kalerkantho


স্ত্রীকে ক্রীতদাসী বানিয়ে অত্যাচার, বর্বর স্বামীর কারাদণ্ড

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ এপ্রিল, ২০১৬ ০০:৩৯



স্ত্রীকে ক্রীতদাসী বানিয়ে অত্যাচার, বর্বর স্বামীর কারাদণ্ড

স্ত্রীর সঙ্গে ক্রীতদাসীর মতো আচরণ করায় এই প্রথম কোনও ব্রিটিশ নাগরিকের কারাদণ্ড হল।

আদালত সূত্রে খবর, সফরাজ আহমেদ নামে বছর ৩৪-এর ওই ব্রিটিশ নাগরিক স্ত্রীর সঙ্গে কেনা গোলামের মতো আচরণ করতেন।

মানসিক নির্যাতনের পাশাপাশি চলত শারীরিক নির্যাতনও। স্ত্রীকে বাধ্য করতেন তাঁর ইচ্ছের বিরুদ্ধে যাবতীয় কাজ করতে।

দোষী সফরাজ অবশ্য শুরুতে অভিযোগ অস্বীকার করে ছিলেন। পরে, জেরার মুখে ভেঙে পড়ে নিজের দোষ স্বীকার করে নেন। ব্রিটিশ আদালত তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করে দু-বছরের কারাদণ্ড দেয়।

স্ত্রীকে অত্যাচারের জন্য কারাবাসের নজির নেই ব্রিটেনে। সেদিক থেকে আদালতের এই রায় যথেষ্ট তাত্‍‌পর্যপূর্ণ।

২০০৬ সালে পাক অধ্যুষিত পঞ্জাবে সফরাজ আহমেদের সঙ্গে বিয়ে হয় সুমারা ইরামের। দেখাশোনা করে তাঁদের বিয়ে।

২০১২-য় তাঁরা ব্রিটেনে আসেন। অভিযোগ, এর পর থেকেই শুরু হয় অত্যাচার। সফরাজ স্ত্রীকে দিয়ে অমানুষিক পরিশ্রম করাতেন। তাতে আপত্তি করলে, জুটত মার। অকথ্য গালিগালাজও।

কখনও বেড়ালের খাবারের কৌটো স্ত্রীর মুখের সামনে ছুড়ে দিতেন সফরাজ। কখনও স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় বলতেন, যাও গিয়ে গাড়ির তলায় চাপা পড়ে মরো। কখনও বলতে শোনা যেত তোমার নদীতে গিয়ে ঝাঁপ দিয়ে মরা উচিত।

স্ত্রী যাতে পালাতে না-পারেন, তার জন্য তাঁকে ঘরের মধ্যে আটকেও রাখা হত।

২০১৪-র ফেব্রুয়ারিতে আহমেদ তাঁর স্ত্রীর নাক মেরে ভেঙে দেন। স্বামী প্রাণে মেরে ফেলতে পারেন আশঙ্কা করে, সেসময় ছুট্টে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন ইরাম। পরে প্রতিবেশীরা তাঁকে জোর করে বাড়িতে ফেরত পাঠান। ঠিকমতো ইংরেজি না-জানায়, সে সময় স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় ফরমাল অভিযোগ জানাতে পারেননি। যে কারণে, পুলিশি হেফাজত থেকে ছাড়া পেয়ে যান স্বামী। এই ঘটনার মাস ছয়েক পর অত্যাচারের জেরে ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করেন মহিলা।

এর পর আর রেহাই পাননি। জেল হয় ক্রাউন আদালত আহমেদকে দু-বছরের কারাদণ্ড দেয়।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য