kalerkantho


প্রাক্তন স্ত্রীর দেখা পেতে বিমান ছিনতাই

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ মার্চ, ২০১৬ ১৫:৫২



প্রাক্তন স্ত্রীর দেখা পেতে বিমান ছিনতাই

সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে এখন নাটক জমজমাট। কী হয় কী হয়, এই উত্তেজনায় থরথর করে কাঁপছে গোটা বিমানবন্দর আর তার লাগোয়া এলাকা।

বিমানযাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনের চোখে-মুখে উদ্বেগের ছাপ স্পষ্ট। যাঁরা সদ্য মুক্তি পেয়েছেন, সেই যাত্রী আর তাঁদের পরিজনরা এখনও যেন বিশ্বাস করে উঠতে পারছেন না, আপাতত তাঁদের ফাঁড়া কেটে গিয়েছে। আর যাঁরা এখনও বিমানে আটক রয়েছেন সেই যাত্রী আর তাঁদের পরিজনদের অবস্থাটা কেমন, তা বলাই বাহুল্য! সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে নামার পর বিমানটির ধারে-কাছেই ঘেঁষতে পারছে না সাইপ্রাসের পুলিশ ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তারক্ষীরা। ছিনতাইকারী ইব্রাহিম সামাহার হুমকি, তাঁরা ধারে-কাছে এলেই বোমা বা বিস্ফোরক দিয়ে বিমানটি উড়িয়ে দেওয়া হবে‌।

সাইপ্রাসের পুলিশ খবর নিয়ে জেনেছে, ছিনতাইকারী ইব্রাহিম সামাহা খুব সাধারণ কেউ নন। তিনি আলেকজান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরেনারি মেডিসিনের অধ্যাপক। প্রাক্তন স্ত্রীর সঙ্গে তাঁর বহু দিন দেখা-শোনা, কথাবার্তা নেই। কিন্তু, প্রাক্তন স্ত্রীকে তাঁর দেখার ইচ্ছে খুব। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে চান ইব্রাহিম।

সেই ফুরসৎ যাতে মেলে, সে জন্য কিছু দিন আগে সাইপ্রাসে আশ্রয় চেয়েছিলেন তিনি। তা না পেয়েই নাকি সাইপ্রাস সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে বিমান ছিনতাই করেছেন ভেটেরেনারি মেডিসিনের অ্ধ্যাপক। আজ লারনাকা বিমানবন্দরে দাঁড়ানো মিসরীয় এয়ারলাইন্সের বিমানের ককপিট থেকেই আরবি ভাষায় লেখা একটি চিঠি ছুড়ে দিয়েছেন ছিনতাইকারী। সেই চিঠিটি তাঁর প্রাক্তন স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা। প্রেমের চিঠি। বিরহ-বেদনারও!

আলেকজান্দ্রিয়া থেকে কায়রো যাওয়ার পথে মঙ্গলবার ছিনতাই করা হয় মিসরের সরকারি বিমান সংস্থা 'ইজিপ্টএয়ার'-এর ওই বিমানটিকে।

পাইলটকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ছিনতাই করা বিমানটিকে তড়িঘড়ি নামতে বাধ্য করা হয় সাইপ্রাসে। 'ইজিপ্টএয়ার'-এর ওই এমএস-১৮১ এয়ারবাসটিতে ছিলেন ৫৬ জন যাত্রী ও সাতজন বিমানকর্মী। বিমানবন্দরে নামার পর পরই দোভাষীর মাধ্যমে সাইপ্রাসের সরকারি কর্তা ও বিমানবন্দরের পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা শুরু করে দেন ছিনতাইকারী। তারই প্রেক্ষিতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক বিমানকর্মী আর চারজন বিদেশি যাত্রী ছাড়া বিমানের বাকি যাত্রীদের মুক্তি দিয়েছেন ছিনতাইকারী।

লারনাকা বিমানবন্দরে নামার পরই সাইপ্রাসের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক পদস্থ কর্তা জানিয়েছিলেন, ওই বিমানে শক্তিশালী বোমা বা খুব জোরালো বিস্ফোরক রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ছিনতাইকারী (রা) বিমানটিকে তড়িঘড়ি সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে নামতে বাধ্য করেছে। ওই বিমানে একাধিক ছিনতাইকারী রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পরে অবশ্য জানা যায়, ইব্রাহিমই ওই বিমানের একমাত্র ছিনতাইকারী।

সাইপ্রাসের ওই সরকারি কর্তা আগে জানিয়েছিলেন, এখনও পর্যন্ত ছিনতাইকারী তেমন বড় কিছু দাবি জানায়নি। শুধু বলেছে, বিমানবন্দরে নামার পরে কোনো পুলিশ বা নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি যেন তার ধারে-কাছে না থাকে। থাকলেই তারা বোমা বা বিস্ফোরকে গোটা বিমানটি উড়িয়ে দেবে। পাইলটের কোমরেও আত্মঘাতী জঙ্গিদের শরীরে থাকা বিস্ফোরকের বেল্ট বেঁধে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ছিনতাইকারীরা।
সূত্র : আনন্দবাজার

 


মন্তব্য