kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ৪ মাঘ ১৪২৩। ১৮ রবিউস সানি ১৪৩৮।


কলকাতায় 'মিট দ্যা প্রেস' অনুষ্ঠানে অমিত শাহ

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই মমতার ভোট ব্যাংক

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা    

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫৬



বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরাই মমতার ভোট ব্যাংক

"ভোটব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ব্যবহার করছেন মমতা ব্যানার্জি। তৃণমূল ক্ষমতায় আসায় অনুপ্রবেশ কমবে বলে আশা করেছিল ভারতবাসী। কিন্তু সেটা আরো বেড়েছে। গোটা দেশের নিরাপত্তার কথা না ভেবে ভোট ব্যাংক তৈরির জন্যই অনুপ্রবেশকারীদের সুযোগসুবিধা দিচ্ছেন মমতা ব্যানার্জি। " কলকাতা প্রেসক্লাবে মিট দ্যা প্রেস অনুষ্ঠানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ এসব  অভিযেগ করেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতা নরেন্দ্র মোদি মাত্র দুই দিন আগে মমতার শাসনে বাংলার সর্বনাশ হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন। এবার মোদির সুরে সুর মিলিয়ে অমিত শাহ বললেন, "পশ্চিমবঙ্গে শিল্প হয়েছে তবে সেটা বোমার। বামফ্রন্টের সময় চিটফান্ডের জন্ম হলেও এসব অবৈধ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ফুলেফেঁপে উঠছে মমতার শাসনামলেই। " আজ মঙ্গলবার সকালে ওই সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সামনে বিজেপির পক্ষ থেকে রাজ্যের মানুষের কাছে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরা হয়। অমিত শাহ বলেন, "রাজ্যের মানুষ চাইলে সবই সম্ভব। রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যের উন্নয়নে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ সময় বিজেপি প্রার্থীদের ভোট দেওয়ারও অনুরোধ করেন সর্বভারতীয় এই নেতা।

রাজ্যের উন্নয়ন নিয়ে বলতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, "৩৪ বছরের মতো গত পাঁচ বছরে ধ্বংস হয়েছে। তৃণমূল সরকারের সময়ে কারখানা হলেও সেটা বোমা বানানোর কারখানাই হয়েছে। নতুন প্রজন্মের চাকরি নেই। আর্থিক অবস্থাও ভাল নেই রাজ্যে। "

চিট ফান্ডের বারবারন্ত ও সারদা ইস্যুতে বিজেপির সঙ্গে তৃণমুলের আঁতাত প্রশ্নে অমিত শাহ বলেন, "কোনো আঁতাত নেই তৃণমূলের সঙ্গে। সারদার তদন্তের রাজ্য পুলিশ যেভাবে মামলা তৈরি করেছে তাতে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তদন্ত এগিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। " মমতার শাসনের সময় সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন অমিত শাহ। তিনি বলেন, "আসলে দিদি এদের ভোট ব্যাংক  হিসেবে ব্যবহার করছেন। তাই অনুপ্রবেশকারীর সংখ্যা আগের চেয়ে বেশি বেড়েছে। আমরা আশা করেছিলাম, তৃণমূল ক্ষমতায় এলে অনুপ্রবেশ কমবে কিন্তু বেড়েছে। "

গতকাল সোমবার একইভাবে আসামে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে আসামের শাসক কংগ্রেসের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন অমিত শাহ। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি সেখানে বলেছেন, "আমি সোনিয়া গান্ধীকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশ বন্ধের কথা উনি ঘোষণা করবেন। কিন্তু আমি জানি উনি করবেন না, কারণ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ভোট ব্যাংক হিসেবে কংগ্রেস ব্যবহার করছে। " তিনি  বলেন, "বিজেপি ক্ষমতায় এলে আসাম-বাংলাদেশ সীমান্ত সিল করে দেওয়া হবে। একজন বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীও প্রবেশ করতে পারবে না। " বাংলাদেশের অনুপ্রবেশকারীরা শুধু আসামে নয় গোটা ভারতের বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন অমিত শাহ।


মন্তব্য