kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প‍বিত্র হজ পালন করছেন ১৩ লাখ মুসলিম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৩৬



প‍বিত্র হজ পালন করছেন ১৩ লাখ মুসলিম

নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। ইহরাম পরিহিত অবস্থায় 'লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক' ধ্বনিতে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে মক্কা থেকে মিনা যাত্রার মাধ্যমে ৫ দিনের হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছেন হজ পালনকারীরা।

এবার বিশ্বের ১৫০টিরও বেশি দেশ থেকে হজ পালনে মক্কায় সমবেত হয়েছেন ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৫২০ জন মুসলমান। সৌদি সংবাদপত্র সৌদি গেজেটের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। শেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ (সা.) ১৪০০ বছরেরও আগে যেভাবে হজ পালন করেছেন ইসলামের মূল ৫টি স্তম্ভের অন্যতম এই হজ সেভাবেই প্রতিবছর পালন করে চলেছেন মুসলমানরা।

৮ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মক্কা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে মিনার উদ্দেশে যাত্রা করা সুন্নত হলেও যানজট এড়াতে বিপুল সংখ্যক হজযাত্রীকে মুয়াল্লিমরা সৌদি সরকারের অনুমোদনক্রমে আগের রাত থেকেই মিনায় নিয়ে থাকেন। অনেকে অবশ্য নবীর সুন্নত পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পালনের জন্য গতরাতে না গিয়ে আজ সূর্যোদয়ের পর পায়ে হেঁটে মিনায় রওনা করবেন। যারা গতরাতেই মিনায় পৌঁছেছেন তারা আজ ফজরসহ সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করবেন। সুন্নতি তরিকায় ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর আরাফাতের উদ্দেশে রওনা করার কথা থাকলেও যানজটের বিড়ম্বনা এড়াতে আজ সন্ধ্যার পর থেকেই হজযাত্রীদের ১৪ কিলোমিটার দূরবর্তী আরাফাতের ময়দানে নিয়ে যাওয়া শুরু করবেন মুয়াল্লিমরা।

এদিকে হজ উপলক্ষে এবার মক্কা ও মদিনায় নজিরবিহীন নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে মিনায় শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের সময় যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সৌদি হজ কর্তৃপক্ষ হাজিদের ভাগ ভাগ করে সেখানে পাঠানোর ব্যবস্থা করেছে। গত বছর মিনায় পাথর নিক্ষেপের সময় পদদলিত হয়ে প্রচুর হতাহতের ঘটনা ঘটে। এরপরই হজে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেয় সৌদি কর্তৃপক্ষ।

হজ পালনকারীদের আগমনে মিনা এখন তাঁবুর শহরে পরিণত হয়েছে। চারদিকে তাঁবু আর তাঁবু। হাজিরা এই তাঁবুতে অবস্থান করছেন। তাঁবুগুলো দেখতে চৌচালা ঘরের মতো। ভেতরে পর্যাপ্ত আলো আছে। এই তাঁবুতে শোয়া-বসা ও নামাজ পড়ার ব্যবস্থা রয়েছে। রয়েছে শৌচাগার ও পানির কল। আছে টেলিফোন সংযোগ। মিনায় কিছু দূর পরপরই রয়েছে হাসপাতাল। হাজিদের সেবায় সেখানে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্যকর্মী, চিকিৎসক ও নিরাপত্তাকর্মী আছেন। আল্লাহর ঘরের মেহমানদের যাতে কোনোরূপ কষ্ট না হয়, সে জন্য মিনায় যাওয়ার সব রাস্তা যানজটমুক্ত রাখা হয়েছে।

 


মন্তব্য