kalerkantho


কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সদর দপ্তরে হামলা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:২৩



কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর ব্রিগেড সদর দপ্তরে হামলা

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একটি ব্রিগেড সদর দপ্তরে হামলা হয়েছে। লাইন অব কন্ট্রোলের নিকটে এ সামরিক স্থাপনায় অন্তত চার ব্যক্তি হামলায় চালায়।

রবিবার ভোর ৪টার দিকে হামলাকারীরা প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করে। সকাল সাড়ে ৯টার দিকেও বন্দুকযুদ্ধ চলছিল। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর জানিয়েছে। হামলায় আহতদের আকাশপথে ৭০ কিলোমিটার দূরে শ্রীনগরে সেনা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। হতাহতদের বিস্তারিত তথ্যও জানা যায়নি।

ভারতীয় কর্মকর্তাদের ধারণা, হামলাকারীরা ফিদায়েন বা আত্মঘাতী স্কোয়াড হতে পারে। সেনা স্থাপনাটি বারামুল্লা জেলার শ্রীনগর-মুজাফফরাবাদ হাইওয়েতে অবস্থিত। হামলার পর ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সফর স্থগিত করেছেন। আজকেই তার রওনা দেওয়ার কথা ছিল। এর আগে চলতি বছর পাঞ্জাবে পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। সেখানে টানা তিন দিন বন্দুকযুদ্ধের পর সাত জঙ্গি নিহত হয়।

উল্লেখ্য, প্রায় তিন মাস ধরে কাশ্মীরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সর্বশেষ পুলিশের ছোড়া ছররা গুলিতে আহত কিশোরের মৃত্যুকে কেন্দ্র আবারও বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কাশ্মীর। পুলিশের ছররা গুলিতে আহত ১৫ বছরের কিশোর মোমিন আলতাফকে শুক্রবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার তার মৃত্যুর পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শ্রীনগরের হারওয়ানের বাসিন্দারা। তার জানাজা শেষে মানুষ হারওয়ানের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের ফলে হারওয়ানে প্রবেশের সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। জারি করা হয় কারফিউ। বন্ধ করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট। এই বিক্ষোভের আঁচ যাতে অন্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে তার জন্য শ্রীনগরের বেশ কিছু উত্তেজনাপ্রবণ এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।   এ কিশোরের মৃত্যুতে ৮ জুলাই থেকে টানা বিক্ষোভে এ পর্যন্ত প্রায় ৮৩ জনের মৃত্যু হলো।

সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে বড় ধরনের সহিংসতা ও বিক্ষোভ চলছে কাশ্মীরে। এ ব্যাপক বিক্ষোভের শুরু হয় কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হওয়ার পর। ৮ জুলাই কাশ্মীরের অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে তারা নিহত হন। এর পর কাশ্মীরজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ কাশ্মীরিদের দাবি, বুরহানকে ভুয়া এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভের মাত্রা বেড়ে গেলে কাশ্মীরের ১০টি জেলা, এমনকি দূরবর্তী গ্রামেও কারফিউ জারি করা হয়। বিক্ষোভ দেখিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন মানুষ। আর বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালিয়ে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা জারি রাখে নিরাপত্তা বাহিনী। আর তাতে প্রাণ হারায় অন্তত ৬৭ জন। টানা ৫২ দিন পর ২৯ আগস্ট শ্রীনগরের কয়েকটি এলাকা থেকে কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়। যদিও ১৪৪ ধারা জারি থাকে।  

 


মন্তব্য