kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ফরেনসিক দলের প্রাথমিক তদন্ত

পিলারের স্প্রিং ও বেয়ারিংয়ের ত্রুটিই ফ্লাইওভার ধসের কারণ

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা    

১ এপ্রিল, ২০১৬ ২০:০৯



পিলারের স্প্রিং ও বেয়ারিংয়ের ত্রুটিই ফ্লাইওভার ধসের কারণ

নির্মাণ কাজে বড় ধরনের ত্রুটির কারণেই ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে দাবি করেছে কলকাতার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদল। আজ শুক্রবার দুপুরের পরই দশ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞদল উত্তর কলকাতার বড়বাজার-পোস্তা এলাকার আংশিক ভেঙে পড়ায় বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারের ফরেনসিক তদন্ত শুরু করেন। সেখানে একটি পিলারের নির্মাণ কাজে বড়সড় ত্রুটি দলের চোখে পড়ে বিশেষজ্ঞদলের। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, "লোহার ওই পিলারের সঙ্গে যে স্ল্যাব বসানো হয় তার সংযোগস্থলে স্প্রিং এবং কিছু বেয়ারিং স্থাপন ঠিক ছিল না। ‌এ কারণে  বৃহস্পতিবার দুপুরে এক অংশ ভেঙে পড়ে এবং ২৬ জন নিহত হওয়ার  ঘটনা ঘটে।

আজ শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্মাতা সংস্থা আইভিআরসিএলের একজন পরিচালকসহ ১০ জনকে আটক করা হয়েছে। এর আগে সকালে পোস্তা থানায় ওই সংস্থার বিরুদ্ধে খুন, খুনের চেষ্টা এবং ষড়যন্ত্রমূলক হত্যার পরিকল্পনা ধারায় দুটি মামলা করে লালবাজার থানা পুলিশ। এদিকে, আজ শুক্রবার পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ২৫ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ৮৯ জন আহত হয়েছেন। আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত  সেনাবাহিনী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ফায়ার সার্ভিসসহ সাধারণ মানুষ উদ্ধার কাজ চালিয়ে যান। দুটি স্ল্যাবের একটি স্ল্যাব যেটি সবচেয়ে বেশি প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল সেই অংশটির প্রায় শতভাগই সরিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। এখনও দ্বিতীয় স্ল্যাবটি সরানোর কাজে হাত দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন উদ্ধাকারী দলের সেনাবাহিনী কর্মকর্তারা। দ্বিতীয় স্ল্যাবটির তলায় একটি ট্রাক আটকে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অপরদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে নতুন করে বির্তক শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার দুপুরের তিনি বলেন, "ফ্লাইওভারটির নকশার ত্রুটির কথা আমি সরকারকে আগেই বলেছিলাম। কিন্তু প্রকল্পের ৫০ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ায় নতুন করে নকশা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। " শুধু তাই নয়, তৃণমূলের একজন প্রভাবশালী নেতার ভাইকে ওই ফ্লাইওভারের সাব কক্ট্রাক্ট দেওয়া হয়েছিল বলে বিজেপির শীর্ষ নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং দাবি করেন। তিনি বলেন, "পুরো অনভিজ্ঞ একটি সংস্থা যার মালিক তৃণমূলে নেতার ভাই তাকে ওই কাজ পাইয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটেছে। " যদিও রাজ্যের নগর উন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেছেন, "মৃত্যু নিয়ে সস্তা রাজনীতি করছেন বিজেপি নেতারা। আগে উদ্ধার কাজ চালাতে হবে। পরে সবটাই খতিয়ে দেখা হবে। " তিনি জানান, ২০০৯ সালের এই প্রকল্প নিয়ে তাঁর দপ্তর পরবর্তীতে কোনো খোঁজখবর নেয়নি।
 

 


মন্তব্য