kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্বাধীনতার দাবিতে টুইটারে সৌদি নারীদের আন্দোলনের ঝড়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:০৫



স্বাধীনতার দাবিতে টুইটারে সৌদি নারীদের আন্দোলনের ঝড়

একজন প্রাপ্তবয়স্ক পেশাদার নারীকে ভ্রমণ বা কাজের জন্য বাড়ির বাইরে যেতে হলে স্বামী, ভাই বা ছেলের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। অথবা আদৌ তিনি বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ করতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারেই অনুমতি নিতে হয়।

এই পরিস্থিতি সৌদি নারীদের দৈনন্দিন জীবনের বাস্তবতা। যেখানে কোনো পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া নারীরা তাদের জীবনের কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

আর হ্যাঁ, অনেক সময় সে পুরুষটি হয়ত ওই নারীরই গর্ভে জন্ম নিয়েছেন এবং তার নিজ বাড়িতে রেখেই তাকে লালন-পালন করা হয়েছে।

আবার অনেক সময় ওই পুরুষ অভিভাবকটি হন একজন অত্যাচারী অভিভাবক। যিনি তার পুরুষালি ক্ষমতার অপব্যবহার করে তার নিয়ন্ত্রণে থাকা নারীর কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন। বা আরো গুরুতর কোনো অত্যাচার চালান।

পুরষ অভিভাবকের অনুমোদন শুধু কাজ, ভ্রমণ বা বিয়ের জন্যই দরকার হয় না। বরং কোনো নারীকে জেল থেকে ছাড়া পেতে হলেও তার পুরুষ অভিভাবকের অনুমোদন লাগে! আরো অদ্ভুত হলো, পুলিশে অভিযোগ দায়ের, স্বাস্থ্যসেবা বা জরুরি কোনো সেবা পেতে গেলেও কোনো নারীকে তার পুরুষ অভিভাবকের লিখিত অনুমোদন নিতে হয়।

এই অমানবিক দশা থেকে মুক্তি পেতে এখন হাজার হাজার নারী সামাজিক গণমাধ্যম টুইটারে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন। ওই আন্দোলনের লক্ষ্য হলো পুরুষ অভিভাবকদের অধীনে নারীদেরকে কার্যত দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করে বা শিশু বানিয়ে রাখা থেকে মুক্ত করতে সৌদি সরকারকে চাপ প্রয়োগ করা।

আন্দোলনটি প্রাথমিকভাবে শুরু করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। #টুগেদারটুএন্ডমেলগার্ডিয়ানশিপ এই হ্যাশট্যাগে আন্দোলনটির সূচনা করে এইচআরডাব্লিউ।

ওই আন্দোলনের একটি আরবি সংস্করণও শিগগিরই শুরু হয়। যা অল্প সময়ের মধ্যেই ১ লাখ ৪০ হাজার টুইটার ব্যবহারকারীকে যুক্ত করতে সক্ষম হয়। এর পাশাপাশি #স্টপএনস্লেভিংসৌদিওমেন হ্যাশট্যাগেও আরেকটি আন্দোলন চলছে।

সম্প্রতি সৌদি সরকার দেশটির নারীদের মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে কিছু ছোট ছোট পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরিপ্রেক্ষিতে এই আন্দোলনের সূচনা হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে সৌদি নারীদেরকে অবশেষে পৌরসভা নির্বাচনে ভোটের অধিকার দেওয়া হয়। ওই নির্বাচনে নারীরা প্রার্থী হিসেবেও অংশগ্রহণ করার সুযোগ পায়। এবং বেশ কয়েকজন নারী কয়েকটি আসনে জয়লাভও করেন। তবে পুরুষদের তুলনায় তা খুবই নগন্য।

কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনে জয়ী হওয়া নারীদেরকে পুরুষ কাউন্সিল সদস্যদের কাছ থেকে আলাদা থাকার আদেশ দিয়ে সরকার তাদের ওপর একটি পাল্টা আঘাত হানে। তাদেরকে শুধু ভিডিওর মাধ্যমে বৈঠকে অংশগ্রহণের আদেশ দেওয়া হয়।

সৌদি আরবের নারীদের জন্য গাড়ি চালানো এখনো নিষিদ্ধ। তারা নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলতে পারেন না। আর বাজারে যাওয়ার সময়ও তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে সঙ্গে একজন পুরুষ অভিভাবক রাখতে হয়।

চলতি বছরের এপ্রিলে সৌদি আরব 'ভিশন ২০৩০' নামের একটি উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করেছে। এতে নারীদের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, নিজেদের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করা এবং সৌদি আরবের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য তাদেরকে সক্ষম করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সহ যারা সৌদি আরবের নারীদের পরিস্থিতির উন্নয়নে সরব হয়েছে তাদের মতে, প্রধানত পুরুষদের অভিভাবকত্বের শৃঙ্খলসহ অন্যান্য বৈষম্যমূলক নীতি দেশটির নারীদের পিছিয়ে পড়ার প্রধান কারণ।
সূত্র : দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড


মন্তব্য