kalerkantho

26th march banner

নির্বাচনী হাওয়ায় উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ২৩:৪১



নির্বাচনী হাওয়ায় উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গ

চার এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন। তাই পশ্চিমবঙ্গের সর্বত্র এখন নির্বাচনী উত্তপ্ত হাওয়া। প্রায় সকল দলের নেতারা এখন পশ্চিমবেেঙ্গ। চলছে সকাল থেকে রাত অবধি সভা-সমাবেশ-মিছিল। এই নির্বচনী হাওয়াকে গরম করে তুলেছে শাসক ও বিরোধীদলের আক্রমণাত্মক ভাষায় বক্তৃতা-বিবৃতি। কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলছে না।
সারদা কেলেংকারী, দলের মন্ত্রী-এমপিদের ঘুষ নেয়ার ভিডিও প্রকাশ এবং ফ্লাইওভার ভেঙে মানুষ মারা যাবার ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে শাসক দল তৃণমূলকে বেশ চাপের মধ্যে ফেলে দিয়েছে। এই ইস্যুগুলো নির্বাচনে সরকারি দলকে ঘায়েল করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। তাছাড়া নারদ-কা-সহ এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের আক্রমণ, সব কিছু মিলেই চাপ তৈরি হয়েছে মমতার ওপর।
মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও বিরোধী দলকে জবাব দিচ্ছেন ঝাঁঝালো স্বরে। তিনি নির্বাচনের পর বিরাধীদলকে ইঞ্চি ইঞ্চি করে কুৎসার জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছেন। জঙ্গলমহলে একাধিক জনসভা করেছেন তিনি।
হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মমতা। প্রথমে তিনি বলেন, ‘ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে বুঝে নেব। আমি বন্দুক আমদানি করতে দেব না। গ্রাম দখল করতে দেব না। ’
পরে মমতার মন্তব্য, ‘তোমাদের (বিরোধী) অনেক ভদ্রতা দেখিয়েছি। এবার ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে জবাব নেব। কুৎসা করার, অপপ্রচার করার উত্তর তোমাদের দিতে হবে।
এদিকে কংগ্রেস সহ-সভাপতি রাহুল গান্ধীর সমাবেশ সফল করার জন্য মাঠে নেমেছেন রাজ্যের কংগ্রেস ও সিপিআই (এম) কর্মীরা। রাজ্যে প্রথম দফায় প্রচারে এসে আগামীকাল শনিবার বর্ধমানের কুলটি ও দুর্গাপুরে সভা করার কথা রাহুলের। বামদের সঙ্গে আসন সমঝোতায় এবার কুলটি দুর্গাপুর পশ্চিম আসনটি পেয়েছে কংগ্রেস। রাহুলের সভায় হাজির থাকার জন্য কংগ্রেসের পক্ষে বামফ্রন্ট নেতৃত্বকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। আলিমুদ্দিন থেকে বর্ধমান জেলা সিপিএমের কাছে নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে, কুলটির সভায় দলের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা আসানসোলের প্রাক্তন সাংসদ বংশগোপাল চৌধুরী ও দুর্গাপুরের সভাটিতে পান্ডবেশ্বরের দলীয় প্রার্থী গৌরাঙ্গ চট্টোপাধ্যায় হাজির থাকবেন। শুধু প্রতিনিধি পাঠানোই নয়। বিভিন্ন এলাকার সমর্থকদের সভায় নিয়ে যাওয়ার তোড়জোড় থেকে শুরু কংগ্রেস কর্মীদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে পতাকা-ফেস্টুন বাঁধার সব কাজেই নেমে পড়েছেন সিপিএম কর্মীরা।
প্রায় একই চিত্র বাঁকুড়াতেও। সেখানে রাহুল একটিই সভা করবেন এ যাত্রায়। সেই সমাবেশে লোক সমাগমের জন্যও মূল দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছে সিপিএম।
‘নারদ-কা- নিয়ে ক্রমশ মুখ্যমন্ত্রীর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধীরা। এদিন দুর্নীতি প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় সিপিএমকে আক্রমণ করেছেন মমতা। তার কথায়, ‘তৃণমূল একটা নতুন রাজনৈতিক দল। তাকে চোর বলছে! আমি এবার বলি, তোমাদের (সিপিএম) হাজার হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি আমরা তদন্ত করে ছাড়বো। কে কীভাবে বাঁচায় আমি দেখব। ’
চাপ বাড়াতেই কি আরও বেশি আক্রমণাত্মক হচ্ছেন মমতা? তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ একথা মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, চাপ বাড়ার কোনও প্রশ্নই নেই। কারণ, আগের চেয়ে আরও বেশিসংখ্যক আসন পেয়ে এবার ক্ষমতায় আসবে তৃণমূল।


মন্তব্য