kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেউ এলো না,হিন্দু প্রতিবেশীর শেষকৃত্য করলেন ৮ মুসলিম যুবক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১৪



কেউ এলো না,হিন্দু প্রতিবেশীর শেষকৃত্য করলেন ৮ মুসলিম যুবক

সন্ত্রাসের সঙ্গে আজও সহবাস করে ভালোবাসা, মানবিকতা। আজও সাম্প্রদায়িকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় মনুষ্যত্ব।

এখনও এমন মানুষ বাস করেন যাঁদের কাছে ধর্মের থেকে বড় মানুষের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য। আর তাই তো ভারতের মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি ছোট্ট শহর মুমব্রার আলমাস কলোনির এক দল মুসলিম যুবক নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এক হিন্দু বৃদ্ধের সত্কাররের দায়িত্ব।

রোববার রাতে নিজের বাড়িতেই মারা যান একটি ফ্ল্যাটের ওয়াচম্যান ৬৫ বছরের ওয়ামান কাদম। তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তাঁর স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর খবর দুই সন্তান এবং অন্যান্য আত্মীয়দের জানালেও তাঁরা স্পষ্ট বলে দেন, রাতে তাঁদের পক্ষে আসা সম্ভব নয়। তখনই ওয়ামানের স্ত্রী ভিতাভা পাড়ার এই যুবকদের অনুরোধ করেন তাঁর স্বামীর অন্ত্যেষ্টিতে সাহায্য করার জন্যে। এক কথায় এগিয়ে আসেন আট যুবক, খালিল পাওনে, ফাহাদ দাবির, নাওয়াজ দাবির, রাহিল দাবির, শাবান খান, মাসুক খান, ফারুক খান এবং মহম্মদ কাসম শেখ। তাঁরাই যোগাযোগ করেন পুরোহিতের সঙ্গে এবং ডাক্তারের থেকে ডেথ সার্টিফিকেটও যোগাড় করেন।

এর আগে ওই দিনই এই আট যুবকই তাঁদের কাদম 'আঙ্কল'-কে সকালে চিকিত্সাার জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গেছিলেন। সন্ধাবেলা বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। পরে রাতে অবস্থার অবনতি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই মারা যান ওই প্রৌঢ়। তাঁর স্ত্রী জানিয়েছেন, 'আমার স্বামী কোনওদিন ভাবতেও পারেননি তাঁর মৃত্যুর পরে এত ভালোবাসা ও সম্মান পাবেন। ওঁর শেষযাত্রায় সঙ্গী হয়েছিল ৪০ জন মুসলিম যুবক। ওরাই দায়িত্ব নিয়ে সব কাজ করেছে। ওরা যখন খুব ছোট ছিল, তখন থেকে চিনি। এখন বড় হয়ে ওরা মানবিক এবং স্পর্ষকাতর হয়েছে। '

কেউ এগিয়ে না আসায় রাত তিনটার সময়ে কাছের একটি শ্মশানে দেহ নিয়ে যায় এঁরা। মুখাগ্নি করতে যাওয়ার সময়ে সেখানে উপস্থিত হন কাদমের এক ছেলে। শুধুমাত্র বাবার মুখাগ্নি করে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরের দিন সকালে শ্মশান গিয়ে অস্থি নিয়ে আসে ওই আট যুবকই। হিন্দু রীতি মেনে সেই অস্থি তারা ভাসিয়ে দেয় নদীতে। কাদমের স্ত্রীর দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রতিবেশীরা। এইসময়


মন্তব্য