kalerkantho


যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে আবারও কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর নিহত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:২১



যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের গুলিতে আবারও কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও অঙ্গরাজ্যের কলম্বাস শহরে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছে ১৩ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর। পুলিশের দাবি, ওই কিশোরের হাতে একটি ছররা গুলির বন্দুক ছিল।

তবে নিহত কিশোর টায়ার কিং এর পরিবার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

ওহিও পুলিশের এক কর্মকর্তার দাবি, বুধবার টায়ার কিং 'ডাকাতি' করতে চেয়েছিল। তার হাতে একটি ছররা গুলির বন্দুক ছিল। তার পিছু নিয়ে গুলি চালালে ওই কিশোর নিহত হয়।

বৃহস্পতিবার ওহিও পুলিশ প্রধান কিম জ্যাকবস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ''আমরা ডাকাতি হচ্ছে বলে ৯১১ জরুরি নম্বরে একটি ফোন পাই। পুলিশ সদস্যরা সেখানে পৌঁছালে তারা সন্দেহভাজনদের আটক করার চেষ্টা করেন এবং তাদের সঙ্গে মোকাবিলায় ওই কিশোর নিহত হন। '' 

সম্প্রতি পুলিশের গুলিতে বেশ কয়েকজন কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী প্রতিবাদ ও বিতর্ক শুরু হয়। ওই কিশোর নিহত হওয়ার পর তা নতুন করে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনাটি তারা তদন্ত করবে।

তবে নিহতের পরিবার ও আইনজীবীরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) কে বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান আর পুলিশের ভাষ্য পরস্পর বিপরীতমুখী।  

টায়ার কিং এর পরিবারের আইনজীবী শন ওয়ালটন জানান, অষ্টম শ্রেণিতে পড়া কিং এর কোনো সহিংস অপরাধের ইতিহাস নেই। সে ফুটবল খেলতো এবং ভালো ছাত্র ছিল বলেও শন উল্লেখ করেন।

যে পুলিশ কর্মকর্তার গুলিতে ওই কিশোর নিহত হন, তার নাম ব্রায়ান ম্যাসন বলে জানা গেছে। ওই শ্বেতাঙ্গ কর্মকর্তা ৯ বছর ধরে পুলিশ বিভাগে কাজ করছেন।

সম্প্রতি তাকে কলম্বাসে বদলী করা হয়েছিল। পুলিশের নথি অনুযায়ী, ব্রায়ান ২০১২ সালে এক লোককে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছিলেন।  

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ বিভাগের মধ্যে বর্ণবাদের ইস্যুটি জাতীয় বিতর্কে পরিণত হয়েছে। গত দুই বছরে পুলিশের গুলিতে কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময়েই বিক্ষোভ করতে রাস্তায় নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দারা। মার্কিন পুলিশের বর্ণবাদ প্রবণতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে শুরু হয় ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলন।


মন্তব্য