kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


সারদা থেকে নারদা, তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ মোদির

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

২৭ মার্চ, ২০১৬ ২২:০৩



সারদা থেকে নারদা, তৃণমূলকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ মোদির

বাংলা আগে যা দেখাতো সারা ভারত তা পরে দেখাতো। কিন্তু এখন ভারতের অন্য রাজ্যের সামনে সর্বনাশের এমন নজির দেখাচ্ছে। ৩৪ বছরে বাংলায় সর্বনাশ হয়েছে সেটা গত পাঁচ বছরে তৃণমূলই তা করেছে। কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের জোট যে ক্ষমতার লোভে হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা থেকে নতুন প্রজন্মের চাকরির সুযোগ রাজ্যের প্রধান তিন রাজনৈতিক শক্তি তৃণমূল, বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস নেতাদের এইভাবে তীব্র ভাষায় কটাক্ষ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা নরেন্দ্র মোদি। আজ রবিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম মেদেনীপুরের শিল্পতালুক বলে পরিচিত খড়গপুরে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের নির্বাচনী প্রচারে প্রধান বক্তা ছিলেন নরেন্দ্র মোদি। বাংলায় উপস্থিত শ্রোতাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছে মোদি দীর্ঘ হিন্দি ভাষায় রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে সন্ধ্যার আযান শুরু হয়, সেই সময় ভাষণ বন্ধ করেন। আযান শেষ হলে তিনি বলেন, কারো পুজোপ্রাথর্ণার সময় নিরবতা পালন করতে হয়। যেন তার প্রার্থনায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে। তাই এতো সময় আপি চুপ ছিলাম।

মোদি বলেন, মা মাটি মানুষের কথা যারা বলছেন, তারা বাংলার মানুষের মন ভেঙে দিয়েছেন। ৫ বছরের বাংলার মানুষের মোহ ভঙ্গ হয়েছে। ৩৪ বছরের সর্বনাশ ৫ বছরেই হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গে।

রাজ্যবাসীর কাছে ভোট চেয়ে মোদি বলেন, মানুষ চাইলে এক চুটকিতে সরকার গড়া সম্ভব যদি রাজ্যবাসী চান। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার গড়ার সুযোগের কথা মনে করিয়ে দেন নরেন্দ্র মোদি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাকে সুযোগ দিন, ভারতের জনতা পার্টিকে একবার সুযোগ দিন। রাজ্যে এতো দিন যা ধ্বংস হয়েছে আমি সেটা পুরোপুরি গড়ে দেবো। আমি নিরাশা ও ক্লান্ত হওয়ার দলে নেই। আমি আশাবাদী মানুষ। সুযোগ দিলে পশ্চিমবঙ্গকে কোথা থেকে কোথায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব সেটা দেখিয়ে দেবো। আপনার আগামী ৫ বছরের জন্য সব ভুলে যান। বিজেপিকে ভোট দিয়ে সরকার গড়ার সুযোগ দিন।

বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোট নিয়ে বলতে গিয়ে মোদি বলেন, সরস্বতীর আর্শীবাদ ভারতের একমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই রয়েছে। এটাকে কাজে লাগতে হবে। কেরলে সিপিএম ও কংগ্রেস পরস্কারের বিরুদ্ধে লড়ছে আর পশ্চিমবেঙ্গ দুই দল জোট করে নির্বাচন করছে এটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বুদ্ধির সঙ্গে চ্যালেঞ্জ করছে। বাংলার মানুষের অপমাণ করছে ওই দুই রাজনৈতিক দল। তিনি আরো বলেন, পর্দার পেছনে দোস্তি আর পর্দার বাইরে কুস্তি এটাই হচ্ছে কংগ্রেস এবং বামফ্রন্টের নীতি।

মমতা ব্যানার্জিকে উদ্দেশ্য করে মোদি বলেন, দিদি দলীয় মিটিং ডেকে বলেন কংগ্রেস রাজ্যের জন্য ক্ষতিকারক নয়, বামফ্রন্টও ক্ষতিকারক নয়। বাংলায় ক্ষতিকারক একমাত্র বিজেপি। তৃণমূল, বামফ্রন্ট এবং কংগ্রেস মিলেই বিজেপির বিরুদ্ধে এই নির্বাচনে লড়ছে এটাই ওদের রাজনৈতিক কৌশল।

