kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন

সারা বিশ্বে দুই কোটি আশি লক্ষ শিশু গৃহহীন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:২২



সারা বিশ্বে দুই কোটি আশি লক্ষ শিশু গৃহহীন

ইউনিসেফের সর্বশেষ বিবরণ অনুযায়ী বিশ্বব্যাপি ২৮ মিলিয়ন শিশু সহিংস সংঘাতের কারণে উদ্বাস্তু হতে বাধ্য হয়েছে৷ প্রায় সমান সংখ্যক শিশু সুন্দর জীবনেরআশায় ঘরছাড়া৷

বিশ্বের জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশই শিশু ও অপ্রাপ্তবয়স্ক৷ কিন্তু উদ্বাস্তুদের প্রায় অর্ধেকই শিশু বলে ইউনিসেফের রিপোর্টে প্রকাশ৷ রিপোর্টটি প্রকাশিত হয় গত মঙ্গলবার, ৬ই সেপ্টেম্বর৷ রিপোর্টের শিরোনাম, ‘ছিন্নমূল: উদ্বাস্তু ও অভিবাসী শিশুদের ক্রমবর্ধমান সংকট'৷ ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী গত এক দশকে ঘরহারা শিশুদের সংখ্যা বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে৷

বাস্তুহারা বা গৃহহীনদের মধ্যে প্রায় এক কোটি শিশু উদ্বাস্তু ও দেশছাড়া; এছাড়া দশ লাখ শিশু রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী৷ বাকি এক কোটি সত্তর লাখ শিশু সংঘাতের কারণে স্বদেশেই ঘরছাড়া৷ প্রতিবেনটিতে আরো বলা হয়েছে, শিশু উদ্বাস্তুদের ৪৫ শতাংশই সিরিয়া ও আফগানিস্তানের৷ ঘরছাড়া শিশুরা ক্রমেই আরো বেশি করে একা একা যাত্রা করছে, অর্থাৎ বাবা-মা বা অভিভাবক ছাড়াই দেশ ছাড়ছে৷ ২০১৫ সালে এক লক্ষ অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক ৭৮টি দেশে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছে; এই সংখ্যা ২০১৪ সালের তুলনায় প্রায় তিনগুণ৷ রিপোর্টে অনুমান করা হয়েছে যে, আরো প্রায় দু'কোটি শিশু দারিদ্র্য ও ‘গ্যাং ওয়ারফেয়ার' বা দলগত সহিংসতার কারণে অভিবাসী হয়েছে৷

উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের সন্তানরা যাত্রাপথে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি ও বিপদের সম্মুখীন হয়, যেমন সাগর পাড়ি দেবার সময় নৌকাডুবি; এছাড়া অপুষ্টি, জলাভাব, অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যা৷ অন্য দেশে পৌঁছানোর পরেও প্রায়শই তাদের বৈষম্য ও বহিরাগত বিদ্বেষের শিকার হতে হয়৷ ইউনিসেফ আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রসমাজের প্রতি এসব শিশুর জন্য সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার ব্যবস্থা করতে বলেছে৷ অপরদিকে সরকারবর্গকে দেখতে হবে, অগণিত উদ্বাস্তু ও অভিবাসীরা ঘর ছাড়ছেন কেন এবং সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে৷
‘‘আমরা (আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রসমাজের কাছ থেকে) স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি ও বাস্তব পদক্ষেপ দেখতে চাই-'' নিউ ইয়র্কে সাংবাদিকদের বলেছেন ইউনিসেফের সহকারী কার্যনির্বাহী পরিচালক জাস্টিন ফরসাইথ৷ তিনি আরো বলেন,‘‘এই সংকটে দায়িত্ব বণ্টন ঠিকমতো হচ্ছে না: প্রতিবেশি বা দরিদ্রতম দেশগুলিই সবচেয়ে বড় ভাগটা বহন করছে৷''
আগামী ১৯শে ও ২০শে সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে একটি নয়,উদ্বাস্তু সমস্যা সংক্রান্ত দু'টি শীর্ষবৈঠক অনুষ্ঠিত হবে৷ জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল সে দু'টি শীর্ষবৈঠকে উপস্থিত থাকবেন না৷ তা সত্ত্বেও ফরসাইথ উদ্বাস্তু সংকটে ম্যার্কেলের ভূমিকাকে বাকি বিশ্বের পক্ষে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে তুলে ধরেছেন৷
‘‘এ ধরনের নীতিসম্পন্ন একজন চ্যান্সেলরকে পেয়ে জার্মানদের গর্বিত হওয়া উচিৎ,'' বলেছেন জাস্টিন ফরসাইথ৷


মন্তব্য