kalerkantho

শনিবার । ২১ জানুয়ারি ২০১৭ । ৮ মাঘ ১৪২৩। ২২ রবিউস সানি ১৪৩৮।


উড়ালসেতু ভেঙে পড়বে, সাবধান করেছিলেন রেলওয়ের প্রকৌশলী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ এপ্রিল, ২০১৬ ১৩:২১



উড়ালসেতু ভেঙে পড়বে, সাবধান করেছিলেন রেলওয়ের প্রকৌশলী

কলকাতায় নির্মাণাধীন বিবেকানন্দ উড়ালসেতুটি যে ভেঙে পড়বে, তিন মাস আগেই সাবধান করেছিলেন রেলওয়ের এক প্রকৌশলী। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি দপ্তরে কর্মরত তার বন্ধু অপর এক প্রকৌশলীকে ফোন করে এ সাবধানবাণী দিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে এ তথ্য। প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়, নির্মাণাধীন সেতুটির নিচ দিয়ে যাচ্ছিলেন স্টিল গার্ডার ব্রিজ নির্মাণে অভিজ্ঞ রেলওয়ের ওই প্রকৌশলী। কৌতুহলবশত এর পিলারগুলোর দিকে নজর গিয়েছিল তার। সঙ্গে সঙ্গে আঁতকে উঠে ফোন করেন বন্ধুকে। সরাসরি বলে দেন, এ সেতু ভেঙে পড়তে চলেছে।

ফরেনসিক বিভাগের কর্মকর্তা চিত্রাঙ্ক সরকারের মতে, ৪০ নম্বর পিলারটা থেকেই গোলমালের শুরু। এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন রাজ্য প্রশাসনের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। তার মতে, সেতুর অন্য অংশে দুই স্তম্ভের মধ্যে দূরত্ব কম। কিন্তু ৪০ আর ৪১ নম্বরের মধ্যে দূরত্বটা বেশি। কিন্তু তার জন্য ৪০ নম্বর স্তম্ভটি যত শক্ত হওয়ার কথা ছিল, তা সেভাবে করা হয়নি। তাই ঢালাইয়ের সঙ্গে সঙ্গেই স্তম্ভের উপরে থাকা বিমটি সরে গেছে। আর তাতেই ভারসাম্য হারিয়ে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়েছে স্তম্ভের ওপরে থাকা উড়ালপুলের পুরো অংশটি।

এদিকে, উড়ালসেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় এবার তৃণমূলের নাম উঠে আসতে শুরু করেছে। যে অংশটি ভেঙে পড়েছে, তার সাব-কন্ট্রাক্ট পেয়েছিল সন্ধ্যা এন্টারপ্রাইজ। এর কর্ণধার রজত বক্সী স্থানীয় তৃণমূল নেতা সঞ্জয় বক্সীর ভাতিজা। আর সঞ্জয়ের স্ত্রী স্মিতা বক্সী একই এলাকার বিধায়ক।

কলকাতার গিরিশ পার্ক এলাকায় সন্ধ্যা এন্টারপ্রাইজের কার্যালয়। বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে যখন বিবেকানন্দ উড়ালসেতুটি ভেঙে পড়ে, তখনও এ কার্যালয় খোল ছিল। দুর্ঘটনার খবর বাতাসে ভাসতেই বন্ধ হয়ে যায় এখানকার শাটার।

 


মন্তব্য