kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ওবামার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ চীনা কর্মকর্তাদের

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২২:৩১



ওবামার সফরসঙ্গীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ চীনা কর্মকর্তাদের

এত বড় মওকা পেয়ে কখনো সুযোগ হাতছাড়া করতে পারে চীন? তার জন্য শিকেয় উঠলই-বা কূটনেতিক শিষ্টাচার! অন্য দেশের প্রেসিডেন্ট দেশে এলে যেভাবে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে হয়, সে কথা ভুলে গেলেই বা কী ক্ষতি হয় চীনের? না হয় কণ্ঠরোধই করা হল সংবাদ মাধ্যমের! আরও একবার। না হয় সাংবাদিক বলে অভব্য আচরণের হাত থেকে রেহাই পেলেন না নারীরাও!

‘জি-২০’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা শনিবার হাংঝাউ বিমানবন্দরে নামলে, নিরাপত্তার অজুহাতে যাবতীয় কূটনৈতিক শিষ্টাচারকে শিকেয় তুলতে একটুও ভুল করেনি চিন! বেজিংয়ের যেটা ‘স্বাভাবিক’ মনে হয়েছে, সেটাই অস্বাভাবিক ঠেকেছে বিদেশি অতিথিদের কাছে।

আর সে কথা বলতে গেলে চীনের শীর্ষ স্তরের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী অতিথি সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের আমলাদের দু’চার কথা শুনিয়ে দিয়েছেন। অতিথি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনেই, বেজিং বিমানবন্দরে। বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, ‘ড্রাগনের দেশে’ এটাই কেতা। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সামনেই চিৎকার করে এক নারী সাংবাদিককে বেজিংয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘এটাই চীন। এটাই আমাদের দেশ। আর এটা আমাদের বিমানবন্দর। ’

‘জি-২০’ জোটের বৈঠকে যোগ দিতে বিভিন্ন রাষ্ট্রপ্রধান আসছেন বলে হাংঝাউ বিমানবন্দরের বজ্র আঁটুনি ছিল এমনটাই, যাতে কোনো ‘ফস্কা গেরো’ না থেকে যায়। পুলিশ আর নিরাপত্তা অফিসারদের দিয়ে গোটা বিমানবন্দরটাকে এমন ভাবে ঘিরে ফেলা হয়েছে, যাতে মাছিও গলতে না পারে! কিন্তু সেটা করতে গিয়ে বেজিংয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন, অতিথি রাষ্ট্রপ্রধান আর তাঁদের সফর-সঙ্গীদের মধ্যে ‘মাছি’ খোঁজাটা কোনো কূটনৈতিক শিষ্টাচারে পড়ে না। তাই মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমান ‘এয়ারফোর্স-ওয়ান’ হাংঝাউ বিমানবন্দরে নামতেই চীনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রায় হামলেই পড়েন বিমানটির ওপর। বিমানের সিঁড়ি দিয়ে নামছিলেন প্রেসিডেন্ট ওবামা। তার বেশ কিছুটা পরে একে একে বিমান থেকে বেরিয়ে আসতে দেখা যায় আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইস আর হোয়াইট হাউসের মিডিয়া সেলের সাংবাদিক ও কর্তাব্যক্তিদের। সব বিদেশ সফরেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হন তাঁরা। আর তাঁদের কাজটা শুরু হয়ে যায় বিমানের দরজা খুলে নামার জন্য প্রেসিডেন্ট সিঁড়িতে পা রাখার সঙ্গে সঙ্গেই। শনিবার সেটাই করতে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্টের সফর-সঙ্গী মার্কিন সাংবাদিকরা। চীনের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেটা দেখে সঙ্গে সঙ্গে কিছুটা ধমকের সুরে তাঁদের বলেন, ‘কলম-টলম বন্ধ করুন। এখানে ও সব চলবে না। আপনারা ওঁর (ওবামা) থেকে দূরে চলে যান। ’ তাতে কিছুটা বিব্রত হয়ে হোয়াইট হাউসের এক নারী অফিসার বলেন, ‘এটা মার্কিন বিমান। আর উনি (সামনে ওবামাকে দেখিয়ে) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। ’

‘তো? তাতে হলটা কী?’পাল্টা জবাব দেন চীনা নিরাপত্তা কর্মকর্তা। তিনি চিৎকার করে বলে ওঠেন, ‘এটাই চীন। এটা আমাদের দেশ। এটা আমাদের বিমানবন্দর। ’ তার পর হোয়াইট হাউসের ওই নারী অফিসারের কাঁধে ঝোলা হ্যান্ডব্যাগটি নেড়েচেড়ে দেখেন চীনা নিরাপত্তা অফিসার। মার্কিন প্রেসিডেন্টের থেকে তাঁদের দূরত্ব তৈরি করতে ওই চীনা নিরাপত্তা অফিসার একটি নীল দড়ি দিয়ে ‘ব্যারিকেড’ গড়ে তোলেন! সেই সময় মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রাইসকে কোনো কারণে ইশারায় ডাকেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। রাইস দড়ি তুলে ওবামার কাছে যাওয়ার চেষ্টা করতেই তাঁর পথ আটকান ওই চীনা নিরাপত্তা অফিসার। রাইসের সঙ্গে কিছুটা বচসাও হয় ওই চীনা অফিসারের। তখন মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের কর্তারা এসে ওই চিনা নিরাপত্তা অফিসারকে বোঝাতে থাকেন। তার পর রাইস যেতে পারেন ওবামার কাছে। রাইস পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটবে, ভাবতেও পারিনি। ’

সূত্র: আনন্দবাজার


মন্তব্য