kalerkantho

সোমবার। ২৩ জানুয়ারি ২০১৭ । ১০ মাঘ ১৪২৩। ২৪ রবিউস সানি ১৪৩৮।


চ্যাটিং-এ মেয়ের নগ্ন ছবি সংগ্রহ, বাবার ২৫০ বছর জেল

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১৬:০৮



চ্যাটিং-এ মেয়ের নগ্ন ছবি সংগ্রহ, বাবার ২৫০ বছর জেল

আমেরিকার নিউ ইয়র্কে এক বাবা অনলাইনে নকল পরিচয়ে অ্যাকাউন্ড খুলে নিজের ১৪ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে প্রেম করেছেন। ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর সেজে নিজের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন তিনি।

এরপর ওই মেয়ের কাছ থেকে এক প্রকার জোর করে নগ্ন ছবি আদায় করেন। এই ঘটনায় আদালত তাকে ২৫০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে।
 
পরিচয় নকল করে কাউকে উত্যক্ত করার ঘটনাকে ‘ক্যাটফিশিং’ বলা হয়। তবে পিতা তার নিজের মেয়েকে ক্যাটফিশিং-এর মাধ্যমে উত্যক্ত করার ব্যাপারটি অবিশ্বাস্য! এ ঘটনাই ঘটেছে আমেরিকায়। প্রণয়ের এক পর্যায়ে মেয়েটি নিজেই আবিস্কার করে যে, তার পিতাই তাকে উত্ত্যক্ত করছিলো। মেয়েটি স্কুলের একজন সেবিকাকে ব্যাপারটি জানায়। পরে ওই সেবিকা বিষয়টি পুলিশকে জানায়।

গত সোমবার নিউইয়র্কের হারকিমার কাউন্টি আদালতে ৪১ বছর বয়সী অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাটি স্বীকার করেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, শিশু পর্নোগ্রাফি উৎপাদন, গ্রহণ ও শিশু পর্ণোগ্রাফি পাঠানোসহ আরো প্রায় এক ডজন অপরাধ। সাইরাকিউজ ডটকম নামের একটি অনলাইন মাধ্যম আদালতের বরাত দিয়ে জানায়, লোকটি তার মেয়েকে যৌন নির্যাতনের হাত থেকে না বাঁচিয়ে বরং নিজেই তাকে উত্যক্ত করেন। এই ঘটনায় যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ব্যক্তিটি অভিযুক্ত হয়েছেন। এছাড়াও লোকটি একটি মিথ্যাচার করেছেন যে মেয়েটির ছেলে বন্ধু আত্মহত্যা করেছে।

এই ঘটনার শুরু হয় ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। আদালতের নথি অনুযায়ী, নকল অ্যাকাউন্ট খুলে লোকটি ইন্সটাগ্রাম, এওএল এবং একটি টেক্সট মেসেজিং সেবা নিয়ে তার নিজের মেয়ের সাথে চ্যাটিং শুরু করেন। লোকটি সেখানে তার বয়স দেখান মাত্র ১৬ বছর। যদিও দুইজনের কখনও সামনা সামনি দেখা হয়নি। তবুও তারা একে অপরকে বয়ফ্রেন্ড ও গার্লফ্রেন্ড বলে সম্বোধন করতো। সম্পর্কের এক পর্যায়ে মেয়েটির নিজের নগ্ন ছবি পাঠাতে বলেন লোকটি। প্রথমে মেয়েটি রাজী না হলেও পরে ঠিকই কয়েকটি নগ্ন ছবি পাঠায়।

উভয়ের মধ্যে টেক্সট বার্তা বিনিময় চলতে থাকে। এক পর্যায়ে ব্যক্তিটি আরও নগ্ন ছবি পাঠাতে বলে নইলে মেয়েটির বাবাকে সব কিছু বলে দেওয়ার হুমকি দেয়। আদালতের নথিতে এসব ঘটনার ধারাবাহিক উল্লেখ রয়েছে। আরও কিছুদিন পর মেয়েটির কাছে একটি বার্তা আসে। বার্তায় বলা হয় যে তার প্রেমিক ছেলেটি আত্মহত্যা করেছে। বার্তাটি পাঠিয়েছে ছেলেটির মা। এরও কয়েকদিন পর মেয়েটির বাবা সরাসরি মেয়েকে বলে যে তার সাবেক মৃত প্রেমিক আত্মহত্যা করার আগে কিছু নগ্ন ছবি পাঠিয়েছে।

মেয়েটির জীবন তখন পুরোপুরি পর্যুদস্ত। তবে সে এক সময় আবিস্কার করে যে তার পিতাই পুরো ঘটনাটি সাজিয়ে থাকতে পারে। মেয়েটি তার স্কুলের একজন সেবিকাকে বিষয়টি জানায়। ওই সেবিকা পরে তা পুলিশকে জানায়। ২০১৫ সালের জুলাই মাসে নিউইয়র্কের একটি আদালত ওই ব্যক্তিকে অসুস্থ ক্যাটফিশিং পরিকল্পনার জন্য দায়ী করে ২৫০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করে। ওয়েবসাইট


মন্তব্য