kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্নোডেন মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি : কংগ্রেস কমিটি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:৫৯



স্নোডেন মার্কিন নিরাপত্তার জন্য হুমকি : কংগ্রেস কমিটি

মার্কিন কংগ্রেসের গোয়েন্দা কার্যক্রম বিষয়ক একটি কমিটি দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি (এনএসএ)'র সাবেক কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেনকে গোপন তথ্য ফাঁসের জন্য অভিযুক্ত করেছে। এক প্রতিবেদনে ওই কমিটি দাবি করেছে, স্নোডেনের কারণে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা 'ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত' হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও দাবি করা হয়, ''স্নোডেন 'হুইসেল ব্লোয়ার' নন। ''

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে গোপন নজরদারির বিভিন্ন তথ্য ফাঁস করে সারা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন স্নোডেন। এর পর থেকেই পালিয়ে বেড়াচ্ছেন নিজ দেশ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছে, তাতে তার অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের 'মোস্ট ওয়ান্টেড' ব্যক্তির তালিকায় রয়েছে তার নাম। বর্তমানে তিনি রাশিয়ায় রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন।

ধারণা করা হয়, স্নোডেন প্রায় ১৫ লাখ গোপন নথি নিজের সংগ্রহে নিয়েছিলেন। অপর এক সূত্রের মতে, তার কাছে থাকা গোপন নথির সংখ্যা দুই থেকে তিন লাখ।
কংগ্রেস কমিটির ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, এনএসএ এর যেসব তথ্য তিনি ফাঁস করেছেন, তা গোপনীয়তা আইনের লঙ্ঘন। গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা কার্যক্রম ফাঁস করে দেওয়ায় মার্কিন পররাষ্ট্র বিষয়ক বৃহৎ স্বার্থ লঙ্ঘিত হয়েছে।

ওই কংগ্রেস কমিটি ৩৬ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনটি গোপন রেখেছে, তবে চার পৃষ্ঠার একটি সারাংশ প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, 'বিদেশে মার্কিন সেনাবাহিনীকে রক্ষা এবং সন্ত্রাসী এবং অন্য জাতি-রাষ্ট্র থেকে মার্কিনিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সকল গোপন তথ্য স্নোডেন ফাঁস করে দিয়েছে। '

অবশ্য স্নোডেন তথ্য ফাঁস করায় নিজেকে অপরাধী মনে করেন না। স্নোডেনের দাবি, তার ফাঁস করার তথ্যের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা 'নৈতিক ও নীতিগতভাবে' আরও উন্নত হয়েছেন। ফলে তাকে শাস্তি দেওয়ার কোনো কারণ নেই।

তিনি সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়া অনুসারে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতাবলে 'ক্ষমা' করে দেওয়ার জন্য। কারণ নিজেকে অপরাধী না মনে করলেও তিনি মার্কিন আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন। মার্কিন কর্মকর্তারা অবশ্য জানিয়েছেন, ওবামা স্নোডেনকে ক্ষমা করার বিষয়টি বিবেচনা করছেন না।

তবে স্নোডেনের পক্ষে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন-এর অ্যাটর্নি বেন উইজনার কংগ্রেস কমিটির ওই প্রতিবেদনকে 'অসম্পূর্ণ ও অসঙ্গতিপূর্ণ' বলে উল্লেখ করে তার দাবি নাকচ করেছেন। তিনি স্নোডেনকে 'প্রকৃত দেশপ্রেমিক' বলেও আখ্যায়িত করেন।

এর আগে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্নোডেন বলেন, ''লিখিত অনেক আইন আছে। কিন্তু তারপরও প্রেসিডেন্টকে ক্ষমা করে দেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। যাতে করে আইনের বিবেচনায় বেআইনি হলেও নৈতিকতা বিচারে সঠিক এমন ঘটনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম ঘটানো যায়। আমরা যখন নৈতিকভাবে বিষয়টি দেখি, আমরা যখন এর ফল দেখি, তখন এটাকে প্রয়োজনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখতে পাব। ''

স্নোডেন আরও বলেন, ''এ ফাঁসের ঘটনায় কোনো মানুষের ব্যক্তিগত কোনো ক্ষতি হয়েছে বলে কোনো প্রমাণ নেই। '' ওবামা, কংগ্রেস ও আদালতকে ইঙ্গিত করে স্নোডেন বলেন, ''এ ফাঁসের ঘটনার পর সবাই তাদের নীতি পরিবর্তন করেছেন। ''


মন্তব্য