kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্তানরা রাজী নয়; হিন্দু বৃদ্ধের শেষকৃত্য করলেন ৮ মুসলিম তরুণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০৬



সন্তানরা রাজী নয়; হিন্দু বৃদ্ধের শেষকৃত্য করলেন ৮ মুসলিম তরুণ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জল দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করলেন ভারতের মহারাষ্ট্রের ৮ তরুণ। এই তরুণদেরই একটি অংশ যারা অন্ধকারের বাসিন্দা; বোমা মেরে, গলা কেটে, রগ কেটে মানুষ হত্যা করছে।

এখনও এমন মানুষ বাস করেন যাঁদের কাছে ধর্মের থেকে বড় মানুষের প্রতি দায়িত্ব, কর্তব্য। সাম্প্রদায়িকতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জিতে যায় মনুষ্যত্ব। সেই তরুণদেরকে নিয়েই আশা, তরুণদেরকে নিয়েই স্বপ্ন দেখে সকল দেশ ও জাতি।

মহারাষ্ট্রের থানে জেলার একটি ছোট্ট শহর মুমব্রার আলমাস কলোনির এক দল মুসলিম তরুণ নিজেদের কাঁধে তুলে নেন এক হিন্দু বৃদ্ধের সত্কাররের দায়িত্ব। রবিবার রাতে নিজের বাড়িতেই মারা যান একটি ফ্ল্যাটের ওয়াচম্যান ৬৫ বছরের ওয়ামান কাদম। তখন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী। স্বামীর মৃত্যুর খবর দুই সন্তান এবং অন্যান্য আত্মীয়দের জানালেও তারা স্পষ্ট বলে দেন, রাতে তাদের পক্ষে আসা সম্ভব নয়।

তখন ওয়ামানের অসহায় স্ত্রী ভিতাভা পাড়ার এই তরুণদের অনুরোধ করেন তার স্বামীর অন্ত্যেষ্টিতে সাহায্য করার জন্যে। এক কথায় এগিয়ে আসেন আট তরুণ, খালিল পাওনে, ফাহাদ দাবির, নাওয়াজ দাবির, রাহিল দাবির, শাবান খান, মাসুক খান, ফারুক খান এবং মহম্মদ কাসম শেখ। তারাই যোগাযোগ করেন পুরোহিতের সঙ্গে এবং ডাক্তারের থেকে ডেখ সার্টিফিকেটও এনে দেন। ঐদিন সকালে এই আট তরুণই সেই বৃদ্ধকে চিকিত্সার জন্যে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। চিকিৎসা শেষে সন্ধায় বাড়ি ফিরিয়ে আনেন। পরে রাতে অবস্থার অবনতি হয় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই বৃদ্ধ মারা যান।

বৃদ্ধের স্ত্রী বলেছেন, 'আমার স্বামী কোনোদিন ভাবতেও পারেননি তার মৃত্যুর পরে এত ভালোবাসা ও সম্মান পাবেন। ওর শেষযাত্রায় সঙ্গী হয়েছিল ৪০ জন মুসলিম তরুণ। ওরাই দায়িত্ব নিয়ে সব কাজ করেছে। ওরা যখন খুব ছোট ছিল, তখন থেকে চিনি। ”

রাত তিনটার সময়ে কাছের একটি শ্মশানে বৃদ্ধের মৃতদেহ নিয়ে যান সেই তরুণের দল। মুখাগ্নি করতে যাওয়ার সময়ে সেখানে উপস্থিত হন কাদমের এক ছেলে। শুধুমাত্র বাবার মুখাগ্নি করে তিনি সেখান থেকে চলে যান। পরের দিন সকালে শ্মশান গিয়ে অস্থি নিয়ে আসে ওই আট তরুণই। হিন্দু রীতি মেনে সেই অস্থি তারা ভাসিয়ে দেয় নদীতে। এরপর কাদমের স্ত্রীর দেখভালের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে প্রতিবেশীরা।


মন্তব্য