নতুন প্রজন্মের জন্য কোনও সম্ভাবনা নেই বলে মোদি সরকারকে খোঁচা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম অন্য রাজ্যে কাজের সন্ধানে ছুটে যাচ্ছেন। বাংলাকে বাঁচাতে হবে। নতুন বাংলা গড়তে হবে। এটা একমাত্র বিজেপির পক্ষেই সম্ভব।

মোদি বলেন, পাঁচ বছর আগে শুনেছি বাংলায় পরিবর্তন আসছে, এটা ঠিক পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু কোথায় এসেছে সেটা দেখতে হবে। দিদির স্বভাবে পরিবর্তন এসেছে, তার স্বভাব এখন শাহিনশাহর মতো। তার দলের নেতাদেরও পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু রাজ্যের মানুষের কোনও পরিবর্তন আসেনি।

তিনি আরো বলেন, প্রথমে সারদা, এখন নারদা পযর্ন্ত তৃণমূল নেতারা সবাই জড়িত। বিজেপি সরকার তো দুই বছর কেন্দ্রে আছেন, কিন্তু বিজেপি সরকারের কোনও মন্ত্রী নেতার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ উঠেনি। মানুষের টাকা লুট করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।

আইনশৃঙখলা অবনতির কথা উল্লেখ করে মোদি বলেন, দেশি বোমারের কারখানা তৈরি হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। যে সরকার নিজের গদির জন্য কাজ করে সেই সরকার মানুষের সরকার নেই। যে সরকার মানুষের জন্য কাজ করে সেই সরকারই গণতান্ত্রিক সরকার।

এদিন কেন্দ্রীয় সরকারের বেশ কিছু পদক্ষেপের কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গরীরের জন্যই কাজ করছে বিজেপি সরকার। আগামী তিন বছরের মধ্যে ৫ কোটি ঘরে গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যেই এটা ভারতের বিজেপি সরকার করে দেখাবো।

নরেন্দ্র মোদি বলেন, একজনের শরীরের ৪০০ সিগারেটের ধোয়া গেলে যেমন ক্ষতি হয় একজন মা রান্না ঘরে ঘুটে-লাখরি দিয়ে রান্না করলে ততটাই ক্ষতি হয়। তাই আমরা ৫ কোটি রান্না ঘরে গ্যাস সংযোগ দেবো।

মোদি ছাড়াও এদিন জঙ্গলমহলে তৃণমূল সভানেত্রী মমতা ব্যানার্জিও সভা করেন। বেলডাঙায় মমতা এদিন বিরোধীদের আক্রমণ করে বলেন, কংগ্রেস বা বামফ্রন্ট যতই কুৎসাকরুক কোনও কিছুতেই কাজ হবে না।

তিনি নির্বাচন কমিশনকে ফের হুশিয়ার করে দিয়ে বলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসবে, পর্যবেক্ষকরা আসছেন, তারা আমাদের অতিথি। তাদের কাজ হয়ে গেলে তারা চলে যাবেন। আমরাই থাকবো। তাই কেউ ভয় পাবেন না।

মমতা ব্যানার্জি বলেন, রাজ্যের জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা খুন হচ্ছেন। নির্বাচন কমিশন কি এই সব দেখছে না।

এ ছাড়াও এদিন সব রাজনৈতিক দলের নেতারাই প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত ছিলেন। কংগ্রেসের দুই হেভিওয়েট নেতা মানস ভুইয়া এবং আব্দুল মান্নানের দুটিসভায় সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে কংগ্রেস। মানস ভুইয়া বলেন, তিনি সবং বাজারের সভা করছিলেন। সেই সময় তৃণমূল কংগ্রেসের একদল সমর্থক তার সভায় হামলা চালায় এবং তাকেও লাঞ্ছিত করে।

এদিন কংগ্রেস নেতা আব্দুল মান্নান হুগলিতে একইভাবে সভা করছিলেন। তিনিও ওই হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

 


মন্তব্য