kalerkantho

রবিবার। ২২ জানুয়ারি ২০১৭ । ৯ মাঘ ১৪২৩। ২৩ রবিউস সানি ১৪৩৮।


নারদের কাছে আইনি নোটিশ

লোকসভা থেকে কলকাতা উত্তাল চোর হঁটাও স্লোগানে

সুব্রত আচার্য্য, কলকাতা   

১৬ মার্চ, ২০১৬ ১০:৪৪



লোকসভা থেকে কলকাতা উত্তাল চোর হঁটাও স্লোগানে

নারদ নিউজ ডট কমের কর্ণধার ও সম্পাদক ম্যাথু সেমুয়্যালকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। গতকাল মঙ্গলবার রাতে দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে তাদের একজন আইনজীবী এ নোটিশ পাঠান বলে জানা গেছে। এর আগে গত সোমবার তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড বলে পরিচিত সাবেক রেলমন্ত্রী মুকুল রায়সহ তৃণমূলের ১১ জন সাংসদের ঘুষ নেওয়ার ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে দেশজুড়ে তুমুল বির্তক সৃষ্টি করে নারদ নিউজ ডট কম নামের একটি অন লাইন পত্রিকা। ওই পত্রিকার সম্পাদক ও কর্ণধার তাহেলকা ডট কমেরও প্রাক্তন শীর্ষ কর্মকর্তা ম্যাথু সেমুয়্যাল।

এদিকে, তৃণমূল সাংসদদের বিরুদ্ধে সংসদীয় কমিটি ও সিবিআই তদন্তের দাবিতে গতকাল দিনভর ভারতের লোকসভা উত্তাল ছিল। বামফ্রন্ট, বিজেপি এবং কংগ্রেসের সাংসদরা দফায় দফায় তৃণমূলের সাংসদদের নীতি নিয়ে সরব হন। একপর্যায়ে বামফ্রন্টের সাংসদ মহম্মদ সেলিম তাঁর বক্তব্যে নারদ নিউজ ডট কমের স্টিং অপারেশনের তথ্য দিয়ে বলেন, যে সাংসদরা দেশের আইন প্রণয়ন করেন তাঁরাই এভাবে বিক্রি হয়ে যাচ্ছেন। গণতন্ত্রের এই দরবারে এ ধরণের নীতিহীন চোরদের সঙ্গে আমরা আইনপ্রণয়ন করবো, সেটা হতে পারে না। ওই সময় তৃণমূলের সাংসদ ও স্টিং অপারেশনে ঘুষ নেওয়ার দৃশ্যে দেখা যাওয়া অধ্যাপক সৌগত রায় মাইক নিয়ে স্পিকারকে বলেন, "এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। সংসদে এভাবে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ উত্থাপন করা ঠিক নয়। " ওই সময় সংসদ কক্ষে তুমুল হট্টগোল শুরু হয়।

ভারতীয় জনতা পার্টির পক্ষে এদিন বিকেলে রাজ্যপালের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে তৃণমূলের বিরুদ্ধে তদন্তের দাবি তোলা হয়। এ সময় বিজেপির মিছিল থেকে তৃণমূল চোর বলেও স্লোগান শোনা যায়। রাস্তায় নকল টাকা উড়িয়েও অভিনব বিক্ষোভ দেখান বিজেপি সমর্থকরা। যদিও পুলিশ মিছিলটি বেশ কয়েকবার ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এমনকি কয়েক দফায় লাঠিচার্জও করা হয়। তবে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করেই রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠির কাছে বিজেপির সাবেক রাজ্যসভাপতি রাহুল সিনহা স্মরক লিপি জমা দেন।

শুধু বিজেপিই নয়, গতকাল মঙ্গলবার দিনভর জেলায় জেলায় বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসও তৃণমূল সাংসদের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে মিছিল মিটিং ও পথসভা করে। বিরোধীরা রীতিমত নির্বাচনে এটাকে বড়সড় ইস্যু করে প্রচারণাও শুরু করেছে। বেশ কয়েক জেলায় তৃণমূলের সাংসদদের ঘুষ নেওয়ার ছবি দিয়ে পোস্টার তৈরি করে রাস্তায় রাস্তায় ঝুলিয়ে দিতে দেখা গিয়েছে।

যদিও তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি উত্তরবঙ্গে দ্বিতীয় দিনের নির্বাচনী সভায় দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএমকে একহাত নিয়েছেন। এদিন, কার্শিঙায়ে নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, "যতই ষড়যন্ত্র করুক বিরোধীরা। কোনাো কাজ হবে না। মানুষের মনে তৃণমূল যে জায়গা করে নিয়েছে সেই জায়গা অক্ষুণ্নই থাকবে। মমতা চ্যালেঞ্জ করে বলেন, "একদিন এ ষড়যন্ত্রের সত্যতা প্রকাশ পাবে। তৃণমূল কংগ্রেসই তা করবে। "

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানে ভারতের নির্বাচন কমিশন যে বদ্ধপরিকর সেটা গতকাল মঙ্গলবার আরো একবার পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার নাসিম জাইদ। তিনি বলেন, "রাজ্যে এক হাজার ২০০ টি স্পর্শকার বুথ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই বুথ গুলোকে নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া সব বুথেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে জানান প্রধান নির্বাচন কমিনার। মঙ্গলবার ও সোমবার দুই দিনই নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রায় সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন নাসিম জাইদ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ১৯ জেলার পুলিশ সুপার বৈঠক করেন জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে। বর্ধমান, মুর্শিবাদ, মালদাসহ চার জেলার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসককে মৌখিকভাবে সর্তক করা হয়েছে বলে জানা গেছে। কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তাকে গণবদলি করারও ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আগামী ৪ এপ্রিল থেকে পশ্চিমবঙ্গে ছয় দফায় সাত দিনের ভোটগ্রহণ শুরু হবে। ১৯ মে একযোগে ফল প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন।

 


মন্তব্য