রুশ নৌসেনায় ডলফিন! চর নাকি গুপ্ত ঘাতক?-335367 | বিদেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


রুশ নৌসেনায় ডলফিন! চর নাকি গুপ্ত ঘাতক?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০২:১০



রুশ নৌসেনায় ডলফিন! চর নাকি গুপ্ত ঘাতক?

নিজেদের নৌসেনায় ডলফিন নিয়োগ করছে রাশিয়া। অন্তত ৫টি ডলফিনকে নিয়োগ করা হচ্ছে। উপযুক্ত দৈর্ঘ্য এবং মজবুত দাঁত সম্পন্ন পাঁচটি ডলফিন কেনার জন্য বিজ্ঞাপনও দিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। ঠিক কী কাজের জন্য ডলফিন নিয়োগ করা হচ্ছে, তা অবশ্য স্পষ্ট করা হয়নি। কিন্তু রাশিয়ার এই নতুন নিয়োগ ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ের স্মৃতি উস্কে দিয়েছে। সেই সময় ডলফিন বাহিনীকে গুপ্তচর এবং ঘাতক হিসেবে ব্যবহার করত রুশ নৌসেনা।
পাঁচটি ডলফিনের জন্য ২৪ হাজার ডলার খরচ করতে চলেছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। যে বিজ্ঞাপন তারা দিয়েছে, তাতে বলা হয়েছে, তিনটি পুরুষ এবং দু’টি স্ত্রী ডলফিন চাই। তাদের দাঁত মজবুত হতে হবে। প্রত্যেকটির দৈর্ঘ্য অন্তত আট ফুট হতে হবে। নৌসেনার জন্য ঠিক কী ধরনের কাজ ডলফিনগুলি করবে, তা জানানো হয়নি। কেন মজবুত দাঁতের কথা বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞাপনে, তাও স্পষ্ট নয়।
অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের সঙ্গে আমেরিকার ঠান্ডা যুদ্ধের সময়ও ডলফিন বাহিনী তৈরি করেছিল মস্কো। সেই ডলফিন বাহিনীকে রাখা হত ক্রিমিয়ার উপকূলে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পরে ইউক্রেন যখন স্বাধীন রাষ্ট্র হয়, তখন ক্রিমিয়ায় মোতায়েন ডলফিন বাহিনী তাদের দখলে চলে যায়। রাশিয়া পরে ফের ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দখল করে এবং ডলফিনগুলিকে নিজেদের নৌসেনার দখলে নিয়ে নেয়। কিন্তু সেই ডলফিনগুলিকে বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে আগেই নৌসেনা থেকে অবসর দিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক নৌসেনার জন্য নতুন করে ডলফিন নিয়োগের প্রস্তুতি শুরু করায় ঠান্ডা যুদ্ধের স্মৃতি ফিরে এসেছে। সেই সময় সোভিয়েত নৌসেনার প্রশিক্ষিত ডলফিনগুলি আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছিল আমেরিকার জন্য। প্রাথমিক ভাবে গুপ্তচর হিসেবে কাজ করত সেই ডলফিন বাহিনী। শত্রুপক্ষের সাবমেরিন কখন কোথায় লুকিয়ে হানা দিচ্ছে, খবর এনে দিত ডলফিনরা। রুশ সাবমেরিন এবং বিপক্ষের সাবমেরিনের ইঞ্জিনের আওয়াজে ফারাক ছিল। সেই ফারাক চিনিয়ে দেওয়া হত ডলফিনগুলিকে। মার্কিন সাবমেরিন রুশ জলসীমার আশেপাশে এলেই ডলফিন সে খবর পৌঁছে দিত নৌসেনা ঘাঁটিতে।
শুধু গুপ্তচর নয়, ঘাতক হিসেবেও ব্যবহার করা হত তাদের। ডলফিনের শরীরে হারপুন বেঁধে দেওয়া হত। প্রতিপক্ষের ডুবুরি গুপ্তচরবৃত্তি করতে এলে ডলফিন হারপুনে গেঁথে ফেলত তাকে। বিপক্ষের সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজে বিস্ফোরক লাগিয়ে দেওয়ার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছিল ডলফিন বাহিনীকে।
কখনও কখনও সোভিয়েত নৌসেনা উদ্ধার কাজ চালানোর কাজেও তাদের ডলফিন ব্যবহার করত। উপকূল থেকে অনেক দূরে গিয়েও তারা কাজ করত। সোভিয়েত রাশিয়া হেলিকপ্টার থেকে প্যারাশুটে চড়ে জলে নামার প্রশিক্ষণও দিয়েছিল তাদের ডলফিন বাহিনীকে।
রুশ নৌসেনা আবার নতুন করে ডলফিন নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করায়, আমেরিকার চিন্তা বেড়েছে। ঠিক কী ধরনের কাজে এই ডলফিনদের ব্যবহার করতে চলেছে রাশিয়া। গুপ্তচর হিসেবে। নাকি আরও ধংসাত্মক কোনও উদ্দেশ্যে? জানার চেষ্টা করছে পেন্টাগণ।

সূত্র: আনন্দবাজার

মন্তব্য