kalerkantho


কলকাতায় ফ্লাইওভার ভেঙে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ২১:৪৫



কলকাতায় ফ্লাইওভার ভেঙে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮

কলকাতায় একটি নির্মাণাধীন ফ্লাইওভা্রের দুটি স্ল্যাব ভেঙে বহুমানুষের হতাহতেরর ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত প্রশাসন ১৮ জনের মৃত্যুর নিশ্চিত করেছে। এদের মধ্যে ৬ জনের পরিচয় জানা গেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৭৮ জনকে জীবিত ও আহত অবস্থায় উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারীরা। কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে।

মূলত উত্তর কলকাতা থেকে হাওড়ার সঙ্গে সংযোগকারী বিবেকানন্দ ফ্লাইওভারটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০০৯ সালে। চার বছরের মধ্যে অর্থ্যাৎ ২০১২ সালে ডিসেম্বরের মধ্যেই কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আজও পর্যন্ত এর কাজ চলছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে গণেশস্টকিজের কাছে ঢালাই করা হয়। সেই ঢালাইয়ের অংশ থেকেই ফ্লাইওভার ধস নামে এবং চার রাস্তার মোড়ের জনবহুল গনেশস্টকিজে ভেঙে পড়ে। ওই সময় বেশ কিছু যাত্রীবাহী মিনিবাস, হলুট রঙের ট্যাক্সি এবং অটোরিক্সা যাচ্ছিল সেখান দিয়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, বাসে বহু মানুষ ছিলেন। যারা সবাই স্ল্যাবের নিচে আটকে পড়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, যারা স্ল্যাবের নিচে চাপা পড়েছেন তাদের কেউ আর বেঁচে নেই। এবং এমন হলে মৃত্যের সংখ্যা শতাধিক ছাড়িয়ে যাবে বলেও উদ্ধারকারিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।
দুপুর সাড়ে বারটা নাগাদ এই ঘটনা ঘটলেও আড়াই ঘণতা পর সাড়ে তিনটা থেকে উদ্ধার কাজ শুরু হয়। ভারতীয় সেনা বাহিনী ছাড়াও ন্যাশনাল ডিজাস্টার ফাইটার বা এনডিআরএফ সদস্যরাও উদ্ধার কাজে হাত লাগান। রাজ্য পুলিশের সদস্য ছাড়াও ফায়ার সার্ভিসের কয়েকশ কর্মী স্ল্যাবের নিচে চাপাপরা মানুষদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
কলকাতার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দক্ষিণবঙ্গে নির্বাচনী প্রচার বাতিল করে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জি কলকাতায় ফেরেন এবং ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে পেয়ে অনেকেই সেখানে ক্ষোভ বিক্ষোভ দেখান। এদিকে রাজ্য সরকার নিহতদের জন্য ৫ লাখ, আহতদের জন্য ২ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছে। ব্রাসেল ভ্রমনরত অবস্থায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্রিজ দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানান এবং তিনি সব ধরণের সাহায্যের আশ্বাস দেন।
অনেকেই সময়মতো বাড়ি না ফেয়ার এবং মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ার স্বজনদের খোঁজে ঘটনাস্থলের ভিড় জমান। রাজ্য সরকার যদিও একটি হেল্পলাইন খুলেছে কিন্তু তা সত্বেও উৎসুক মানুষের ভিড় উদ্ধার কাজে মারাত্মক সমস্যা তৈরি করছে।
এদিকে প্রায় ১০ হাজার বর্গ ফুটের দুটি পাথরের স্ল্যাব কাটার জন্য মাত্র দুটি ক্রেন আনা হয়েছে। যা দেখে স্থানীয় মানুষ এবং নিহত আহতদের পরিবারের সদস্যরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, এই দুটি ক্রেন দিয়ে উদ্ধার করতে গেলে ১৫ দিন সময় লাগবে।


মন্তব্য