জিকা ভাইরাস : সন্তান সুস্থ হবে তো?-335424 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


জিকা ভাইরাস : সন্তান সুস্থ হবে তো?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ১২:২২



জিকা ভাইরাস : সন্তান সুস্থ হবে তো?

ব্রাজিলে জিকা সংক্রমণে এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৭৪৫ জন শিশু মাইক্রোসেফালি বা অপরিপক্ক মস্তিস্ক নিয়ে জন্ম নিয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ আরও চার হাজার দুই শ কেইসের নমুনা পরীক্ষা করে দেখছে। চেষ্টা চলছে জিকা ভাইরাসের সাথে মাইক্রোসেফালির সম্পর্ক বোঝার। এসব কিছুর মাঝে ব্যাপক উদ্বেগে রয়েছে ব্রাজিলের গর্ভবতী মায়েরা। তার সন্তানটি সুস্থ হবে তো? ব্রাজিলের কামপিনা গ্রানজে এলাকার একটি হাসপাতালে একজন মা এসেছেন তাঁর সন্তানটি কেমন আছে তা পরীক্ষা করে দেখতে। উদ্বিগ্ন মাকে গর্ভের শিশুর হৃদস্পন্দন শুনিয়েছেন ডাক্তার। গর্ভের শিশুটি এখন ৩৫ সপ্তাহ পার করছে। স্ক্যানিংয়ে দেখা গেল গর্ভের শিশুটি কন্যাশিশু। শিশুর শক্তিশালী হৃৎস্পন্দন শুনে দুশ্চিন্তার মধ্যেও মুখে একটু হাসি ফুটে উঠল মা এডনা মেনদোসার। গর্ভধারণের দুই মাসের মাথায় জিকা আক্রান্ত হয়েছিলেন এডনা। সবকিছু এতদিন পর্যন্ত ঠিকঠাকই ছিল। কিন্তু এখন ডাক্তার বলছেন আলট্রাসাউন্ডে শিশুর মাথা খানিকটা ছোট দেখা যাচ্ছে।

ডাক্তার বলছেন, এটা এমন একটা খবর যা ব্রাজিলের গর্ভবতী মায়েদের কেউ শুনতে চান না। ব্রাজিলে যেসব গর্ভবতী নারী জিকা আক্রান্ত হয়েছেন বা হচ্ছেন তাদের কামপিনা গ্রানজে এলাকার একটি হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে আরো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য। হাসপাতালে ভিড় করছেন অনেক গর্ভবতী নারী। এখানেই পরীক্ষার পর হয়তো কারো মুখে হাসি ফুটবে। আর কেউ মনে ভয় নিয়ে বাড়ি ফিরবেন। এক বিকেলেই ১৭ জন নারীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। এদের মধ্যে এডনাই একমাত্র যে মাইক্রোসেফালি আতঙ্ক নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। জিকা আক্রান্ত এডনা বলেন এর পরেরবার স্ক্যান করতে আসার সময় হয়তো খানিকটা শান্ত বোধ করবো। কিন্ত এখন বুকের মধ্যে দুরুদুরু করছে। খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।

ডাক্তার আদ্রিয়ানা মেলোকে বলা হয় একজন পাইওনিয়ার যিনিই প্রথম জিকা ভাইরাসের সাথে মাইক্রোসেফালির সম্পর্ক ধরতে পারেন। একটি সুস্থ শিশু এবং মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুর মাথার স্ক্যান দেখিয়ে তিনি বলেছেন দুটোর মধ্যে তফাৎটা আসলে কী। আমরা নানা ধরনের কেস পাচ্ছি। কখনও শুধু ছোট মাথা পাওয়া যাচ্ছে অথবা ছোট ক্যলসিফিকেশন পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কিছু কেইস আছে যেগুলো আরো গুরুতর। যাতে দেখা যাচ্ছে শিশুটির কোনো মস্তিষ্কই তৈরি হয়নি, ভেতরে তরল পদার্থ এবং তার মাথার হাড় ও পেশি পরিপক্কতা পায়নি- বলেন ডাক্তার আদ্রিয়ানা মেলো। এই হাসপাতালে মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুদের জন্য একটি আলাদা ইউনিট খোলা হয়েছে।

আক্রান্ত শিশুদের মায়েরা এখানে একত্রে বসে গল্প করেন। যেন তারা অনেক দিনের পুরোনো বন্ধু। এখানে আসা একজন মা আলেসান্দ্রা আমোরিম বলছেন এই সন্তানকে তিনি জীবন দিয়ে ভালোবাসবেন। আমার চার মেয়ে। ঈশ্বরের কাছে একটা ছেলে চেয়েছিলাম। সে আমাকে যে শিশুটি পাঠিয়েছে সে একটি বিশেষ শিশু। আমিও সেভাবেই তাকে যত্ন করবো। পৃথিবীতে এমন কোনো শক্তি নেই যা আমাকে এই শিশুর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা থেকে দূরে রাখবে। সেই এখন আমার জীবন। মাইক্রোসেফালি আক্রান্ত শিশুদের এই মায়েদের জীবন পুরোটাই বদলে গেছে। আর এডনা মেনদোসার মতো গর্ভবতী নারীরাও অপেক্ষা করছেন কোনো এক কঠিন সময়ের।

 

মন্তব্য