kalerkantho


সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদন

আমাদের শরীরে জ্বালা ... ওরা আনন্দে উতালা ...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ২১:৩৩



আমাদের শরীরে জ্বালা ... ওরা আনন্দে উতালা ...

দিন দু'য়েক আগে থেকেই তোড়জোড় যে শুরু হয়েছে চোখে পড়ছিল। কিন্তু তা যে সত্যিই চোখে এসে পড়বে কে জানত! মানুষদের রং খেলা মানেই আমাদের অর্থাৎ কুকুরদের হেনস্থা।

প্রতিবারই হয়। আজও হল। এই যেমন আমার শরীর জুড়ে রং। কেউ তো কুকুরদের ভেষজ রং দেয় না। দেয় বাঁদুরে রং। সেই কেমিক্যালের কী যে জ্বালা তা শুধু আমরাই জানি।

রঙে আমাদের কী কী হতে পারে তা কি আর মানুষ জানে না? খুব জানে। এই যে রঙে এত জ্বালা তার কারণ শুনেছি, অনের রঙেই লেড নামক একটা পদার্থ থাকে। যা প্রায় বিষের মতো কাজ করে।

  রং মুছতে আমি এবং আমার বন্ধুরা তা অনেকসময় জিভ দিয়ে চেটে ফেলি। তাতে তো জ্বলুনি কমেই না, উল্টে অন্য ক্ষতি হয়। অনেকেই আবার আদিখ্যেতা করে গায়ে শুকনো রং দেয়, ভাবে তাতে বুঝি আমাদের কোনও ক্ষতি হবে না। কিন্তু আচমকা আক্রমণে আবিরের গুঁড়ো ঢুকে পড়ে নাকে, তাতেও ইনফেকশন হয়।

এসব প্রতি বছরই হয়। এই তো গেল বছর রং থেকে ঘা বাধিয়ে আমাদের এক বন্ধু মারাই গেল। চোখের সামনে দেখলাম একটু একটু করে ধুঁকতে ধুঁকতে মরে গেল বন্ধুটি। কিন্তু আমরা তো চাইলেই ডাক্তারের দরজায় যেতে পারি না। পোষা যারা, তারা তবু এই সুবিধাটুকু পায়। কিন্তু রাস্তাই যাদের বাড়িঘর, বলা যায়, আমরা যারা প্রলেতারিয়েত, তাদের কপালে এ সুখ নেই। ফলত মরে যাওয়া ছাড়া আর করারও কিছু থাকে না। আমাদের মৃদু ঘেউ ঘেউ তো মানুষের সমাজে কোনও প্রতিবাদই নয়। কত ওদের নিজেদেরই কত প্রতিবাদ কতভাবে জলে গেল, আর আমরা তো কোন ছাড়! দু'একটা সংগঠন নেই যে তা নয়, কিন্তু সে আর কতটুকু। শুনেছি অনেক মানুষ এ ব্যাপারে খুব দরদি। মানুষ সমাজে ফেসবুক নামে একটি বস্তু আছে, যেখানে এ নিয়ে দরদের ঢেউ উথালপাথাল। কিন্তু ওই যে যত গর্জায়, আসলে ততো বর্ষায় না। যত সমবেদনার আহা উহু শুনেছি ওখানে হিল্লোল তোলে, তার ছিটেফোঁটাও যদি রাস্তায় থাকত, তবে আমরা বর্তে যেতাম। একজনও যদি এগিয়ে এসে আমাদের রং দিতে নিষেধ করত, ওই উন্মত্তপ্রায় ছেলেপিলেগুলোকে শাসন করতো তাহলেও হত। কিন্তু তারা তো তখন নিজেরাই হোলিতে মত্ত। যে ওই ফেসবুকে দরদ দেখিয়েছে, সেইই যদি আমাদের গায়ে রং ছেটায়, তাতেও অবাক হব না।

এবারও সকাল থেকে ছেলেবুড়ো সমানে রং দিয়ে গেল আমাদের। জ্বলুনির চোটে যত ছটফট করি, যত পালানোর চেষ্টা করি, ওদের আমোদ ততো বাড়ে। এ গলির মুখ থেকে ও গলিতে যাই, দেখি অবস্থা সেই একই। এক দাদা ছাড়ে তো আর এক দাদা লুফে নেয়। শেষমেশ আর পালাতে পালেতে হাঁফিয়ে উঠে একসময় পালানো ছেড়ে দিই। বুঝি মেনে নেওয়াই ভবিতব্য। আর ওরা শখ মিটিয়ে আমার গা ভরিয়ে দিল রঙে। সারাশরীর জ্বলুনি নিয়ে দেখলাম, ওরা আনন্দে হাততালি দিচ্ছে।

একজনের কষ্টেই তবে অন্যজনের আনন্দ! এতদিন মানুষের সমাজকে অন্যরকমই ভাবতাম। আজ যেন আর কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না, এই মনোভাবই কি তবে মানবসমাজের চালিকাশক্তি! কে জানে!


মন্তব্য