kalerkantho


মতপার্থক্য সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কে নতুন সূচনা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ মার্চ, ২০১৬ ০৯:৪০



মতপার্থক্য সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার সম্পর্কে নতুন সূচনা

যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে কূটনৈতিক বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলেও দেশ দুটির মধ্যে সম্পর্কে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এই সূচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও সমাজতান্ত্রিক দেশ কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো।

গত সোমবার প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেন, তারা দুইজন মানবাধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে ঘরোয়া পরিবেশে খোলা মনে কথা বলেছেন। রাউল কাস্ত্রোর সঙ্গে বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ওবামা বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারসহ বড় মতপার্থক্যের বিষয়গুলোতে আলোচনা চালিয়ে যেতে থাকবো।

দুই দেশের সম্পর্কের বৃদ্ধিতে মানবাধিকার একটি বড় ইস্যু বলেও মন্তব্য করেন ওবামা। তার এই বক্তব্য কিউবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মাত্র এক বছর আগেও কেউ হয়তো ভাবেনি মার্কিন কোনো প্রেসিডেন্ট কিউবা সফরে যাবেন। আর দুই দেশের প্রেসিডেন্টের একত্রে সংবাদ সম্মেলন করাতো আরো দূরের কথা। একসঙ্গে সংবাদ সম্মেলন করলেও এক ধরনের উত্তেজনা দুই দেশের নেতার কণ্ঠেই ছিলো। কিউবার প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রো বিরল নজির দেখিয়েছেন। সাধারণত সংবাদ সম্মেলনে কোনো প্রশ্নের জবাব দেন না তিনি।

কিন্তু এই সংবাদ সম্মেলনে তাকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা গেছে।
 
আর তা তিনি দিয়েছেন বেশ কড়াভাবে। তিনি বলেছেন, কিউবার উপরে যুক্তরাষ্ট্র যে বাণিজ্যিক অবরোধ আরোপ করে রেখেছে তা পুরোপুরি তুলে নিতে হবে। অন্যদিকে ওবামা সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, কিউবাকে তাদের দেশে রাজনৈতিক সংস্কার এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি করতে হবে তাহলেই উঠবে অবরোধ। তবে, ঠিক কবে থেকে কিউবার উপর থেকে অবরোধ উঠে যেতে পারে এই বিষয়ে কোনো ইঙ্গিত দেননি ওবামা।
 
প্রেসিডেন্ট কাস্ত্রো এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী আচরণের অভিযোগ এনেছেন। তিনি বরং যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষায় কিউবার কাছ থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। এক পর্যায়ে বেশ হঠাত্ করেই সংবাদ সম্মেলন থামিয়ে দেন রাউল কাস্ত্রো। এসব কিছুতে ঠিক কিসের ইঙ্গিত রয়েছে তা বোঝা না গেলেও কিউবা ও মার্কিন নেতার হাত মেলানোর বিরল দৃশ্যকে একটি ঐতিহাসিক বিষয় বলেই ধরা হচ্ছে।

 


মন্তব্য