kalerkantho


রাগের মাথায় পুলিশ ডেকে বিপাকে স্ত্রী, স্বামী জেলে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:১৮



রাগের মাথায় পুলিশ ডেকে বিপাকে স্ত্রী, স্বামী জেলে

বিষয়টা শুরু হয়েছিল স্বামী-স্ত্রী’র ঝগড়া দিয়ে। অতিরিক্ত চটে গিয়ে পুলিশকেই ডেকে বসেন স্ত্রী। কিন্তু, পুলিশ আসার আগেই ঝগড়া মিটে যায়। পুলিশ আসলে, স্ত্রী লিখিতভাবে জানিয়ে দেন, অভিযোগ তিনি তুলে নিচ্ছেন। স্বামীর বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। আপাতদৃষ্টিতে বিষয়টি এখানেই মিটে যাওয়া উচিত। আইনও তাই বলে। অভিযোগ প্রত্যাহার করতে গেলে লিখিতভাবে তা জানাতে হয়। কিন্তু, দিল্লির দম্পতির জন্য অপেক্ষা করছিল অন্য অভিজ্ঞতা। যা প্রশ্ন তুলে দিল, সংশ্লিষ্ট একটি আইন ও তার ব্যবহার নিয়ে।

অভিযোগ প্রত্যাহার করে নারীর লিখিত আবেদনে সাড়া দিতে নারাজ ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তারা। নারীর স্বামী ও তাঁর ভাইকে বসন্ত বিহার পুলিশ স্টেশনে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের দু’জনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৭ ধারা অনুযায়ী মামলা দায়ের করে পুলিশ। এবার এই ধারা অনুযায়ী থানার এলাকার শান্তি বজায় রাখতে কোনো পুলিশ কর্মকর্তাকে স্পেশাল এক্সজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) ক্ষমতা দেয়া হয়। বসন্ত বিহার থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ওই ক্ষমতা প্রয়োগ করে দুই ব্যক্তিকে এলাকায় শান্তিরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা লিখতে নির্দেশ দেন। আইনজীবী আলদানেশ রেইনের হস্তক্ষেপে মুচলেকা দিয়ে মুক্তি চান অভিযুক্তরা। কিন্তু, ওই মুচলেকা যাচাই করার জন্য সফদরজঙ থানায় পাঠান সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তা। এবং ওই ব্যক্তি ও তাঁর ভাইকে দু'দিনের জেল হেফাজতে রেখে দেন।

বিচার চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন আইনজীবী রেইন। হাইকোর্ট সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে ভর্ৎসিত করে ওই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ খারিজ করে।

এদিকে, গোটা ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকা আইনজীবী রেইন এই মামলায় প্রভাবিত হন। এবং সিদ্ধান্ত নেন এই আইনের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে আপিল করার। সেই মতো, এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ কর্মকর্তাদের যে বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তার অপব্যবহার নিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। প্রধান বিচারপতি টি এস ঠাকুরের নেতৃত্বে এক ডিভিশন বেঞ্চে মামলার শুনানিতে অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল অমরিন্দর সিংয়ের সাহায্য চায়। তিনি এই আইনের সত্যতা স্বীকার করলেও আইনের প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর ফলে ক্ষমতার অপব্যবহারের আশঙ্কার কথা শীর্ষ আদালতের সামনে তুলে ধরেন। এরপর আইনজীবী রেইনের পিটিশন গ্রহণ করে পরে শুনানির কথা জানায়।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য