kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানসিক ঝুঁকিতে সিরীয় শিশুরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ১২:২৭



মানসিক ঝুঁকিতে সিরীয় শিশুরা

সিরিয়ায় চলমান যুদ্ধে প্রতিদিনই বাড়ছে শরণার্থীর সংখ্যা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানসিক যন্ত্রণাও।

এ ঘটনার সবচেয়ে বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। খবর স্কাই নিউজের। তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্তে আটকে পড়া শরণার্থীরা স্কাই নিউজকে জানান, তাদের শিশুরা শৈশবকে হারিয়েছে। তাদের মানসিক অবস্থা আগের অবস্থানে ফিরিয়ে আনা হয়তো বেশ কষ্টকর হবে। মনোবিজ্ঞানীদের ধারণা, এ ধরনের যুদ্ধের প্রভাবে যে মানসিক যন্ত্রণায় শিশুরা ভুগতে শুরু করেছে তা সতর্কবার্তা দিচ্ছে সেই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি বড় অংশ মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হবে।

আট বছর বয়সী শরণার্থী শিশু আরিয়াম স্কাই নিউজকে জানায়, যুদ্ধের স্মৃতি তাকে তাড়া করে বেড়ায় সব সময়। এলাকা ছেড়ে পালানোর সময় তার পরিবাবের সবাই গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এখনও ঘুমের মধ্যে সে গুলির শব্দ শুনতে পায়। আরিয়াম বলে, আমি আইএস ও যুদ্ধবিমানের শব্দকে ভয় পাই। যেখানেই আইএস, সেখানেই যুদ্ধবিমান থাকে। আরিয়াম জানায়, তার বাবা আইএসের হাতে নিহত হন। সে তার বাবাকে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছে।

আরিয়ামের চাচা খালেদ জানান, ১-১০ বছরের নিচের সিরীয় শিশুরা মানসিকভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। ভবিষ্যৎ বলতে তাদের কিছু নেই। পেগি চ্যান নামে একজন মেডিসিন কাউন্সিলর সীমান্তে শিশুদের মানসিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করছেন। পেগি স্কাই নিউজকে বলেন, বাচ্চারা ৭ থেকে ৮ বছর বয়সে বিছানায় প্রসাব করা বন্ধ করে কিন্তু সিরীয় বাচ্চারা সেটা আবার নতুন করে শুরু করেছে। এটা মানসিক সমস্যার একটা বড় লক্ষণ।

হাসান নামে এক ব্যক্তির বড় ছেলে রাশিয়ার করা বিমান হামলায় নিহত হয়। তিনি বর্ণনা করেছেন কী বীভৎস ছিল সে দৃশ্য। তার ছোট ছেলের ওপরও এ ঘটনায় বিরূপ প্রভাব পড়েছে। হাসান বলেন, ছোট ছেলেটা সব সময় জেদ ধরে থাকে। যখনই বড় ভাইয়ের ছবি দেখে সে খুব ভীত হয়ে যায় এবং মন খারাপ করে থাকে। সিরিয়ায় চলমান এ গৃহযুদ্ধ এখন যুদ্ধক্ষেত্র ছাড়িয়ে অনেক দূরে পৌঁছে গেছে। সিরীয় শিশুদের অদেখা মানসিক সমস্যা ভবিষ্যতে আরেকটি বড় ধরনের দুঃখজনক ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে।

 


মন্তব্য