kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'হজ-পাহাড়ে' ড্রোনের নজরদারী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:০৩



'হজ-পাহাড়ে' ড্রোনের নজরদারী

এক নজরে দেখলে মনে হবে, যেন আগাগোড়া পাহাড়টা ঢেকে গিয়েছে বরফে৷ আসলে ওঁরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জড়ো হওয়া প্রায় ২০ লক্ষ হজযাত্রী৷ প্রথা মেনে সেলাইহীন সাদা পোশাক পরে মাউন্ট আরাফতে চড়ছেন৷

বার্ষিক হজ যাত্রার চূড়ান্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল রবিবার৷ যে দিন মক্কা থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের এই পবিত্র পাহাড়ে আরোহণ করলেন দেশ-বিদেশ থেকে আসা মুসলিম তীর্থযাত্রীরা৷ গত বছরের মতো ভিড়ের চাপে দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে এ বার ড্রোন নিয়ে মাউন্ট আরাফতে নজরদারি চালানোর ব্যবস্থা করেছিল সৌদি প্রশাসন৷ পুরো ব্যবস্থাটি তদারকির দায়িত্ব নিজেই নিয়েছিলেন সৌদি যুবরাজ তথা অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহম্মদ নায়েফ বিন আব্দুল-আজিজ৷

২০১৫ সালে ঘটে গিয়েছিল হজ যাত্রার ইতিহাসে সবচেয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা৷ 'শয়তানকে পাথর ছোড়া'র রীতি পালন করতে একই সঙ্গে এক জায়গায় পৌঁছে যান দু'দল হজযাত্রী৷ দু'টি দল মুখোমুখি হয়ে যাওয়ায় কারও পক্ষেই এগনো সম্ভব ছিল না৷ সে সময় ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়িতে আহত ও পদপিষ্ট হয়ে মারা যান বহু মানুষ৷ রিয়াধের দাবি ছিল, ৮০০ হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে৷ কিন্ত্ত বিভিন্ন দেশ নিজ নিজ নাগরিকদের যে সংখ্যক মৃতদেহ ফিরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল বলে পরিসংখ্যানে দাবি, তার ভিত্তিতে বলা যায় মৃতের সংখ্যা হাজার দুয়েক ছাড়িয়ে গিয়ে থাকতে পারে৷

সে ধরনের কোনও বিপদ যাতে আর না ঘটে, সে জন্যই এ বার বাড়তি সতর্কতা নিয়েছিল সৌদি প্রশাসন৷ কোন দেশের হজযাত্রীরা কোন সময়ে মাউন্ট আরাফতে যাবেন এবং কখন ফিরবেন, তার বিশদ সময়সূচি তৈরি করে দিয়েছিল হজ মন্ত্রক এবং সেই সূচি মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য ছিল বিশেষ নজরদারির বন্দোবস্ত৷ এর সঙ্গে যোগ হয়েছিল ইলেকট্রনিক নজরদারিও৷ আপত্‍কালীন পরিস্থিতি তৈরি হলে যাতে কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে গোটা যাত্রাপথে নজর রাখা হয় ড্রোনের মাধ্যমে৷ সৌদি আরবের সরকারি সংবাদমাধ্যম এসপিএ জানাচ্ছে, হজযাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে ব্যক্তিগত ভাবে উদ্যোগী ছিলেন দেশের যুবরাজ৷

দিনটা অবশ্য নির্বিঘ্নেই কেটেছে৷ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হজযাত্রীরাও পুরো ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন৷ মালি থেকে আসা দুই মহিলা যেমন বললেন,'আমরা এখানে যথেষ্ট স্বচ্ছন্দ বোধ করছি৷ হজযাত্রার থেকে পুণ্য অর্জনে কোনও অসুবিধা হয়নি৷ সব কিছু খুব সুসংগঠিত ভাবে ব্যবস্থা করা হয়েছে৷'দক্ষিণ সিরিয়া থেকে আসা উম ফাদিও জানালেন, সিরিয়াকে সঙ্কট থেকে উদ্ধারের জন্য নিশ্চিন্তেই আল্লাহের কাছে প্রার্থনা জানাতে পেরেছেন তিনি৷ - রয়টার্স


মন্তব্য