kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ব্রাসেলসে বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২৯



ব্রাসেলসে বোমা বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৮

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসের জাভেনতেম বিমানবন্দর ও মায়েলভিক মেট্রো রেল স্টেশনে পৃথক বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮ জনে বলে জানিয়েছে বিবিসি। মঙ্গলবার সকালে প্রথমে বিমানবন্দরে দু’টি বিস্ফোরণে ১৩ জন মারা যায়। কিছুক্ষণ পর বিস্ফোরণ ব্রাসেলস মেট্রো রেল স্টেশনে। ওই বিস্ফোরণে মারা গেছে আরও ১৫ জন। দুই বিস্ফোরণে আহতের সংখ্যা প্রায় ১৩৬ জন।
তবে ব্রাসেলস ফায়ার ব্রিগেডের মুখপাত্র পায়ের মেস সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন বিমানবন্দর ও মেট্রো রেল স্টেশনের বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা ২১। এদের ১১ জন মারা গেছেন বিমানবন্দর বিস্ফোরণে। বাকীরা মেট্রো স্টেশনে। বিস্ফোরণের কোনো কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এদিকে বেলজিয়ামের সরকারি প্রচার মাধ্যম ‘ভিআরটি’তে এ বিস্ফোরণকে আত্মঘাতি হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিস্ফোরণের পর পরই সংবাদ সম্মেলনে বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী চালর্স মিসেল। দুই বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা ২১ বলে জানান তিনি। বলেন, বিমারবন্দরের হামলা ছিল আত্মঘাতি। দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনা হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী চালর্স বলেন, প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে।    
এদিকে ব্রাসেলস বিস্ফোরণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ব নেতারা। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। প্রেসিডেন্টের তথ্য সচিব দিমিত্রি পেসকভকে উদ্বৃত করে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইন্টারফেক্স জানায়, পুতিন এ হামলাকে বর্বর হিসেবে অভিহিত করেন। একইসঙ্গে এ দুঃসময়ে বেলজিয়ামের জনগণের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দেন পুতিন।
ব্রাসেলসে বিস্ফোরণে উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। তিনি এই দুঃসময়ে বেলজিয়ামের জনগণের পাশে থেকে তাদের সব রকমের সহায়তা করারও আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী এন্থোনি বারেতের বরাত দিয়ে সিএনএন জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে তিনি টার্মিনাল সংলগ্ন হোটেল থেকে বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পান। তার ভাষায়, ‘আমি হোটেল রুমের জানালার পর্দা সরিয়ে দেখি, ভয়ার্ত লোকজন টার্মিনাল ভবন থেকে ছুটে পালাচ্ছে। ’ তিনি স্ট্রেচারে করে ১৯/২০ জনকে বহন করে নিয়ে যেতে দেখেন বলেও দাবি করেছেন। তিনি এটিকে ‘ভয়াবহ গুরুতর ঘটনা’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। তবে কি কারণে ওই বিস্ফোরণ দু’টি হয়েছে এবং এর সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়।
ব্রাসেলসের সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে জাভেনতেম বিমানবন্দরের টার্মিনাল ভবন থেকে ধোঁয়া ওঠতে দেখা গেছে। এখানে সেখানে ছড়িয়ে রয়েছে জানালার ভাঙা কাঁচ। বিস্ফোরণের পর আতঙ্কিত লোকজনকে দ্রুত ওই এলাকা ত্যাগ করতেও দেখা গেছে। এটি দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
বিবিসি বলছে, বিস্ফোরণের পর বিমানবন্দরটি থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এটিকে চারপাশ থেকে ঘিরে রাখা হয়েছে। আপাতত এখানে বিমান ওঠানামা বন্ধ রয়েছে। বিমানবন্দরের  রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাটিও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।


মন্তব্য