kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার খবর

শ্রমিক ধর্মঘটে সারা ভারত অচল করে দেয়ার হুমকি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ২১:৫৭



শ্রমিক ধর্মঘটে সারা ভারত অচল করে দেয়ার হুমকি

ভারতের প্রায় সব প্রধান শ্রমিক সংগঠন একযোগে ধর্মঘটের ডাক দিয়ে আগামিকাল সারা দেশ অচল করে দেওয়ার কর্মসূচী নিয়েছে।
ট্রেড ইউনিয়ন নেতারা দাবি করছেন, বেতন-ভাতা বাড়ানো ও শ্রমিক অধিকারের দাবিতে পনেরো কোটিরও বেশি শ্রমিক-কর্মচারী এই ধর্মঘটে অংশ নেবেন - এবং ব্যাঙ্কিং, কয়লা, পরিবহন-খাত সহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চল কাল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।


সোয়া দুবছর আগে ক্ষমতায় আসা নরেন্দ্র মোদি সরকারের জন্য অর্থনৈতিক খাতে এত বড় চ্যালেঞ্জ আগে আসেনি - এবং ধর্মঘটের ঠিক আগে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি বাড়ানো কিংবা বোনাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেও সরকার এই 'ভারত বনধে'র ডাক ঠেকাতে পারেনি।
নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকার একতরফাভাবে শ্রম-আইনে সংস্কার চালাচ্ছে ও শ্রমিকদের সুবিধে ছাঁটাই করে চলেছে, এই অভিযোগে আগামিকাল ২রা সেপ্টেম্বর চব্বিশ ঘন্টার ভারত বনধে সামিল হচ্ছে দেশের প্রধান দশটি ট্রেড ইউনিয়ন।
গত বছরও ঠিক একই তারিখেই ধর্মঘট ডেকেছিলেন তারা, কিন্তু এবারের ভারত বনধ ধারে ও ভারে আরও বেশি প্রভাব ফেলবে - বিবিসিকে বলছিলেন এই ট্রেড ইউনিয়নগুলোর যৌথ প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক তপন সেন।
মি সেনের কথায়, "গত বছরের তুলনায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কলকারখানা বন্ধ হচ্ছে, লোকে কাজ হারাচ্ছে, বেতন কমছে - এবং সবচেয়ে বড় কথা সরকারি মদতে শ্রম আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। ফলে গতবার যেখানে পনেরো কোটি শ্রমিক ধর্মঘটে যোগ দিয়েছিলেন এবারে সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই আমাদের বিশ্বাস। "
বামপন্থী শ্রমিক সংগঠন সিটুর প্রেসিডেন্ট এ কে পদ্মনাভনও জানাচ্ছেন, দেশে যে স্বীকৃত বারোটি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন আছে, তার মধ্যে দশটি মিলেই এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
শাসক দল বিজেপি-র সমর্থক ট্রেড ইউনিয়ন ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ বা বিএমএস-ও এতে সামিল ছিল, কিন্তু তারা শেষ মুহুর্তে পিছিয়ে এসেছে।
তারপরেও অবশ্য ধর্মঘট সর্বাত্মক হবে বলেই দাবি শ্রমিক নেতা ও বামপন্থী পার্লামেন্টারিয়ান তপন সেনের। তিনি বলছেন কোলিয়ারি, ব্যাঙ্কিং বা টেলিকম খাতে ব্যাপক ধর্মঘট হবে বলে তারা নিশ্চিত।
তা ছাড়া কর্নাটকে বা হরিয়ানাতে গুরগাঁওয়ের মতো যে সব ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্লাস্টার আছে, সেই সব শিল্পাঞ্চল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে এবং অসংগঠিত খাতের শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে চাক্কা জ্যাম করবেন বলেও শ্রমিক নেতারা জানাচ্ছেন।
দেশে আর্থিক সংস্কারের প্রক্রিয়ায় এই হরতাল বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে, এই আশঙ্কায় ভারত বনধ ঠেকানোর জন্য শেষ মুহুর্তেও চেষ্টা চালিয়ে গেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
ধর্মঘট শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগেও শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য বাড়তি সুযোগ সুবিধা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।
মি জেটলি জানান, "শ্রমমন্ত্রীর নেতৃত্বে অ্যাডভাইসরি বোর্ড যে সুপারিশ করেছিল, তা মেনে নিয়ে সরকার শ্রমিকদের ন্যূনতম পারিশ্রমিক রোজ ৩৫০ রুপি করছে। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকারের সব নিচুতলার কর্মীদের গত দুবছরের বকেয়া বোনাসও অবিলম্বে মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। "
কিন্তু এত কিছুর পরও কেবল বিএমএস ছাড়া আর কাউকেই ধর্মঘটের পথ থেকে সরকার সরিয়ে আনতে পারেনি।
আর বামপন্থীরা তো সরাসরি বলছেন, শেষ মুহুর্তের এই সব প্রতিশ্রুতি শ্রমিকদের সঙ্গে ধোঁকাবাজি।
তপন সেন বলছিলেন, "এই ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর ঘোষণায় কেন্দ্রের ৭০ লক্ষ কর্মচারীও উপকৃত হবেন না। আর আমরা দেশের আইনসঙ্গতভাবে ৪০ কোটি শ্রমিক-কর্মচারীর ন্যূনতম মজুরি বাড়ানোর কথা বলছি। সরকারের ঘোষণা আসলে দেশের শ্রমিকদের সঙ্গে অতি নিম্নস্তরের একটা প্রতারণা!"
ফলে আগামিকাল ভারতের প্রায় সব কয়লাখনি বা ব্যাঙ্ক বন্ধ থাকবে, কারখানার গেট খুলবে না গুরগাঁও বা চেন্নাইয়ের শিল্পাঞ্চলে।
নরেন্দ্র মোদির সরকারের সঙ্গে শ্রমিকদের নতুন সংঘাতের ক্ষেত্রও তৈরি করে দেবে আগামিকালের এই ভারত বনধ।


মন্তব্য