kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পোশাকের জন্য রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেওয়া হলো না ড্রাইভারকে!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:১৭



পোশাকের জন্য রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেওয়া হলো না ড্রাইভারকে!

ব্রিটিশ আমলে রেস্তোরাঁর বাইরে সাইন বোর্ডে লেখা থাকত  'কুকুর ও ভারতীয় প্রবেশ নিষেধ'। সাইনবোর্ড না থাকলেও এমন এক ঘটনা ঘটল ওপার বাংলায়! কলকাতার পার্ক স্ট্রিটের মোকাম্বো রেস্তোরাঁ।

খাবারের জন্য সুখ্যাতি রয়েছে। কিন্তু, ব্যবহারের জন্য? শনিবারের একটি ঘটনা ও তার জেরে একটি ফেসবুক পোস্ট এবার এই প্রশ্ন তুলে দিল।

গাড়ি চালকের সঙ্গে খেতে যাওয়ায় এক নারীকে রেস্তোরাঁতেই ঢুকতেই দিল না মোকাম্বো। অভিযোগ এমনই। সেই ঘটনার কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট করেন দিলাশি হেমনানি। মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই পোস্টটি মনে করিয়ে দিচ্ছে যদিও মোকাম্বোর বাইরে এমন কোনো বোর্ড লাগানো হয়নি।

টাটা কম্পানিতে কর্মরত দিলাশির শনিবার কলকাতায় শেষদিন ছিল। তার গোটা সফরে সঙ্গে থেকে সাহায্য করেছিলেন গাড়ির চালক মণীশ। সেই জন্য তাকে নিয়ে পার্ক স্ট্রিটের মোকাম্বো রেস্তোরাঁয় যান দিলাশি। প্রথমে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয় তাকে। কিছুক্ষণ পরে টেবিল পরিষ্কারে সময় লাগছে জানিয়ে ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করতে বলা হয়। এরপর ১ ঘণ্টা কেটে গেলেও টেবিল দেওয়া হয়নি। যদিও তাদের পরে এসে অনেকে রেস্তোরাঁর ভেতরে টেবিল পেয়ে যান। এই নিয়ে জিজ্ঞাসা করলে দিলাশি জানতে পারেন তাদের রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেওয়া হবে না।

'ম্যাডাম, আপনার সঙ্গীর পোশাক ঠিক নয়', গাড়ি চালক মণীশকে দেখিয়ে দিলাশিকে জানান মোকাম্বোর স্টাফ। যা শুনে বিরক্ত দিলাশি জানতে চান, মোকাম্বোর কোনো ড্রেস কোড বা পোশাকবিধি রয়েছে কিনা। উত্তর আসে না। তবুও ঢুকতে দেওয়া যাবে না।

এরপর ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলতে চান দিলাশি। ম্যানেজার এসে তাকে যা বলেন, তা রীতিমতো চমকে যাওয়ার মতো বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন দিলাশি। 'ম্যাডাম আপনার সঙ্গী মদ্যপ অবস্থায় রয়েছেন। ' ম্যানেজারের এই অভিযোগ শুনে মেজাজ হারান দিলাশি। স্পষ্ট জানতে চান, কীসের ভিত্তিতে এই অভিযোগ করছেন ম্যানেজার। জবাবে কোনো যুক্তি দেখাতে পারেননি ম্যানেজার। তবু, মণীশকে তিনি ভিতরে ঢুকতে দেবেন না।

 

এদিকে, ম্যানেজারের সঙ্গে তর্কে দিলাশি ফের ড্রেস কোডের প্রসঙ্গ তোলেন। তখন ম্যানেজার জানান, 'ড্রেস কোড নেই। কিন্তু উনি একজন গাড়ি চালক। ওনার পোশাক নোংরা। আমরা এমন লোকেদের রেস্তোরাঁয় ঢুকতে দেব না। '

হাফিংটন পোস্টের তরফে যোগাযোগ করা হয় মোকাম্বোর ম্যানেজারের সঙ্গে। যদিও তখন গোটা ঘটনাই অস্বীকার করেন তিনি। ঘটনাটি অস্বীকার করলেও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যাওয়া এই পোস্টই এখন অস্বস্তির কারণ মোকাম্বো রেস্তোরাঁর জন্য।

প্রতিবেদনটি এই সময়-এর মতের প্রতিফলন নয়। ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে লিখিত। মোকাম্বো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চালালেও তারা ফোন তোলেননি।  


মন্তব্য