kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছেলের চিকিত্‍সার জন্য নন স্টপ খেটে চলেছেন এই বাবা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২৩:৫১



ছেলের চিকিত্‍সার জন্য নন স্টপ খেটে চলেছেন এই বাবা

ছেলের চিকিৎসার টাকা শোধ করতে গত দু-মাস ধরে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন বছর আঠাশের রাম সাহ। না-কাটিয়ে উপায়ও বা কী! চিকিৎসার জন্য মোটা টাকার বিল ধরিয়েছে বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

সামান্য বেতনের কর্মী অতগুলো টাকা শোধ করবেন কী ভাবে? অগত্যা দুই শিফটে ডবল ডিউটি করে চলেছেন এই নেপালি যুবক।

জুলাইয়ের শেষের দিকে লুকোচুরি খেলার সময় অসাবধানে চিলেকোঠার ছাদ থেকে পড়ে গিয়ে মারাত্মক চোট পায় রামের বছর আটেকের ছেলে লক্ষ্মণ। ধারালো কিছুর গোঁতা লাগে লক্ষ্মণের তলপেটে। যার জেরে লিভারের কিছুটা ছিঁড়ে যায়। তার পরেও আঠারো দিন ওই অবস্থাতেই ছিল বাচ্চাটি। বাড়ির লোক বুঝতেও পারেনি ঠিক কী হয়েছে।

কাঠমান্ডু থেকে আরও ১২ ঘণ্টার পথ, রামেরা উত্তর-পশ্চিম নেপালের কৈলালি জেলার বাসিন্দা। গত ১৪ বছর ধরে মুম্বইয়ে সিকিওরিটি গার্ডের কাজ করছেন এই নেপালি যুবক।

অসুস্থ ছেলেকে নিয়ে নেপালের তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও সুস্থ করতে পারেননি। ফলে, কর্মস্থল মুম্বইয়ে চলে আসেন। সেখানেও আরও কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে শেষমেশ মিরা রোডের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দ্বারস্থ হন। সেখানে ৫ দিনে হাতে ধরানো হয় ১.৬ লক্ষ টাকার বিল।

মাস গেলে রামের বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা। এতদিন ধরে জমানো ৮০ হাজার টাকা অ্যাডভান্স বাবদ জমা দেন। জানতেন লাখ ২ খরচ হতে পারে। তা সত্ত্বেও ঝুঁকিটা নিয়েই ফেলেন, নইলে হয়তো ছেলেকে বাঁচাতেই পারতেন না। বাকি টাকা তাঁকে ধার করতে হয়। হাউজিং সোসাইটির কাছ থেকে ৮০ হাজার টাকা ধার নিয়ে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করেন।

রামের কথায়, 'হাসপাতালের বিল দেখে মাথা ঘুরে যায়। কোথা থেকে এত টাকা জোগাড় করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। বিল ডিসকাউন্টের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও অনুরোধ করি। কিন্তু, ওরা রাজি হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে ধার করি। যাতে পরবর্তী চিকিত্‍‌সা শুরু হতে পারে। '

ধারের জন্য প্রতিমাসে তাঁর বেতন থেকে ৩ হাজার টাকা করে কাটা যাচ্ছে। তার পর হাতে যে সামান্য টাকা পড়ে থাকে, তাতে সংসার চালানো দায়। তাই আরও একটি জায়গায় কাজ নিয়েছেন। দিনে হাউজিং সোসাইটিতে ১২ ঘণ্টার ডিউটি। রাতে একটি লোকাল ক্লিনিকে রক্ষীর কাজ করে আরও ২ হাজার টাকা। তাই রাতে আর ঘুম নেই।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, তারা বিলে ছাড় দিয়েছে। কিন্তু আট পাতা বিলের কোথাও ছাড়ের উল্লেখ নেই। ওই হাসপাতালের মুখপাত্রের বক্তব্য, বিলে উল্লেখ থাকে না। কিন্তু, আমরা ছাড় দিয়েই বিল করেছি। ওই ব্যক্তি যদি আগেই বলতেন তাঁর এত টাকা দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তা হলে আমরা আরও বেশি ছাড় দিতাম।

বিলে যা-ই হোক, অস্ত্রোপচারের পর লক্ষ্মণ অবশ্য ক্রমে সুস্থ হয়ে উঠছে।

- সূত্র : এই সময়


মন্তব্য