখানে ২৪ ঘণ্টা তো সব কিছু সাফ করার জন্য অঢেল সময়। সোশাল নেটওয়ার্কিং সাইট ঘেঁটে শুধু খুঁজে বের করতে হবে সেই ব্যক্তির ঠিকানা, যিনি সপরিবারে বাইরে গিয়েছেন ছুটি কাটাতে।

আপডেট দিয়ে ঘুরতে গেলে সমস্যাটা কী?

দেশটির পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমস্যাটা গোড়ায়। এখন সোশাল নেটওয়ার্কিংয়ের যুগে অতি উৎসাহী আমজনতা কোথাও বেড়াতে যাওয়ার একমাস আগে থেকেই ফেসবুক বা টুইটারে সেই যাত্রার ঘোষণা করে দেন কতদিনের জন্য কোথায় বেড়াতে যাচ্ছেন। আর যাওয়ার সময় এগিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আপডেট দেওয়ার প্রবণতাও বেড়ে যায়। শুধু এতে থামলেও চলত। কিন্তু উৎসাহীরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিমুখে তোলা ছবি আপলোড করতে থাকেন। আর ওই 'আপডেট' দেখেই সেই ব্যক্তির বাড়ি 'সাফ' করার কাজে নামত গোয়ার পানাজিতে ধরা পড়া সেই চোরের দল। যারা কলকাতা-সহ আরও ছয়টি জায়গায় পুরো বাড়ি 'সাফাই'য়ের কাজও করেছে নিপুণতার সঙ্গে।

এই দলের মোডাস অপারেন্ডি কী?

ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, দলটির প্রত্যেক সদস্যর নিজস্ব ফেসবুক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। বিভিন্ন শহরের কয়েক হাজার বাসিন্দা তাদের ফ্রেন্ডলিস্টে রয়েছেন। এই বিরাট চেনের মাধ্যমেই তারা সারা বছর ধরে জানতে পারে কোন শহরের কোথায় কে কোন জায়গায় গিয়েছে। এ বার তাদের কর্মকাণ্ড শুরু হয়। ধরা যাক, এই দলটি ঢাকুরিয়ার কোনও অভিজাত পরিবারের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার হদিশ পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে তারা বাড়ির কোনও সদস্যের প্রোফাইলে গিয়ে দেখবে সেখানে তাঁর ফোন নম্বর দেওয়া আছে কি না। যদি দেওয়া থাকে তবে তাকে ফোন করে কোনও সংস্থার নাম করে বলা হবে, আপনার নামে একটি চিঠি এসেছে। সেটি পৌঁছতে যেতে হবে, কাজেই ঠিকানাটা বলুন। বেড়ানোর মুডে থাকা ওই সদস্য কোনও রকম প্রশ্ন না করেই নিজেদের ঠিকানা বলে দেন। এর পর কাছাকাছি কোনও শহরের দল চলে আসে ওই ঠিকানায়। একদিন ধরে চলে এদের রেইকি করা। এর পর আসল কাজ। চুরি-ডাকাতি করে ওই শহর ছেড়ে ফের অন্য শহরে ডেরা বাঁধা।

পুলিশ জানতে পেরেছে এদের প্ল্যান বি-ও থাকে নিজেদের মগজে পোরা। যেমন, ফোন নম্বর ফেসবুকে না পেলে তারা ওই পরিবারের কোনও সদস্যের ফ্রেন্ডলিস্টে থাকা কাউকে বার্তা পাঠান, ওরা বাইরে গিয়েছেন। কিন্ত্ত আমার প্রয়োজন, তাই ওদের ঠিকানা বা নম্বর দিলে খুশি হব। এ ক্ষেত্রেও কেউ তা সন্দেহের চোখে দেখে না। সহজেই পাওয়া যায় বাড়ির হদিশ। গোয়া পুলিশের বক্তব্য, এই দলটি রীতিমত ফ্লাইটে বা ট্রেনে যাতায়াত করে। এরা নজর রাখে কোন শহরে কখন লোকে বেড়াতে যাওয়া পছন্দ করে। রীতিমতো 'আপডেটেড' এদের ফেসবুক রিসার্চ টিমও। গত কয়েক বছরে প্রায় ১৫টি অপারেশন করেছে এই দলটি। পুলিশের ধারণা, যেখানেই এরা অপারেশন করুক, স্থানীয় দুষ্কৃতীরা সঙ্গ না দিলে বিষয়টি এত মসৃণ ভাবে হত না।

পূজার ঠিক আগে বাঙালির বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতাও চিন্তা বাড়াচ্ছে পুলিশ কর্তাদের। কলকাতার গোয়েন্দা প্রধান জানিয়ে দিয়েছেন, 'বেড়াতে বারণ করছি না। কিন্ত্ত যাওয়ার আগে স্থানীয় থানায় নিজের বাড়ির ঠিকানা জানিয়ে গেলে আমাদের পক্ষে তা সুবিধাজনক হয়। তা ছাড়া যদি এই সব পোস্ট না দেওয়া হয়, তা হলেই ভাল। '

তাই বেড়াতে যান নিশ্চিন্তে।

কিন্ত্ত তার কতটা আপডেট ফেসবুকে বা ইন্টারনেটে দিচ্ছেন? একটু ভেবে দেখুন। এইসময়


মন্তব্য