kalerkantho

25th march banner

রিজার্ভ লোপাট : ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির পরবর্তী শুনানি ৫ এপ্রিল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ এপ্রিল, ২০১৬ ১৮:৩৭



রিজার্ভ লোপাট :  ফিলিপাইনের সিনেট কমিটির পরবর্তী শুনানি ৫ এপ্রিল

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাট অর্থের যে ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ফিলিপাইনে গেছে সে সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে ফের শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সিনেট কমিটি। আগামী মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) অনুষ্ঠেয় এ শুনানিতে ডাকা হয়েছে সোলারি ক্যাসিনোর দুই জানকেট অপারেটর ও অভ্যন্তরীণ শুল্ক আদায় বিভাগের এক প্রতিনিধিকে।
ব্যাংক জালিয়াতির ইতিহাসে বড় এ ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর সাত দিনে এটি দ্বিতীয় দফা শুনানি। গত এক মাসের ব্যবধানে এ নিয়ে চতুর্থ দফা শুনানি করছে ফিলিপাইন সিনেট কমিটি। এর আগে তিন দফায় রিজার্ভের অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ লোপাটে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যাংক কর্মকর্তা, ক্যাসিনো ব্যবসায়ীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ফিলিপাইনের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইনকোয়েরার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ লোপাটের তথ্য জানায়। ওই প্রতিবেদনে বলা হয় ৫ ফেব্রয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ১০১ মিলিয়ন ডলার লোপাট করে দুর্বৃত্তরা। লোপাটের ওই অর্থের ৮১ মিলিয়ন পাঠানো হয় ফিলিপাইনে এবং বাকি ২০ মিলিয়ন শ্রীলংকায়।
চতুর্থ দফা এ শুনানিতে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিস কোম্পানির একজন প্রতিনিধিকেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিনেট কমিটি। ফিলরেমের যে প্রতিনিধিকে শুনানিতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে তিনি ফিলিপাইন ব্যাংকে আসা লোপাটের অর্থ নির্দিষ্ট কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে পৌঁছে দিয়েছেন বলে তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুনানিতে সানসিটি গ্রুপ এবং গোল্ডমুন গ্রুপের দুই জানকেট অপারেটরকে ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ফিলরেম সার্ভিস কোম্পানির প্রতিনিধি মার্ক পালমার্সকেও উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে সিনেট কমিটি।
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্ট থেকে লোপাটের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের মাতাকি সিটির জুপিটার শাখায় আগে থেকে খোলা অ্যাকাউন্টে জমা হয়। পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান ফেলরেল সার্ভিস কোম্পানির হাত ঘুরে  চলে যায় দেশটির ক্যাসিনো মালিকদের কাছে।
চীনা নাগরিক কিম অং, যার নামে আগে থেকে ভুয়া তথ্য দিয়ে রিজাল ব্যাংকের জুপিটার শাখায় খোলা অ্যাকাউন্টে রিজার্ভ লোপাটের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জমা হয়, সিনেট কমিটির তৃতীয় দফা শুনানিতে বলেছেন, দুই চীনা নাগরিক শুহুয়া গাও ও দিং জিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এ অর্থ ফিলিপাইনে পাঠিয়েছেন। চীনা নাগরিক কিম অং, ফিলিপাইনে সোলারি ক্যাসিনো মালিক ও ধনাঢ্য ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
ব্যাংকটির মাকাতি সিটির জুপিটার শাখায় গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঠানো ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় ব্যবসায়ী কিম অংয়ের অ্যাকাউন্টে। অর্থ আসা নির্বিঘ্ন করতে আগে থেকে ওই ব্যাংক শাখায় ভুল তথ্যে অ্যাকাউন্ট খোলেন ব্যবসায়ী অংক। পরে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে স্থানীয় মুদ্রায় রূপান্তর করে অন্য অ্যাকাউন্টে দেয়া হয়।  
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্টে গচ্ছিত ১০১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার লোপাট করে দুর্বৃত্তরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সুইফট কোর্ড জালিয়াতি করে এ লোপাট সংগঠিত হয়। লোপাটের এ অর্থের ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাঠানো হয় ফিলিপাইনের রিজাল কর্মাশিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের মাতাকি সিটির জুপিটার শাখায়।
বাকি ২০ মিলিয়ন পাঠানো হয় শ্রীলংকার একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নামে। প্রাপক সংগঠনের নামের বানানে ভুল থাকায় ওই অর্থ লেনদেন আটকে দেন ব্যাংক কর্মকর্তারা।


মন্তব্য