kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু নেতাজির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:৫৯



বিমান দুর্ঘটনাতেই মৃত্যু নেতাজির

বিমান দুর্ঘটনাতেই ১৮ আগস্ট ১৯৪৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল নেতাজির। জাপান সরকারের তদন্ত রিপোর্টেই তার প্রমাণ মিলেছে।

নেতাজির মৃত্যু নিয়ে তদন্ত করেছিল জাপান সরকারও। ১৯৫৬ সালের জানুয়ারি মাসে সেই তদন্ত শেষ করে টোকিও। ভারতীয় দূতাবাসের হাতে সেই রিপোর্টও তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই এই রিপোর্ট ‘‌ক্লাসিফায়েড’‌। গোপনীয়। কোনও দেশ সেই রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। এ মাসের শেষে সেই রিপোর্ট প্রকাশ করতে চলেছে জাপান সরকার। তার আগে Bosefiles.info নামে লন্ডনের একটি ওয়েবসাইটে সেই রিপোর্টের অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে। মূল তদন্ত রিপোর্ট ছিল সাত পাতার, জাপানি ভাষায় লেখা। পরে ইংরেজি অনুবাদে তাই হয়ে যায় ১০ পাতার। রিপোর্ট অনুযায়ী, ‘‌১৮ আগস্ট যে বিমানে বোস ছিলেন সেটি মাটিতে আছড়ে পড়ে। তিনি পুড়ে যান। তাঁকে দুপুর তিনটে নাগাদ তাইপেই’র সেনা হাসপাতালের নানমোন শাখায় ভর্তি করা হয়। সন্ধে সাতটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়। ’‌ ২২ আগস্ট তাইপেই পৌরসভার অন্ত্যেষ্টিস্থলে তাঁকে দাহ করা হয়। দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, ‘‌মাটি ছেড়ে ওঠার পরই, বিমানটি যখন মাত্র ২০ মিটার উচ্চতায়, তখন বাঁদিকের ডানার তিন পাখার প্রপেলারের একটি ধাতব পাখা ভেঙে যায়। সেদিকের ইঞ্জিনটি বন্ধ হয়ে যায়। ভারসাম্য হারিয়ে জমিতে আছড়ে পড়ে বিমান। মুহূর্তেই তাতে আগুন ধরে যায়। ’‌ সুভাষচন্দ্রের দেহ পুড়ে গিয়েছিল। কর্নেল হবিবুর রহমান এবং অন্যরা নেতাজির পোশাক খুলে দেন।   হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর সন্ধে ৭টা পর্যন্ত নেতাজি সুস্থই ছিলেন। এমনকী তিনি হবিবুর রহমানের সঙ্গে কথাও বলছিলেন। হঠাৎ তাঁর অবস্থার অবনতি হয়। মারা যান সুভাষচন্দ্র। রিপোর্টে রয়েছে ঘটনার চারটি স্কেচ। একটিতে বিমানবন্দরে যেখানে দুর্ঘটনা হয়েছিল, বিমানের ভেতরে যাত্রীদের বসার স্থান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সুভাষচন্দ্র এবং আর একটিতে সুভাষচন্দ্রের মৃত্যুর সময়ের ছবি। ১৩ জনের বয়ানের ভিত্তিতে এই রিপোর্ট তৈরি করা হয়। যার মধ্যে রয়েছেন দুর্ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী এবং নেতাজির দুই চিকিৎসক। Bosefiles.info–র প্রতিষ্ঠাতা আশিস রায় বলেছেন, ‘‌আরও একবার প্রমাণিত হল বিমান দুর্ঘটনাতেই নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল। নেতাজির মেয়ে অনিতা পাফের দাবি মেনে এবার ভারত সরকারের উচিত তাঁর চিতাভস্ম টোকিও থেকে ভারতে নিয়ে যাওয়া। ’

সূত্র: আজকাল


মন্তব্য