kalerkantho


আশ্রয় চান আইএস প্রধান বাগদাদির প্রাক্তন স্ত্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:৩২



আশ্রয় চান আইএস প্রধান বাগদাদির প্রাক্তন স্ত্রী

এক সময় তিনি ছিলেন বর্তমান পৃথিবীর মোস্ট ওয়ান্টেড ম্যান বাগদাদির স্ত্রী। আবু বকর আল বাগদাদি দুর্ধর্ষ ইসলামিক স্টেট (আইএস) জঙ্গি সংগঠনের নেতা।

তার নাম সাজা আল-দুলাইমি। তিনি ২০১৪ সালে সিরিয়া থেকে লেবাননে প্রবেশ করার সময় আটক হন। গত বছর লেবাননের কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর সিএনএন সংযুক্ত সুইডেনের টিভি চ্যানেল ‘এক্সপ্রেস টিভি’তে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে বাদাদির স্ত্রী হিসেবে তিনি তার পুরনো জীবনের গল্প বলেন।
এক্সপ্রেস টিভি ২৮ বছর বয়সী দুলাইমির সাথে লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তের কাছে একটি গোপন জায়গায় কথা বলেন। মজার বিষয় হচ্ছে, দুলাইমি তার সাক্ষাতকারের শুরুতেই বাগদাদি সম্পর্কে বলেন, ‘তিনি মোটেও দুর্ধর্ষ কেউ ছিলেন না, তিনি ছিলেন পরিবারের প্রতি যত্নশীল একজন মানুষ। ’        
দুলাইমির জন্ম ইরাকের একটি মধ্যবিত্ত রক্ষনশীল পরিবারে। তার সাথে যখন বাগদাদির বিয়ে হয় তখন তিনি রক্তক্ষয়ী কোন সন্ত্রাসী ছিলেন না। দুলাইমি বলেন, ‘আমি বিয়ে করেছিলাম একজন সুস্থ সাধারণ মানুষকে। তিনি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। তিনি ছিলেন পারিবারিক একজন মানুষ। তিনি রোজ কাজে যেতেন আবার ফিরে আসতেন ঘরে। ’
তবে দুলাইমি বাগদাদির একমাত্র স্ত্রী ছিলেন। তার আরেকজন স্ত্রী ছিল। দুলাইমি বলেন, ‘তিনি ছিলেন আদর্শ একজন বাবা। তিনি যেভাবে বাচ্চাদের সাথে মিশতেন, তাতে মনে হত তিনি একজন আদর্শ শিক্ষক। তিনি বাচ্চার মায়ের সাথে কিভাবে কথা বলতে হয় তার থেকে ভালো জানতেন বাচ্চার সাথে কিভাবে কথা বলতে হয়। ’  
তবে দুলাইমির সাথে তার তেমন কথাবার্তা হতো না। এর কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে দুলাইমি বলেন, ‘তিনি খানিকটা রহস্যজনক চরিত্রের ছিলেন। তাছাড়া আমি ছিলাম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। কাজেই পরিবেশটা আমার জন্য সহজ ছিল না। দুই স্ত্রীর একত্রে বসবাস করাটা কঠিন। ’
দুলাইমি সেখানে অসুখী ছিলেন। এই কারণেই বোধ হয় ৭ বছর আগেই সমাপ্ত হয়েছিল সম্পর্ক। তিনি গর্ভবতী হওয়ার পরেও পালিয়ে এসেছিলেন বাগদাদির কাছ থেকে। ঠিক কেন তিনি এটা করেছিলেন তার জবাবে দুলাইমি শুধু অসুখী হওয়াটাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।
তবে বাগদাদি তাকে ফিরিয়ে নেয়ার চেষ্টা করেছিল বেশ কয়েকবার। তিনি রাজি হন নি। এমনকি তাকে এটাও জানান নি যে তিনি গর্ভবতী। বাগদাদির সাথে তার শেষ কথা হয় ২০০৯ সালে। এরপর অনেক কিছু ঘটে গেছে। দুলাইমি যে বাগদাদিকে চিনতো সেই বাগদাদি বদলে গেছে। তিনি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে কুখ্যাত জঙ্গি সংগঠনের নেতা যাকে ইউরোপ আমেরিকা হন্যে হয়ে খুঁজছে। হাজারো নিরাপরাধ মানুষের রক্তগঙ্গার দায় এখন তার কাধে।    
দুলাইমি এখন তার মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বিগ্ন। তিনি চান মেয়েকে দেশের বাইরে কোথাও পড়াশুনা করানোর জন্য পাঠাতে। কিন্তু পরিস্থিতি মোটেও সুবিধার না। তিনি বলেন, ‘আমার এখন সবাইকে ভয় লাগে। আমার মেয়েটা দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বাগদাদির সমস্ত কর্মকাণ্ডের দায়ভার এসে বর্তাচ্ছে মেয়ের ঘাড়ে। আমি চাই মেয়েটা যাতে আরব কোন দেশে নয়, বরং ইউরোপের কোন দেশে নিরাপদে থাকতে পারে এবং স্কুলে যেতে পারে। আমি চাই সে যেন শিক্ষিত হয়। তার মা না হয় সন্ত্রাসী বাগদাদির স্ত্রী ছিল, কিন্তু সে তো কোন দোষ করেনি। ’  
সাক্ষাৎকারের শেষে দুলাইমি বলেন, এটা ভাবতেই তার কষ্ট হয় যে, মানুষ তাকে সবসময় বাগদাদির সাবেক স্ত্রী বলেই জানবে। তিনি বলেন, ‘আমি সবার কাছে একজন সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত, কিন্তু আমি ওসব থেকে অনেক দূরে বাস করি। ’ তিনি মনে করেন ইউরোপে তার জায়গা হওয়া উচিৎ। কারণ আমি তার স্ত্রী ছিলাম ২০০৮ সালে। আমি তাকে পরত্যাগ করেছি। একজন নারী হিসেবে আমি দুর্ভোগ পেয়েছি, পালাতে গিয়ে জেল খেটেছি।
তিনি বলেন, ‘আমি যদি আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদির সাথে গিয়ে বাস করতে চাইতাম তাহলে রাজকন্যার মত থাকতে পারতাম। সেখানে আমি যত টাকা চাইতাম পেতাম। কিন্তু আমি টাকা চাইনি। আমি চেয়েছিলাম আরও বেশি কিছু। অন্য আর দশজনের মত আমিও চেয়েছিলাম শুধু স্বাধীনতা। ’


মন্তব্য