kalerkantho


তিনি পড়েছেন ক্লাস থ্রি পর্যন্ত, পেলেন পদ্মশ্রী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ০১:৫৯



তিনি পড়েছেন ক্লাস থ্রি পর্যন্ত, পেলেন পদ্মশ্রী

তাঁর জীবনী নিয়ে গবেষণা করছেন ৫ শিক্ষার্থী, অথচ তিনি নিজেই পড়েছে মাত্র ক্লাস থ্রি পর্যন্ত। এমনই একজন মানুষ হলধর নাগকে পদ্মশ্রী সম্মান প্রদান করলেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়।

পশ্চিম ওড়িশার বছর ৬৬-র এই মানুষটি কোসলি ভাষায় বহু কবিতা এবং ২০ টি মহাকাব্য লিখেছেন। তাঁর সমগ্র লেখা সংকলনের আকারে দু মলাটের মধ্যে আনতে উদ্যোগী হয়েছে সম্বলপুর বিশ্ববিদ্যালয়। তাঁর লেখা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

হলধরের খুব নিকট এক সঙ্গী জানিয়েছেন, শুধু কবিতা লেখাই নয়, আজ পর্যন্ত যা যা তিনি লিখেছেন, সবই মুখস্থ তাঁর। কিচ্ছু ভোলেননি তিনি। শুধু কবিতার নাম বা বিষয় বলে দিলেই নির্ভুলভাবে তা আবৃত্তি করতে পারেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয়তা এখন এতটাই বেশি যে, প্রত্যেকদিন ৩-৪ টে করে অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যেতে হয় তাঁকে।

সহজ সরল মানুষটা পোশাকের ব্যাপারেও খুবই সাধারণ। কখনও পায়ে জুতো বা চটি পরেন না তিনি। পরনেও খাটো সাদা ধুতি। হলধর জানিয়েছেন, এই পোশাকেই স্বস্তি পান তিনি।

১৯৫০ সালে ওড়িশার বারগড় জেলায় এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন হলধর। ক্লাস ৩ অবধি স্কুলে পড়াশোনা করে আর তা চালানো সম্ভব হয়ে ওঠেনি। তখনই তাঁর বাবারও মৃত্যু হয়। তখন হলধরের বয়স মাত্র ১০। সংসার চালানো মুশকিল হয়ে পড়ে বিধবা মায়ের পক্ষে। স্থানীয় একটি মিষ্টির দোকানে কাজ শুরু করেন হলধর। দুবছর পর গ্রামেরই এক মোড়লের চোখে পড়েন তিনি। তিনি তাঁকে একটি হাইস্কুলে রান্নার কাজ দেন। এরপর সেখানেই একটি স্টেশনারি ও খাবারের দোকান খোলেন তিনি।

১৯৯০-এ প্রথম কবিতা লেখেন হলধর। প্রথম কবিতা- ‘ধব বরগাছ’ অর্থাত বৃদ্ধ বট গাছ। স্থানীয় ম্যাগাজিনে তা প্রকাশিত হয়। এরপরই কবিতা লেখায় উত্সাহ পান তিনি। অন্যান্যদের প্রশংসাও উদ্বুদ্ধ করে তাঁকে। তাঁর লেখায় সাধারণ মানুষের ছবিই বেশি ফুটে ওঠে। যার সঙ্গে সহজেই সংযোগ গড়ে ওঠে মানুষের। তাঁর সেই প্রতিভাকেই সম্মানিত করল ভারত।

- সূত্র : এবিপি


মন্তব্য