kalerkantho


এজলাসে বসে রোজ ঘুমাতেন উকিল, উদাসীনতায় মুক্তিলাভ বন্দির

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ মার্চ, ২০১৬ ০১:০৫



এজলাসে বসে রোজ ঘুমাতেন উকিল, উদাসীনতায় মুক্তিলাভ বন্দির

মামলা লড়তে এসে ব্যস্ত এজলাসে বসে রোজ গভীর ঘুমে ঢলে পড়েন আসামির আইনজীবী। এই উদাসীনতার জেরে অভিযুক্তের ৩০ বছরের কারাদণ্ড কমিয়ে ১০ বছর করল বিরক্ত আদালত।

২০০৬ সালে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের দায়ে আমেরিকার নর্থ ক্যারোলিনার বাসিন্দা নিকোলাস র‌্যাগিনকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল আদালত। শাস্তির মেয়াদের ১০ বছর এর মধ্যেই গারদের আড়ালে কাটি ফেলেছেন র‌্যাগিন। সম্প্রতি আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আমেরিকার চতুর্থ সার্কিট কোর্ট অফ অ্যাপিলস-এ আবেদন জানান তিনি। বিচারে তাঁর শাস্তির মেয়াদ কমিয়ে ১০ বছর করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ইতোমধ্যে সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার কারণে র‌্যাগিনকে বেকসুর মুক্তি দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণা করতে গিয়ে আদালত জানিয়েছে, মামলার শুনানি চলাকালীন প্রতিদিন এজলাসে বসে র‌্যাগিনের আইনজীবী নিকিতা ভি ম্যাকে ঘুমিয়েছেন। এর ফলে যথাযথ আইনি সহায়তা থেকে বঞ্চিত র‌্যাগিনকে সরাসরি মুক্তি দিয়েছে আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, শুনানিতে হাজির হয়ে প্রতিদিন গড়ে ৩০ মিনিট ঘুমিয়েছেন ম্যাকে। একবার মাইক্রোফোনে তাঁকে সতর্ক করেন স্বয়ং বিচারক রজার গ্রেগরি। সেই মুহূর্তে চমকে উঠে দাঁড়ালেও সওয়াল-জবাবে অংশগ্রহণ করতে সমর্থ হননি ওই আইনজীবী। সিদ্ধান্ত ঘোষণার সময় লেখা নোটে বিচারক গ্রেগরি লিখেছেন, 'অভিযুক্তের উকিল এজলাসে ঘুমিয়ে পড়ার দরুণ তিনি আমেরিকার সংবিধানে উল্লিখিত ষষ্ঠ সংশোধনে বর্ণিত নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। '

এজলাসে হাজির এক সাক্ষীর বয়ান অনুসারে, 'প্রায় প্রতিদিন আদালত কক্ষে তিনি অন্তত আধ ঘণ্টা ঘুমাতেন। ' একই কথা জানিয়েছেন এজলাসে উপস্থিত আরেক আইনজীবী পিটার অ্যাডল্ফ।

ম্যাকের গাঢ় ঘুমের জন্য অবশ্য শেষ পর্যন্ত লাভ হয়েছে র‌্যাগিনেরই। শাস্তির মেয়াদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ভোগ করেই মুক্তি পেয়েছেন এই ভাগ্যবান অপরাধী।

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য