kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদ্ভুত কারণে ১১৬ বছর শেকলে বাঁধা রয়েছে গাছ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:৩২



অদ্ভুত কারণে ১১৬ বছর শেকলে বাঁধা রয়েছে গাছ

পাকিস্তানে ১১৬ বছর বন্দি অবস্থায় পড়ে রয়েছে একটি গাছ। অবাক করা এই ঘটনা পাকিস্তানের পেশোয়ারের।

রাস্তার পাশে গাছটি দাঁড়িয়ে রয়েছে শিকলবাঁধা অবস্থায়।
শত বছর পেড়িয়েও বন্দি দশা থেকে মুক্তি মেলেনি পেশোয়ারের এই বট গাছের। তবে তাঁর এমন পরিনতির কথা ফলাও করে লেখা রয়েছে তাঁর পাশেই একটি সাইন বোর্ডে। ঘটনার ১৮৯৮ সালের। এক সন্ধ্যায় আকণ্ঠ মদ্যপান করে বাড়ি ফিরছিলেন পেশোয়ারের দোর্দণ্ডপ্রতাপ পুলিশকর্তা জেমস স্কিউড। মত্ত অবস্থায় ওই গাছটিকে দেখে তাঁর মনে হয়েছিল, সেটা দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। পুলিশ দেখে পালানো মানেই “ডাল মে কাল হ্যায়”। মদ্যপ পুলিশ অফিসার গাছেকে ভেবে বসলেন চোর। চুরি করে গাছ নাকি পালাচ্ছে। এমন অপরাধেই অধস্তন কর্মীদের শিকল দিয়ে গাছটিকে বেঁধে ফেলার হুকুম দেন জেমস। সাহেবের অগ্নিমূর্তি দেখে সেপাইরাও আর তাঁর ভুল ভাঙানোর চেষ্টা করেননি। পরে যখন হুঁশ ফেরে, নিজের কাণ্ড দেখে লজ্জিত হন জেমস। সাতদিনের মধ্যে বদলি নিয়ে অন্যত্র চলে যান। গাছ পড়ে থাকে শিকলবাঁধা অবস্থাতেই।
স্বাধীনতার পরেও গাছের শিকল খোলেননি স্থানীয় বাসিন্দারা। বরং গোটা ঘটনার বিবরণ দিয়ে একটি সাইনবোর্ড আটকে দিয়েছেন গাছটির গায়ে। স্থানীয় অধ্যাপক মুখতিয়ার দুরানি বলছেন, ‘ঔপনিবেশিক আমলে বৃটিশরা আমাদের পূর্বপুরুষদের ওপরে কী ধরনের অত্যাচার চালিয়ে গেছে, এটা তারই একটা নিদর্শন। মদের নেশায় যে একটা গাছকে বন্দি করে রাখতে পারে, সে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওপরে কী অত্যাচার করেছে, সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। ’ সেই সময়ের কর্মসংস্কৃতিকেও বিদ্রুপ করতে ছাড়েননি দুরানি। বলছেন, ‘ঊর্ধতন আধিকারিক ভুল করছেন দেখেও দেশি সিপাহিরা প্রতিবাদ করার সাহস পেতেন না। ’ সাধে কী বলে, ‘বস ইজ অলওয়েজ রাইট’!


মন্তব্য