kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাইলের পর মাইল হেঁটে বিয়ে করতে গেলেন কনে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:২৩



মাইলের পর মাইল হেঁটে বিয়ে করতে গেলেন কনে

তামিলনাড়ু আর কর্নাটকের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। গোটাটাই একটা, ভারত।

অতি সাধারণ এক কনে যেভাবে গড়গড় করে কথাগুলো বলে গেলেন, দেখে মনে হবে কাবেরীর জল নিয়ে 'সুপ্রিম' নির্দেশ পরবর্তী তপ্ত পরিস্থিতিতে দুই রাজ্যের মানুষকে এই বার্তা দিচ্ছেন কোনও নেতা-মন্ত্রী। না, নেতা-মন্ত্রী অনেককিছু বললেও, এই কনের আর্তি সবার থেকে আলাদা। একেবারে আন্তরিক। কারণ বেঙ্গালুরুর এ বছর ২৫-এর কন্যার বুধবার বিয়ে তামিলনাড়ুর এক যুবকের সঙ্গে।

কাবেরীর জল নিমেষে ধুয়েমুছে দিয়েছে আর প্রেমার বিয়ের যাবতীয় স্বপ্নকে। বিয়ের আগের দিন কত আচার, নিয়ম-কানুন, আনন্দে ভেসে বেড়ানোর কথা ছিল। তবে, মঙ্গলবার সিল্কের শাড়ি, গা ভর্তি গয়না পরে কনের সাজে তাঁকে পেরতে হল কয়েক মাইল পথ। সোমবার থেকে যে দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে যাতায়াত যে প্রায় বন্ধ রয়েছে। বিক্ষোভের আগুন আর হিংসার তেজে পুড়ে ছারখার হয়ে গিয়েছে ধূমধাম করে প্রেমার শ্বশুর ঘরে যাওয়ার বাসনা।

অগত্যা বিয়ে করতে কনেযাত্রী নিয়ে বাসে-অটোয়-হেঁটে বেঙ্গালুরু থেকে তামিলনাড়ু পাড়ি দিয়েছেন তিনি। এভাবেই তাঁরা পৌঁছন তামিলনাড়ু সীমান্তের হোসুরে। সেখান থেকে একটি বাসে তাঁদের আরও ১১০ কিমি পেরিয়ে বিবাহবাসরে যাওয়ার কথা। হাইওয়েতে ৪ কিমি টানা হাঁটার পর প্রেমা বললেন, 'আজকের দিনের অফুরন্ত আনন্দটা পুরোটাই মিস করছি। এই দিনটা আমি কোনওদিন ভুলতে পারব না। ৬০০ জনকে আমন্ত্রণ করেছিলাম। তবে, মাত্রা ২০ জন বিয়েতে যাচ্ছে। ' প্রেমার সঙ্গে যাঁরা কনেযাত্রী ছিলেন, তাঁদের কারও হাতে জামাকাপড়, কারও হাতে উপহারসামগ্রী। আর কমার্স গ্র্যাজুয়েট প্রেমাকে একরাশ চিন্তা নিয়ে সমানে ফোন করে যাচ্ছেন তাঁর হবু বর।

প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে দেশের সমগ্র শিক্ষিত সমাজ - সবাই বলছেন আলোচনার মাধ্যমে কাবেরী সমস্যার সমাধান হোক। জল নিয়ে যেভাবে আগুন জ্বলেছে বেঙ্গালুরু-মাইসুরুতে, যেভাবে তামিল প্রতিষ্ঠান-গাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে তার নিন্দা করেছেন সবাই। কাবেরীর জল দুটো রাজ্যের মধ্যে ব্যবধান যতটা বাড়িয়েছে, তা ঘুচে যাক কন্নড় প্রেমা ও তাঁর তামিল বরের মিলনে - এটাই প্রার্থনা।

 


মন্তব্য