kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চীনের প্রাচীর বাঁচাতে অর্থ সংগ্রহ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৪৫



চীনের প্রাচীর বাঁচাতে অর্থ সংগ্রহ!

এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি চীন। সেই চীনের প্রাচীর পৃথিবীর বুকে মানুষের একমাত্র স্থাপনা যা মহাকাশ থেকেও দেখা যায়! পৃথিবীর সপ্তমআশ্চর্যের এক আশ্চর্য হলো চীনের প্রাচীর।

কিন্তু সময়ের হাত থেকে রেহাই পায়নি এই অনবদ্য স্থাপনা।  দীর্ঘদিন ধরে ক্ষয় হতে হতে আজ বিপন্ন 'দ্য গ্রেট ওয়াল অব চীন'।

দেশের ঐতিহ্যকে বাঁচাতে তাই জনসাধারণের দ্বারস্থ হয়েছে সে দেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংস্থা চায়না ফাউন্ডেশন ফর কালচারাল হেরিটেজ কনজারভেশন। রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে থাকা এই সংস্থা অগস্টের শেষ থেকে শুরু করেছে তহবিল সংগ্রহ অভিযান। আর এর মধ্যেই তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে অর্থ দান করেছেন প্রায় ১৬ হাজার মানুষ।

চীনের রেডিও ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট অনুযায়ী , এখন পর্যন্ত প্রায় তিন লক্ষ ইউয়ান (৪৫ হাজার মার্কিন ডলার) জমা পড়েছে প্রাচীর বাঁচানোর জন্য গঠিত তহবিলে।

ডিসেম্বরের ১ তারিখের মধ্যে এই টাকার পরিমাণটা ১.১ কোটি ইউয়ানে (১৭ লক্ষ মার্কিন ডলার) পৌঁছে যাবে বলে আশা করছে সংরক্ষণকারী সংস্থাটি। ফান্ড -রেইজিং উদ্যোগের দায়িত্বে থাকা ডং ইয়াওহুইয়ের মতে , এত বড় একটা ঐতিহ্যশালী নির্মাণ সংরক্ষণ করা একা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। সে জন্যই দেশের নাগরিকদের এগিয়ে আসতে আর্জি জানাচ্ছেন তারা।

ইয়াওহুইয়ের কথায় , "পরিমাণ যত সামান্যই হোক না কেন, প্রত্যেক নাগরিকের অবদানের মাধ্যমেই আমরা এই বিরাট প্রাচীরকে বাঁচানোর জন্য পদক্ষেপ নিতে পারব। " 

তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় চীনাদের অনেকেই এই উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। কারও কারও মতে , সরকারি সংস্থাগুলির হাতে যথেষ্ট অর্থের জোগান রয়েছে। কাজেই সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা তোলার প্রয়োজন নেই। কেউ বা জানতে চেয়েছেন , যারা ওই ফান্ডে অর্থদান করবেন , তাদের ক্ষেত্রে প্রাচীর দেখতে যাওয়ার জন্য টিকিটের মূল্য মওকুফ করা হবে কি না।

তবে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও চোখে পড়েছে। যেমন , এক জন লিখেছেন , "আমি এই ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করতে চাই ! ভবিষ্যতে গর্বের সঙ্গে বলতে পারব, এটা আমাদের পারিবারিক এস্টেট। "

বিখ্যাত এই প্রাচীর তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল প্রায় দুই হাজার বছর আগে। কিন্ত্ত দর্শক ও পর্যটকরা এখন যে অংশটা মূলত দেখতে যান, সেটা তৈরি আরও অনেক পরে মিং যুগে (১৩৬৮ -১৬৪৪ )। সেই যুগে প্রাচীরটির ৬,২৫০ কিমি অংশ তৈরি হয়। তার এক তৃতীয়াংশই নেই জানিয়েছে সংস্থাটি।


মন্তব্য