kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

ভারতের পাঠানকোট ঘাঁটিতে পাকিস্তানি তদন্ত দল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ২০:০৭



ভারতের পাঠানকোট ঘাঁটিতে পাকিস্তানি তদন্ত দল

ভারতের পাঠানকোট সামরিক বিমানঘাঁটিতে গত জানুয়ারি মাসের জঙ্গী হামলার তদন্তে পাকিস্তান থেকে যে যৌথ তদন্তকারী দল ভারতে এসেছে, তারা আজ ওই বিমানঘাঁটির আক্রান্ত অংশ পরিদর্শন করেছেন।

এদিকে পাকিস্তানের তদন্তকারী দলকে কেন পাঠানকোটে ঢুকতে দেওয়া হল, এই প্রশ্ন তুলে সকাল থেকেই বিমানঘাঁটির সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে কংগ্রেস বা আম আদমি পার্টির মতো বিরোধী দল।

সরকারও এই প্রশ্নে তাদের অস্বস্তি পুরোপুরি গোপন করতে পারছে না, তবে শাসক দল বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ দাবি করেছেন, এই প্রথম পাকিস্তান কোনও জঙ্গী হামলার ‘সিরিয়াস’ তদন্ত করছে।

পাঁচ সদস্যের পাকিস্তানি তদন্তকারী দলকে যখন আজ পাঠানকোট বিমানঘাঁটির পেছনের একটা অংশ ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে – তখন মূল প্রবেশপথের সামনে তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন বিরোধী কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মীরা।

তাদের বক্তব্য ছিল, ভারতে যাবতীয় জঙ্গী হামলার জন্য এতদিন যে পাকিস্তানকে দায়ী করা হয়ে এসেছে, তারা আজ পাঠানকোট হামলার কী তদন্ত করবে?

কংগ্রেস নেতা অনিল ভিজের কথায়, ‘মোদি সরকার আর পাকিস্তান মিলে দেশের লোককে আজ বুদ্ধু বানাচ্ছে। সবাই জানে, পাকিস্তান কীভাবে জঙ্গীবাদে মদত দিয়ে আসছে। হামলা চালিয়েছে যারা, তারা আবার কীসের তদন্ত করবে? এদেরকে আমরা বিমানঘাঁটির ভেতরে ঢুকতে দিয়ে কী দেখাতে চাইছি?’

পাকিস্তানের দলে সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়েরও এক কর্মকর্তা আছেন – তাকে কীভাবে ভারত পাঠানকোটে আসতে দিল, সে প্রশ্নও তুলেছে আম আদমি পার্টি। দলের নেতা ও দিল্লির মন্ত্রী কপিল শর্মার কথায়, এটা গোটা ভারতের জন্য এক ‘চরম অপমান’।

মি শর্মা বলছিলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি সরকারকে কিছুতেই আমরা এভাবে দেশকে অপমান করতে দেব না। তার বাধ্যবাধকতা থাকতে পারে, তিনি হয়তো নওয়াজ শরিফের কাছে আত্মসমর্পণ করে থাকতে পারেন – কিন্তু তিনি আমাদের ভাবাবেগকে নিয়ে, দেশের নিরাপত্তা নিয়ে কিছুতেই ছেলেখেলা করতে পারেন না। তাকে কিছুতেই আমরা সেটা করতে দেব না। ’

আসলে পাকিস্তানের তদন্তকারী দলকে ভারতে আসতে দেওয়ার বিষয়টা নরেন্দ্র মোদি সরকারকে শাঁখের করাতে ফেলে দিয়েছে।

তাদের আসতে না-দিলে পাকিস্তান বলার সুযোগ পেত, ভারত চায় না পাঠানকোট হামলার সুষ্ঠু তদন্ত হোক। অন্য দিকে ওই দলকে আসার অনুমতি দিয়ে সরকারকে এখন বিরোধীদের তোপের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী মনোহর পারিক্কর বলার চেষ্টা করেছেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের ভারতের সামরিক বিমানঘাঁটি ঘুরিয়ে দেখানো হচ্ছে – বিষয়টা ঠিক তা নয়।

তিনি বলছেন, ‘এয়ারবেস নয়, আমরা শুধু ক্রাইম-সিন, অর্থাৎ যেখানে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে – সেই জায়গায় তাদের যেতে অনুমতি দিয়েছি। পুরো হামলার তদন্ত করছে ভারতের এনআইএ – তদন্তের স্বার্থে তারা যদি কাউকে সেই ক্রাইম-সিনে নিয়ে যেতে চায়, তারা নিশ্চয় পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে সেটা করছে। তবে এটুকু বলতে পারি, আমরা কোনও সেনা-সদস্যকে জেরা করার অনুমতি বিদেশিদের দিইনি। ’

২০০৮র নভেম্বরে মুম্বইয়ের যে জঙ্গী-হামলার জন্য ভারত পুরোপুরি পাকিস্তানকে দায়ী করে থাকে – সেই ঘটনার পরও কখনও পাকিস্তান থেকে তদন্তকারীরা ভারতে আসেনি।

সে দিক থেকে পাঠানকোটের এই তদন্ত ব্যতিক্রমী সন্দেহ নেই – আর শাসক দল বিজেপি এটাকেই তাদের কূটনীতির সাফল্য বলে তুলে ধরতে চাইছে।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ এদিন কলকাতায় দাবি করেছেন, ‘এই প্রথম পাকিস্তান গুরুত্ব দিয়ে কোনও জঙ্গী-হামলার তদন্ত করছে। এখন এর পরিণাম কী হয়, সেটা আমরা দেখতেই পাব। তবে পাকিস্তানি দলের তদন্তের পরিসর খুব সীমিত – তারা এয়ারবেসেও যাচ্ছেন না, সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কোনও আলোচনা করছেন না। শুধু অন্য বিষয়গুলো দেখছেন। ’

তবে পাকিস্তানি দল অবশ্য এই হামলার অন্যতম প্রধান সাক্ষী, পাঞ্জাব পুলিশের এক অফিসারকে জেরা করার অনুমতি পেয়েছে।

এর আগে গতকাল দিল্লিতে তাদের টানা কয়েক ঘন্টা ধরে পাঠানকোট হামলায় পাকিস্তান-ভিত্তিক জইশ-ই-মহম্মদের যোগসাজশের নানা প্রমাণ পেশ করেছেন ভারতীয় তদন্তকারীরা।


মন্তব্য