kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সামনে পানশালা, আড়ালে দেহব্যবসা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৮:১৮



সামনে পানশালা, আড়ালে দেহব্যবসা!

অনেকদিন ধরেই কানাঘুষা চলছিল ভারতের নামকরা প্রমোটার আজমল সিদ্দিকির পানশালা ঘিরে। বাজারে গুঞ্জন ছিল পানশালায় কাজ দেওয়ার টোপ দিয়ে মেয়েদের নিয়ে আসে সে।

তারপর তাদের নামিয়ে দেয় দেহ ব্যবসায়। আবছা আলোয় মোহিনী মাদকতা। সন্ধ্যা নামার পর পানশালায় মায়া কাটানো কঠিন। সেই সুরাপানের সঙ্গেই দেহব্যবসা। কানাঘুষো অনেকদিন চলছিল। এবার তা প্রকাশ্যে উঠে এল। পুলিশের জালে ধরা পড়লেন আজমল সিদ্দিকি।

বাগুইআটিতে আজমলের পানশালাটির নাম ‘বেওয়াচ’। সেখানে মদ্যপানের অতিরিক্তও কিছু পাওয়া যাওয়ার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট ছিল। পুলিশকে ম্যানেজ করা হয়েছিল। গত বছর কলকাতাজুড়ে বেআইনি পানশালা বিরোধী অভিযানে নামে পুলিশ। সেই বছরই আজমল সিদ্দিকির বেওয়াচ পানশালায় অভিযান চালানো হয়। কিন্তু আজমলের নাগাল পাওয়া যায়নি। তার পানশালায় সঙ্গে বহু প্রভাবশালীর যাতায়াতেরও অভিযোগ আছে। সেপ্টেম্বরের গোড়ায় কেষ্টপুরে ভিনরাজ্যের পাঁচ তরুণীকে উদ্ধার করে পুলিশ। তরুণীরা জানায় চাকরির টোপ দিয়ে এনে তাদের দেহ ব্যবসায় নামানো হয়। ওই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। এতে সরাসরি নাম জড়ায় আজমলের। এরপরেই গতকাল রাতে আজমলকে গ্রেফতার করে বাগুইআটি থানার পুলিশ। তাকে সাতদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে বারাসাতের আদালত।

আজমলের উত্থান অন্ধকার জগত থেকে। হাওড়ার কুখ্যাত সন্ত্রাসী ছিল সে। পরে নির্মাণ ব্যবসায় নামলে হাওড়া থেকে সরে যায় বাগুইআটিতে। কিন্তু, অন্ধকারের সংসর্গ ছাড়তে পারেনি। এক একজন তরুণীকে ব্যবহার করে মাসে তার আয় প্রায় দেড়লক্ষ টাকা। বাগুইআটি থেকে কৈখালি। ভিআইপি রোডের দুইপাশে ৭০টি পানশালা। যার মধ্যে ৫০টিই ডান্স বার। রেজিস্ট্রেশন অবশ্য সিঙ্গিং বার হিসেবেই। অভিযোগ ছিল। প্রমাণ ছিল না।

২০১৫ সালে কাজের নাম করে এনে ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে প্রথমবারের মত অভিযোগ করেন মুম্বাইয়ের এক তরুণী। প্রথম অভিযোগ পেয়েই অসাধু ব্যবসা উপড়ে ফেলতে ঝাঁপিয়ে পড়ে বিধাননগর পুলিশ। ২০১৫ সালে কমপক্ষে একশোটি মামলা দায়ের করে একের পর এক নারীপাচার চক্রের পর্দা উন্মোচিত হয়। তবে ডান্সবারের আড়ালে দেহব্যবসা যে শিকড়শুদ্ধ উপড়ে ফেলা যায়নি, তা আজমলের ধরা পড়াতেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। কারণ, এই দুষ্টচক্র চলে রীতিমতো শৃঙ্খলার সঙ্গে। দেহ ব্যবসার আড়কাঠির নেটওয়ার্ক ছড়ানো দেশজুড়ে। কাজের টোপ দিয়ে গরিব বাড়ির মেয়েদের ভুলিয়ে আনে এজেন্টরা। ডান্সবারে কাজের নাম করে তাদের নামিয়ে দেওয়া হয় দেহব্যবসায়। এক একজন তরুণীকে ব্যবহার করে মাসে নব্বই হাজার থেকে দেড়লক্ষ টাকা পর্যন্ত রোজগার। রাজি না হলে জোর পর্যন্ত করা হয়।


মন্তব্য