kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভারতের লোকসভা থেকে কাশ্মিরি এমপির পদত্যাগ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪৩



ভারতের লোকসভা থেকে কাশ্মিরি এমপির পদত্যাগ

ভারত শাসিত কাশ্মিরে ক্ষমতাসীন পিপলস ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (পিডিপি)-র নেতা তারিক হামিদ কাররা নিজ দল ও লোকসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘বিতর্কিত পদক্ষেপ’-এর জন্যই তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানিয়েছেন।

 
বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারিক হামিদ তার পদত্যাগের ঘোষণা দেন। সেখানে তিনি কাশ্মিরে চলমান সহিংসতায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। তারিক হামিদ কাশ্মির বিষয়ে ভারতের সরকারি নীতিকে ‘বর্বর’ বলে উল্লেখ করেন। বিজেপি-র সঙ্গে জোট বাঁধার জন্য তিনি পিডিপি-কেও ওই সহিংসতার জন্য দায়ী করেন।
উল্লেখ্য, ঈদের দিনটিতে সমগ্র উপত্যকাজুড়েই কারফিউ জারি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে ঈদের জামাত। সেই সঙ্গে বন্ধ রাখা হয়েছে মোবাইল পরিষেবা। নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে সিসিটিভি, হেলিকপ্টার এবং ড্রোন। ফলে উৎসবের দিনেও কার্যত গৃহবন্দি থাকতে হয় কাশ্মিরিদের। আর ওই দিনটিতেই দুই কাশ্মিরিকে হত্যা করে সামরিক বাহিনী।
হামিদ কাররা বলেন, ‘ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো কাশ্মিরিদের ঈদের নামাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঈদগাহসহ প্রধান মসজিদগুলোও বন্ধ রাখা হয়েছিল। ’
সহিংস পুলিশি হামলা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘কাশ্মিরিদের রক্ত ছড়িয়ে পড়ছে সমগ্র উপত্যকায়। ’
তারিক হামিদ কাররা ছিলেন পিডিপি-র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। ২০০২ সালে সাবেক মুফতি মুহাম্মদ সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন তারিক হামিদ কাররা। কাশ্মিরে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় কর্তৃপক্ষের ‘বিতর্কিত’ পদক্ষেপের প্রতিবাদে তিনি পিডিপি থেকেও পদত্যাগ করেছেন।
প্রসঙ্গত, ৮ জুলাই অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় সেনা ও পুলিশের বিশেষ বাহিনীর যৌথ অভিযানে হিজবুল কমান্ডার বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। বুরহান নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে কাশ্মির জুড়ে উত্তেজনা শুরু হয়। বিক্ষুব্ধ কাশ্মিরিদের দাবি, বুরহানকে ‘ভুয়া এনকাউন্টারে’ হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের কিছু অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভ আরও জোরালো হলে পুরো কাশ্মিরজুড়ে কারফিউ সম্প্রসারিত হয়।
সম্প্রতি কাশ্মিরের বেশিরভাগ এলাকা থেকে কারফিউ সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতেও উত্তাপ কমে আসেনি। ঈদুল আজহার দিনে আবারও স্বাধীনতার আন্দোলন দমন করতে জারি করা হলো উপত্যকাজুড়ে কারফিউ। আজ কারফিউ চলছে ৭০ দিনের মতো। চলমান সংঘর্ষে ৮০ জনেরও বেশি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ১২ হাজার মানুষ। এর মধ্যে সাড়ে সাত হাজারই কাশ্মিরি বিক্ষোভকারী।


মন্তব্য