kalerkantho


বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন

বোমায় নিজেকে উড়িয়ে দিতে চেয়েও মনোভাব পাল্টান আব্দেসালাম

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ মার্চ, ২০১৬ ০৯:২৪



বোমায় নিজেকে উড়িয়ে দিতে চেয়েও মনোভাব পাল্টান আব্দেসালাম

প্যারিস হামলার পর সালাহ আব্দেসালাম নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন কিন্তু পরে সেই ইচ্ছা পরিবর্তন করেন বলে তদন্তকারীদের কাছে স্বীকার করেছেন। ফরাসি আইনজীবীরা বলছেন, নভেম্বরের ভয়াবহ প্যারিস হামলায় তিনি প্রধান ভূমিকা পালন করেন। গ্রেপ্তারের পরেই বেলজিয়ামে সালাহ আব্দেসালামের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আব্দেসালাম তদন্তকারীদের সহায়তা করতে রাজি আছেন। কিন্তু তাকে ফ্রান্সে পাঠানোর চেষ্টা হলে তিনি তার বিরোধিতা করবেন। শুক্রবার বিকালে অনেকটা নাটকীয়ভাবেই চারমাস ধরে পলাতক সালাহ আব্দেসালামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ব্রাসেলস থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ফরাসি আইনজীবীরা বলছেন, প্যারিস হামলায় আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী দলের সমন্বয়ক এবং পুরো হামলার প্রস্তুতির দায়িত্ব পালন করেন সালাহ আব্দেসালাম। ফরাসি আইনজীবী, ফাঁসোয়া মঁলা একটি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, তদন্তকারীদের জিজ্ঞাসাবাদে সালাহ আব্দেসালাম স্বীকার করেছেন, তিনি নিজেকে বোমায় উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পরে মনোভাব পাল্টান। তবে তার দেওয়া তথ্য সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তদন্তকারীরা আশা করছে, আব্দেসালামের কাছ থেকে কথিত ইসলামিক স্টেটের নেটওয়ার্কের বিষয়ে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। বিশেষ করে প্যারিস হামলায় গাড়ি ও রুম ভাড়া, স্তেদ দ্য ফ্রান্স স্টেডিয়ামে হামলাকারীদের ঢোকার ব্যবস্থা তিনিই করে দিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। এদিকে তাকে গ্রেপ্তারের পর বেলজিয়ামের সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। কারণ তার অনেক সহযোগী হয়তো বেলজিয়াম ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করতে পারে বলে ইন্টারপোল আশংকা করছে।

গত নভেম্বরে প্যারিসের ওই হামলায় ১৩০জন নিহত হয়, আহত হয় অনেকে। এরপর থেকেই সালাহ আব্দেসালামকে খুঁজছিল ইউরোপের পুলিশ। ২৬ বছর বয়সী সালাহ আব্দেসালাম ফরাসি নাগরিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে বেলজিয়ামে বসবাস করছেন। সেখান থেকে গিয়েই তিনি প্যারিসে হামলা চালিয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হামলার পর সে আবার ব্রাসেলসের একটি ফ্লাটে লুকিয়ে ছিল বলে পুলিশের ধারণা। এর আগে সালাহ আব্দেসালামকে গ্রেপ্তার করতে ব্রাসেলস এবং প্যারিসে কয়েক দফা অভিযান চালানো হলেও তাকে আটক করা যায়নি।

 


মন্তব্য